অন্য ধর্মের ধর্মগ্রন্থে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) সম্বন্ধে আলোচনা

0
16
ধর্মগ্রন্থে নবী মুহাম্মদ (সাঃ)

অমুসলিমদের ধারনা এমনকি অনেক মুসলিমদেরও ধারনা ইসলামের প্রবর্তন হয়েছে ১৪০০ বছর আগে, প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) এর সময় থেকে। অথচ ইসলাম ছিলো তখন থেকেই, যখন প্রথম মানুষের পা পরে এ পৃথিবীতে কিংবা তারও আগে থেকে এবং হযরত মুহম্মদ (সাঃ) হচ্ছেন শেষ নবী এবং রাসূল। বিভিন্ন সময়ে আল্লাহ তায়ালার অমিয় বানী নিয়ে নবী এবং রাসূলরা (Messengers) আমাদের কাছে এসেছেন। আল্লাহ তায়ালা কোরআন শরীফে বারবার বলেন, এ পৃথিবীতে এমন কোন মানব সম্প্রদায়ের জন্ম হয়নি যাদের কাছে তিনি নবী-রাসূলগনদের পাঠাননি (সূরা ফাতের-অধ্যায় ৩৫ আয়াত ২৪, সূরা রাদ অধ্যায় ১৩ আয়াত ৭, সূরা ইউনুস অধ্যায় ১০ আয়াত ৪৭, সূরা নেহেল অধ্যায় ১৬ আয়াত ৩৬)। আল্লাহ-তায়ালা আল ক্বোরআনে তাঁদের মধ্যে মোট ২৫ জন নবী এবং রাসূলদের নাম উল্লেখ করেন। আমরা বিভিন্ন হাদিস থেকে জানতে পারি প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার নবী এবং রাসূল এ পৃথিবীতে আসেন।

হয়তো আজকের ইসলামের নিয়মকানুনের সাথে তখনকার ইসলামের নিয়মকানুনে কিছু তফাত থাকতে পারে কিন্তু মূল ম্যাসেজে কোন পরিবর্তন কখনোই ছিলোনা। আর তা হলো আল্লাহতায়ালা এক এবং অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরিক নেই, তিনি নিরাকার, সর্বশক্তিমান। যত নবী এবং রাসূলগন এ পৃথিবীতে এসেছেন, তাঁরা সকলেই এসেছিলেন একটি নির্দিষ্ট মানব সম্প্রদায়ের জন্য, একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। কিন্তু শেষ নবী হযরত মুহম্মদ সাঃ আসেন কেয়ামতের আগ পর্যন্ত সমস্ত মানবগোষ্ঠির জন্য। তাঁর পরে আর কোন নবী বা রাসূল আসবেন না আমাদেরকে সতর্ক করতে। আর এজন্যই পৃথিবীতে এমন কোন ধর্মগ্রন্থ নেই যেখানে হযরত মুহম্মদ (সাঃ) এর কথা ভবিষ্যৎবানী করা হয়নি। এর প্রমানের জন্য নীচে কিছু উদাহরন দেয়া হল।

হিন্দুধর্ম সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম বেদ। বেশিরভাগ হিন্দু স্কলারদেরই ধারনা বেদের আবির্ভাব (৪০০০) চার হাজার বছর আগে। যদিও কেউ জানেন না কবে কোথায় প্রথম বেদ পাওয়া যায় এবং কার কাছেই বা প্রথম এ গ্রন্থ আসে। তথাপি বেদ হচ্ছে হিন্দুদের সবচেয়ে অথেনটিক ধর্মগ্রন্থ। বেদ এবং অন্যান্য হিন্দু ধর্মগ্রন্থে অসংখ্যবার হুজুর (সাঃ) এর কথা বলা হয়েছে। তাকে বলা হয়েছে তিনি হলেন মামা ঋষি বা শেষ ঋষি। তাঁর নাম বলা হয়েছে ‘নরসংসা’ (আহমেদ নামেও তাকে ডাকা হয়েছে)। এটি একটি সংস্কৃত শব্দ, নর হলো, মানুষ আর সংসা হলো, প্রশংসার যোগ্য। অর্থাৎ এমন একজন মানুষ যিনি প্রশংসার যোগ্য। এই নরসংসা কে ইংরেজী করলে হয়, A man who is praiseworthy. আর নরসংসা কে হুবহু আরবি করলে হয়, ‘মুহাম্মদ’ (সাঃ)। আরও বলা হয়েছে তাঁর পিতার নাম ‘বিষ্নুইয়াস’, এটিরও হুবহু আরবি করলে দাড়ায় ‘আবদুল্লাহ’ যা ছিলো হুজুর (সাঃ) এর পিতার নাম। তাঁর মাতার নাম বলা হয়েছে ‘সুমতি’, যার হুবহু আরবি করলে দারায় ‘আমেনা’, যা ছিলো হুজুরের মার নাম । তাকে বলা হয়েছে তিনি হবেন Camel riding ঋষি। উল্লেখ্য হিন্দু ব্রাম্মনদের ঊটে চরা নিষেধ। যাহোক হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলোতে বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্যবার হুজুর (সাঃ) এর কথা ভবিষ্যৎবানী করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ   হিজামা : নবী (ছাঃ)-এর চিকিৎসা

বাইবেলেও অসংখ্যবার হুজুর (সাঃ) এর কথা বলা হয়েছে। ওল্ড টেষ্টামেন্টে বুক অফ ডুইট্রনমি অধ্যায় ১৮, ভার্স নাম্বার ১৮ তে, আল্লাহ তায়ালা মূসা (আঃ)-কে বলছেন, “আমি তোমার ভ্রাতাদিগের মধ্য থেকে আরেকজন নবী আনবো যে হবে তোমারি মতন। আর সে নিজে কিছু বলবেনা, আমি যা তাকে বলতে বলবো সে শুধু তাই বলবে।” বুক অফ আইজাহা অধ্যায় ১৯ ভার্স নাম্বার ১২, তে বলা হয়েছে, “এবং কিতাবখানি নাযিল করা হবে তাঁর উপর যিনি নিরক্ষর। তাকে বলা হবে পড় তোমার প্রভুর নামে, সে বলবে আমি তো পড়তে জানিনা, আমি নিরক্ষর।”

সূত্রঃ

Comments

comments