আল্লাহর কাছে দোয়া কবুলের জন্য যে দরূদটি পাঠ করা খুবই জরুরি? জেনে নিন এখনই

0
42
দোয়া কবুল

 বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠই হলো দোয়া কবুলের উপাদান। দরূদ পাঠের বরকতেই আল্লাহ তাআলা মানুষের দোয়া কবুল করেন। দরূদ হলো আল্লাহর নিকট প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য রহমত বর্ষণের দোয়া করা; তাঁর প্রতি শান্তির ধারা অবিরাম অব্যাহত রাখার প্রার্থনা করা।

বিশ্বনবির প্রতি দরূদ পাঠের গুরুত্ব তুলে ধরে আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারিমে ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাঁর নবির ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণ (নিষ্পাপ) নবির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন; হে ঈমানদারগণ তোমরাও নবির ওপর দরূদ পাঠ কর এবং তাঁর প্রতি সালাম পাঠাও। (সুরা আহজাব : আয়াত ৫৬)

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করে মানুষ যদি নিজেদের জন্য কোনো দোয়া করে, আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা ঐ বান্দার দোয়া কবুল করেন। কারণ যারা দরূদ ব্যতিত আল্লাহ তাআলা নিকট দোয়া করে তাদের দোয়া লুকায়িত অবস্থায় থাকে। হাদিসে এসেছে-

হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফুভাবে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরূদ পাঠ না করা পর্যন্ত প্রতিটি দোয়া লুকায়িত অবস্থায় থাকে। (বাইহাকি, জামিউস সগীর)

অন্য হাদিসে এসেছে-
হজরত ফাদালাহ ইবনে ওবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে তার নামাজের পর দোয়া করতে শুনলেন, কিন্তু সে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করেনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এ ব্যক্তি তাড়াহুড়া করেছে। তারপর তিনি ঐ ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং তাকে বা অন্য কাউকে বললেন- ‘তোমাদের কেউ নামাজ আদায় করলে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর গুণগান করে; তারপর নবির প্রতি দরূদ পাঠ করে; তারপর তার মনের কামনা অনুযায়ী দোয়া করে। (তিরমিজি, আবু দাউদ)

আরও পড়ুনঃ   বান্দার দোয়া কি ব্যর্থ হতে পারে?

পরিশেষে….
উল্লেখিত হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, দোয়া করার আদব হলো আল্লাহর প্রশংসা করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করা। অতপর মনের সকল চাহিদা মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট পেশ করা। তাছাড়া হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, দরূদ পাঠ করা ব্যতিত দোয়া করলে তা আল্লাহর নিকট না পৌছে লুকায়িত অবস্থায় থাকে।

সুতরাং আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা বা দোয়া করার পূর্বে আল্লাহর গুণগান এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ করে দোয়া করা। আশা করা যায়, আল্লাহ তাআলা এ পদ্ধতিতে দোয়া করলে বান্দার দোয়া কবুল করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিশ্বনবির শিখানো পদ্ধতিতে তাঁর নিকট মনের সকল চাওয়া-পাওয়ার আবেদন করার তাওফিক দান করুন। দরূদের ফজিলত ও বরকত মুসলিম উম্মাহকে দান করুন। আমিন। -জাগো নিউজ।

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 − 8 =