ইসলামে যাকাতের গুরুত্ব

0
12
যাকাতের গুরুত্ব

মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান : ইসলামে যাকাতের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। ধনীদের জন্য বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে যাকাত প্রদান করা ফরযে আইন। যাকাত প্রদানে বিরত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ইসলামি সরকারের জিহাদ পরিচালনা করে যাকাত প্রদানে বাধ্য করা ওয়াজিব। যাকাতের বিধান যে অস্বীকার করবে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা নামাজ আদায় কর এবং যাকাত প্রদান কর। তোমরা নিজের জন্যে পূর্বে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা কিছু কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন।’ (সূরা বাকারা-১১০)।

এছাড়া সূরা নিসার ১৬২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘কিন্তু যারা তাদের মধ্যে জ্ঞানপক্ক ও ঈমানদার, তারা তাও মান্য করে যা আপনার উপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আপনার পূর্বে। আর যারা নামাযে অনুবর্তিতা পালনকারী, যারা যাকাত দানকারী এবং যারা আল্লাহ ও কেয়ামতে আস্থাশীল। বস্তুতঃ এমন লোকদেরকে আমি দান করবো মহাপুণ্য।’

এছাড়া কুরআন মাজিদের বিভিন্ন আয়াত থেকে পরিষ্কার জানা যায় যে, সালাত ও যাকাতের পাবন্দি ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের প্রশ্নই অবান্তর।

কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে, যেখানে খাঁটি মুমিনের গুণ ও বৈশিষ্ট্য উদ্ধৃত হয়েছে, সেখানে সালাত যাকাতের কথা এসেছে অপরিহার্যভাবে।

কুরআনের দৃষ্টিতে প্রকৃত পুণ্যশীলদের পরিচয় যেখানে দেওয়া হয়েছে, সেখানে সালাত, যাকাতের উল্লেখ এসেছে।

‘সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হলো এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রাসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।’ (সূরা বাকারা ১৭৭)।

আরও পড়ুনঃ   আর্থ সামাজিক সমস্যার সমাধানে ইসলামে যাকাতের গুরুত্ব

‘তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ তাঁর রসূল এবং মুমিনবৃন্দ-যারা নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং বিনম্র।’ (সূরা মায়েদা ৫৫)।

‘যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আখেরাত সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।’ (সূরা লোকমান ৪)।

‘তাদেরকে এছাড়া কোনো নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম।’ (সুলা বাইয়্যেনা ৫)।

মোট কথা, এতো অধিক গুরুত্বের সঙ্গে সালাত যাকাতের প্রসঙ্গ কুরআন মাজিদে এসেছে যে, এটা ছাড়া দ্বীন ও ঈমানের অস্তিত্বই কল্পনা করা যায় না।

ওপরের আলোচনা থেকে যাকাতের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা এবং এর সুফল ও উপকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

এবার যারা যাকাত আদায় করে না তাদের দিকে লক্ষ্য করা যাক। তারা সকল সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণে যে শাস্তির মুখোমুখি হবেন সে বিষয়েও কুরআন মাজিদে এসেছে।

আল্লাহতায়ালা বলেন, হে ঈমানদারগণ! পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের অনেকে লোকদের মালামাল অন্যায়ভাবে ভোগ করে চলছে এবং আল্লাহর পথ থেকে লোকদের নিবৃত রাখছে। আর যারা স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। [ সুরা তাওবা ৯:৩৪ ]।

সেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের মুখমণ্ডল, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে (সেদিন বলা হবে), এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে, সুতরাং এক্ষণে আস্বাদ গ্রহণ কর জমা করে রাখার। [ সুরা তাওবা ৯:৩৫ ]।

সুরা আল-ইমরানে আল্লাহ পাক বলেন, আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে এই কার্পন্য তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে তারা যেন ধারণা না করে। বরং এটা তাদের পক্ষে একান্তই ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে। যাতে তারা কার্পন্য করে সে সমস্ত ধন-সম্পদকে কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ি বানিয়ে পরানো হবে। আর আল্লাহ হচ্ছেন আসমান ও যমীনের পরম মালিক। আর যা কিছু তোমরা কর; আল্লাহ সে সম্পর্কে জানেন।’ (সূরা আল-ইমরান ১৮০)।

আরও পড়ুনঃ   ফতোওয়া যাকাত: যাকাত বিষয়ক অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩৭টি প্রশ্নোত্তর

হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ‘যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু সে তার যাকাত দেয়নি, কেয়ামতের দিন তা বিষধর সাপরূপে উপস্থিত হবে এবং তা তার গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে। সাপটি তার উভয় অধরপ্রান্তের দংশন করবে এবং বলবে, আমিই তোমার ওই ধন, আমিই তোমার পুঞ্জীভূত সম্পদ।’ (সহিহ বুখারি ১৪০৩)।

মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান (লেখক, আলোচক ও গবেষক)

শায়খুল হাদিস জামিয়া ইসলামীয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা, সানারপাড় খতিব বায়তুল মামুর জামে মসজিদ, শারুলিয়া, ডেমরা

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

five × 4 =