ইসলাম ও মৌলিক মানবাধিকার -(পর্ব-২)

0
15
ইসলাম ও মৌলিক মানবাধিকার

বি.এম.শহীদুল ইসলাম : ॥ পূর্বপ্রকাশিতের পর
একই বছর জাপান মৌলিক অধিকারকে সংবিধানের অংশ হিসেবে পরিণত করে। শুধু তাই নয়, ১৯৪৭ সালে ইটালি তার সংবিধানে মানবাধিকারের গ্যারান্টি দান করে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে চেষ্টা সাধনার ফলশ্রুতিতে শেষ অবধি ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ‘মানবাধিকার সনদ’ ঘোষিত হয়। যাকে বলা হয় মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র। সকলের জ্ঞাতার্থে ঘোষণাপত্রটি উপস্থাপন করা হলো।
জাতিসংঘ কর্তৃক মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র : বিশ্বে মানবাধিকারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সম্মিলিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট যে মহাসনদ ঘোষণা করেছিল তা যেন এ ক্ষেত্রে ছিল মানবীয় প্রচেষ্টার সর্বোচ্চ উত্থান। ৩০ দফা সম্বলিত এ মহাসনদ। নিম্নে সনদের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হল।
মুখবন্ধ
যেহেতু মানব পরিবারের সকল সদস্যের সহজাত মর্যাদা ও সম অবিচ্ছেদ্য অধিকারসমূহের স্বীকৃতি, বিশ্বে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও শান্তির ভিত্তি;
যেহেতু মানবিক অধিকারসমূহের প্রতি অবজ্ঞা ও ঘৃণা মানবজাতির বিবেকের পক্ষে অপমানজনক বর্বরোচিত কার্যকলাপে পরিণতি লাভ করেছে এবং সাধারণ মানুষের সর্বোচ্চ আশা-আকাংখার প্রতীক হিসেবে এমন একটি পৃথিবীর সূচনা ঘোষিত হয়েছে যেখানে মানুষ বাক ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা এবং ভয় ও অভাব থেকে নিষ্কৃতি ভোগ করবে;
যেহেতু চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে মানুষকে অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হতে বাধ্য করা না হলে মানবিক অধিকারসমূহ অবশ্যই আইনের শাসনের দ্বারা সংরক্ষিত করা উচিত;
যেহেতু জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উন্নয়নে সহায়তা আবশ্যক;
যেহেতু জাতিসংঘভূক্ত জনগণ সনদের মাধ্যমে মৌল মানবিক অধিকারসমূূহ, মানুষের মর্যাদা ও মূল্য এবং নারী ও পুরুষের সম-অধিকারের প্রতি আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছে  এবং সামাজিক অগ্রগতি ও ব্যাপকতর স্বাধীনতায় উন্নততর জীবনমান প্রতিষ্ঠাকল্পে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ;
যেহেতু সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রতি সর্বজনীন শ্রদ্ধা ও মান্যতা বৃদ্ধি অর্জনে অঙ্গীকারবদ্ধ;
যেহেতু সকল অধিকার ও স্বাধীকারের ব্যাপারে একটি সাধারণ সমঝোতা উক্ত অঙ্গীকার সম্পূর্ণরূপে আদায় করার জন্য সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ;
এতক্ষণে তাই সাধারণ পরিষদ সকল জাতি ও গোষ্ঠীর অগ্রগতির একটি সাধারণ মানদন্ড হিসেবে জারি করছে এ মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র।  এ লক্ষ্যে প্রত্যেক ব্যক্তি ও সমাজের প্রত্যেক অঙ্গ মানবিক অধিকারসমূহের এ সর্বজনীন ঘোষণাপত্রটিকে সর্বদা স্মরণ রেখে শিক্ষাদান ও জ্ঞান প্রসারের মাধ্যমে এ সকল অধিকার ও স্বাধীকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করতে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রগতিশীল ব্যবস্থাদির দ্বারা সদস্য রাষ্ট্রসমূহের জনগণ ও তাদের অধীনস্ত অঞ্চল সমূহের আধিবাসীবৃন্দ উভয়ের মধ্যে ঐ গুলির সর্বজনীন ও কার্যকর স্বীকৃতি ও মান্যতা অর্জনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাবে *।
ধারা-১: বন্ধনহীন অবস্থায় এবং সম-মর্যাদা ও অধিকারাদি নিয়ে সকল মানুষই জন্ম গ্রহণ  করে। বুদ্ধি ও বিবেক তাদের অর্পণ করা হয়েছে এবং ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোভাব নিয়ে তাদের একে অন্যের প্রতি আচরণ করা উচিত।
ধারা-২: যে কোন প্রকার পার্থক্য যথা: জাতি, গোত্র, বর্ণ, নারী-পুরুষ, ভাষা, ধর্ম, রাজনৈতিক বা অন্য মতবাদ, জাতীয় বা সামাজিক উৎপত্তি, সম্পত্তি, জন্ম বা অন্য মর্যাদা নির্বিশেষে প্রত্যেকেই ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত সকল অধিকার ও স্বাধীকারে স্বত্ববান।
অধিকন্তু, কোন ব্যক্তি যে দেশ বা অঞ্চলের অধিবাসী, তা স্বাধীন এলাকা, স্বায়ত্বশাসিত অথবা অন্য যে কোন প্রকার সীমিত সার্বভৌমত্বের মধ্যে থাকুক না কেন, তার রাজনৈতিক, সীমানগত ও আন্তর্জাতিক মর্যাদার ভিত্তিতে কোন পার্থক্য করা চলবে না।
ধারা-৩: প্রত্যেকেরই জীবন ধারণ, স্বাধীনতা ও ব্যক্তি নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে।
ধারা-৪: কাউকে দাস হিসেবে বা দাসত্বে রাখা চলবে না; সকল প্রকার দাসপ্রথা ও দাস-ব্যবসা নিষিদ্ধ থাকবে।
ধারা- ৫: কাউকে নির্যাতন অথবা নিষ্ঠুর , অমানুষিক অথবা অবমাননাকর অচরণ অথবা শাস্তি ভোগে বাধ্য করা চলবে না।
ধারা- ৬: আইনের সমক্ষে প্রত্যেকেরই সর্বত্র ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি লাভের অধিকার রয়েছে।
ধারা-৭: আইনের কাছে সকলেই সমান এবং কোনরূপ বৈষম্য ব্যতিরেকে সকলেরই আইনের দ্বারা সমভাবে রক্ষিত হওয়ার অধিকার রয়েছে। এ ঘোষণাপত্র লংঘনকারী কোনরূপ বৈষম্যে বা এ ধরণের বৈষম্যের কোন উস্কানির বিরুদ্ধে সমভাবে রক্ষিত হওয়ার অধিকার সকলেরই আছে।
ধারা-৮: যে কার্যাদির ফলে শাসনতন্ত্র বা আইন কর্তৃক প্রদত্ত মৌল অধিকারসমূহ লঙ্ঘিত হয় সে সবের জন্য  উপযুক্ত জাতীয় বিচার আদালতের মারফত কার্যকর প্রতিকার লাভের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে।
ধারা-৯: কাউকে খেয়াল খুশীমত গ্রেফতার, আটক, অথবা নির্বাসন করা যাবে না।
ধারা-১০: প্রত্যেকেরই তার অধিকার ও দায়িত্বসমূহ এবং তার বিরুদ্ধে আনিত যে কোন ফৌজদারী অভিযোগ নিরূপণের জন্য পূর্ণ সমতার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার-আদালতে নায্যভাবে ও প্রকাশ্যে শুনানী লাভের অধিকার রয়েছে।
ধারা-১১: ক. যে কেউ কোন দন্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হলে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের নিশ্চয়তা  দেয়া হয়েছে এমন গণ-আদালত কর্তৃক আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ বলে বিবেচিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।
খ. কাউকে কোন কাজ বা ত্রুটির জন্য দন্ডযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা চলবে না যদি সংঘটনকালে তা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দন্ডযোগ্য অপরাধ গণ্য না হয়ে থাকে। আবার দন্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটনকালে যতটুকু শাস্তি প্রযোজ্য ছিল তার চেয়ে অধিক শাস্তি চলবে না।
ধারা-১২: কাউকে তার ব্যক্তিগত, গোপনীয়তা, পরিবার, বসতবাড়ী বা চিঠিপত্রের ব্যাপারে খেয়াল খুশীমত হস্তক্ষেপ অথবা সম্মান ও  সুনামের উপর আক্রমণ করা চলবে না।
ধারা-১৩:  ক. প্রত্যেক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে চলাচল ও বসতি স্থাপনের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে।
খ. প্রত্যেকেরই নিজ দেশসহ যে কোন দেশ ছেড়ে যাওয়ার ও স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের অধিকার রয়েছে।
ধারা-১৪: ক. নির্যাতন এড়ানোর জন্য প্রত্যেকেরই অপর দেশসমূহে আশ্রয় প্রার্থনা ও ভোগ করার অধিকার রয়েছে।
খ. অরাজনৈতিক অপরাধসমূহ অথবা জাতিসংঘের উদ্দেশ্য ও মূলনীতি বিরোধী কার্যকলাপ থেকে সত্যিকারভাবে উদ্ভূত   নির্যাতনের ক্ষেত্রে এ অধিকার প্রার্থনা করা নাও যেতে পারে।
ধারা-১৫: ক. প্রত্যেকেরই একটি জাতীয়তার অধিকার রয়েছে।
খ. কাউকে যথেচ্ছভাবে তার জাতীয়তা থেকে বঞ্চিত করা অথবা তাকে তার জাতীয়তা পরিবর্তনের অধিকার অস্বীকার করা চলবে না।
ধারা-১৬: ক. পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ ও নারীদের জাতিগত জাতীয়তা অথবা ধর্মের কারণে কোন সীমাবদ্ধতা ব্যাতিরেকে বিবাহ করা ও পরিবার  গঠনের অধিকার রয়েছে। বিবাহের ব্যাপারে , বিবাহিত অবস্থায় এবং বিবাহ বিচ্ছেদকালে তাদের সম-অধিকার রয়েছে।
খ. কেবল বিবাহ-ইচ্ছুক পাত্র-পাত্রীর অবাধ ও পূর্ণ সম্মতির দ্বারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে।
গ. পরিবার হচ্ছে সমাজের স্বাভাবিক ও মৌলিক একক গোষ্ঠী; সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক সংরক্ষিত হওয়ার অধিকার এর রয়েছে।
ধারা-১৭: ক. প্রত্যেকেরই একাকী এবং অপরের সহযোগিতায় সম্পত্তির মালিক হওয়ার অধিকার রয়েছে।
খ. কাউকে তার সম্পত্তি থেকে খেয়ালখুশীমত বঞ্চিত করা চলবে না।
ধারা-১৮: প্রত্যেকেরই চিন্তা, বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে। নিজ ধর্ম অথবা বিশ্বাস পরিবর্তনের স্বাধীনতা এবং একাই অথবা অপরের সাথে যোগসাজশে ও প্রকাশ্যে বা গোপনে নিজ ধর্ম বা বিশ্বাস শিক্ষাদান , প্রচার , উপাসনাও পালনের মাধ্যমে প্রকাশ করার স্বাধীনতা এ অধিকারের অন্তর্ভূক্ত।
ধারা-১৯: প্রত্যেকেরই মতামতের ও মতামত প্রকাশের স্বাধীকার রয়েছে; বিনা হস্তক্ষেপে মতামত পোষণ এবং যে কোন উপায়াদির মাধ্যমে ও রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্বিশেষে তথ্য ও মতামত সন্ধান, গ্রহণ, ও জ্ঞাত করার স্বাধীনতা এ অধিকারের অন্তর্ভূক্ত।
ধারা-২০:  ক. প্রত্যেকেরই শান্তিপূর্ণভাবে সম্মিলিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।
খ. কাউকেই কোন সংঘভুক্ত হতে বাধ্য করা যাবে না।
ধারা-২১: ক. প্রত্যক্ষভাবে অথবা অবাধে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিজ দেশের সরকারের অংশগ্রহণের অধিকার প্রত্যেকেরই  রয়েছে।
খ. প্রত্যেকেরই নিজ দেশের সরকারী চাকুরীতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার রয়েছে।
গ. জনগণের ইচ্ছাই সরকারের ক্ষমতার ভিত্তি হবে; এ ইচ্ছা সর্বজনীন ও সমান ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নৈমিত্তিকভাবে এবং প্রকৃত নির্বাচন দ্বারা ব্যক্ত হবে; গোপন ব্যালট অথবা অনুরূপ অবাধ ভোটদান পদ্ধতিতে এরূপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ধারা-২২: সমাজের সদস্য হিসেবে প্রত্যেকেরই সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে; প্রত্যেকেই জাতীয় প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এবং প্রতিটি রাষ্ট্রের সংগঠন ও সম্পদ অনুসারে তার মর্যাদা ও অবাধে ব্যক্তিত্ব বিকাশে অপরিহার্য অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহ আদায় করার জন্য স্বত্ববান।
ধারা-২৩: ক. প্রত্যেকেরই কাজ করার অধিকার, অবাধে চাকুরী নির্বাচনের, কাজের জন্য ন্যায্য ও অনুকূল অবস্থা লাভের এবং বেকারত্ব থেকে রক্ষিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।
খ. প্রত্যেকেরই কোন বৈষম্য ব্যতিরেকে সমান কাজের জন্য সমান বেতন পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
গ. প্রত্যেক কর্মীর তার নিজের ও পরিবারের মানবিক মর্যাদা রক্ষার নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম এমন ন্যায্য ও অনুকূল পারিশ্রমিক এবং প্রয়োজনবোধে সেই সঙ্গে সামাজিক সংরক্ষণের জন্য ব্যবস্থাদি সংযোজিত লাভের অধিকার রয়েছে।
ধারা-২৪: প্রত্যেকেরই বিশ্রাম ও অবসর বিনোদনের অধিকার রয়েছে। কাজের সময়ের যুক্তিসঙ্গত সীমা ও বেতনসহ নৈমিত্তিক ছুটি এ অধিকারের অন্তর্ভূক্ত।
ধারা-২৫ ক. নিজের ও নিজ পরিবারের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের জন্য পর্যাপ্ত জীবনমানের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, ও প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবামূলক কার্যাদির সুযোগ এবং বেকারত্ব, পীড়া, অক্ষমতা, বৈধব্য, (বিধবা অবস্থা) এ অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।
খ.  মাতৃত্ব ও শৈশব অবস্থায় প্রত্যেকে বিশেষ যত্ন ও সহায়তা লাভের অধিকারী। বৈবাহিক বন্ধনের বাইরের জন্ম হোক না কেন সকল শিশুই অভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ করবে।
ধারা-২৬: ক. প্রত্যেকেরই শিক্ষা লাভের অধিকার রয়েছে। অন্ততঃপক্ষে প্রাথমিক ও মৌলিক পর্যায়ে শিক্ষা অবৈতনিক হবে। প্রথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক হবে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সাধারণভাবে লভ্য থাকবে এবং উচ্চতর শিক্ষা মেধার ভিত্তিতে সকলের জন্য সমভাবে উন্মুক্ত থাকবে।
খ. ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ এবং মানবিক অধিকার ও মৌলিক স্বাধীকারসমূহের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দৃঢ় করার উদেশ্যে শিক্ষা পরিচালিত হবে। সমঝোতা, সহিষ্ণুতা ও সকল জাতি, বর্ণ ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে বন্ধুত্ব উন্নয়ন এবং শান্তি রক্ষার্থে জাতিসংঘের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করবে।
গ. যে প্রকার শিক্ষা তাদের সন্তানদের দেয়া হবে তা পূর্ব থেকে বেছে নেয়ার অধিকার পিতামাতার রয়েছে।
ধারা-২৭ ক. প্রত্যেকেরই গোষ্ঠীগত সাংস্কৃতিক জীবনে অবাধে অংশগ্রহণ, শিল্পকলা চর্চা করা এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও তার  সুফলসমূহের অংশীদার হওয়ার অধিকার রয়েছে।
খ. প্রত্যেকেরই বিজ্ঞান, সাহিত্য অথবা শিল্পকলা-ভিত্তিক সৃজনশীল কাজ থেকে উদ্ভূত নৈতিক ও বৈষয়িক স্বার্থসমূহ রক্ষণের  অধিকার রয়েছে।
ধারা-২৮: প্রত্যেকেই এমন একটি সামাজিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য স্বত্ববান যেখানে এ ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত অধিকার ও স্বাধীনতাসমূহ পূর্ণভাবে আদায় করা যেতে পারে।
ধারা-২৯: ক. প্রত্যেকেরই সমাজের প্রতি কর্তব্যাদি রয়েছে কেবল যার অন্তর্গত হয়েই তার ব্যক্তিত্বের অবাধ ও পূর্ণ বিকাশ সম্ভব।
খ. স্বীয় অধিকার ও স্বাধীনতাসমূহ প্রয়োগকালে প্রত্যেকেরই শুধু ঐ ধরণের সীমাবদ্ধতা থাকবে যা কেবল অপরের অধিকার ও স্বাধীনতাসমূহের যথার্থ স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধা নিশ্চিত করা এবং একটি গণতান্ত্রিক সমাজে নৈতিকতা, গণশৃঙ্খলা ও সাধারণ কল্যাণের ন্যায্য প্রয়োজন সমূহ মিটানোর উদ্দেশ্যে আইনের দ্বারা নিরূপিত হয়।
গ. এ সকল অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগকালে কোন ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের উদ্দেশ্য ও মূলনীতি লংঘন করা চলবেনা।
ধারা-৩০: এ ঘোষণায় উল্লিখিত কোন বিষয়কে এরূপভাবে ব্যাখ্যা করা চলবে না যাতে মনে হয় যে,  এ ঘেষণার অন্তর্ভুক্ত কোন অধিকার বা স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কোন রাষ্ট্র, দল বা ব্যক্তি বিশেষের আত্মনিয়েগের অধিকার রয়েছে।
গ. এ সকল অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগকালে কোন ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের উদ্দেশ্য ও মূলনীতি লংঘন করা চলবে না*।
ইসলামে মৌলিক মানবাধিকারসমূহ : এতক্ষণে মানবাধিকার সম্পর্কে দার্শনিকদের অভিমত এবং জাতিসংঘ কর্তৃক মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। এখন ইসলামী রাষ্ট্রে নাগরিকদের জন্য মৌলিক অধিকারের যে সব নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে সেগুলোর সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করা হবে।
১। ব্যক্তিগত নিরাত্তার অধিকার: পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে যে, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা বা Islam is the complete code of life.  তাই ইসলাম রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য প্রত্যেকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করেছে। মানুষের ব্যক্তিগত জীবনকে এমন একটি প্রাচীর দ্বারা আবদ্ধ করা হয়েছে, যেখানে অন্য কারও হস্তক্ষেপ করার কোন অধিকার নেই। মানুষের ব্যক্তিগত জীবনকে আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত মর্যাদা ও সম্মানের সাথে মূল্যায়ন করেছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে নির্দেশ এসেছে-
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের বাড়ি ছাড়া অন্যের বাড়িতে বাড়ির মালিকের অনুমতি ছাড়া এবং সালাম না দিয়ে প্রবেশ কর না। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর ব্যবস্থা, হয়ত তোমরা উপদেশ গ্রহণ করতে পারবে। যদি তোমরা বাড়িতে কাউকে না পাও তাহলে তাতে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ তোমাদের অনুমতি না দেয়া হয়। যদি তোমাদের বলা হয়, ফিরে যাও তবে তোমরা ফিরে যাবে। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম এবং তোমাদের  কৃতকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত”১৯। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) ও বাড়িতে প্রবেশের সময় আওয়াজ দিয়ে অথবা দরজায় শব্দ করে প্রবেশ করার উপদেশ দিয়েছেন। যাতে মা, বোন এবং কন্যাদের প্রতি এমন অবস্থায় দৃষ্টি না পড়ে যা মানুষকে নৈতিকতা বিরোধীদের কাতারে নামিয়ে ফেলতে পারে। যে বাড়িতে লোক বসতি নেই সে স্থান এ কঠোর নির্দেশের আওতা বহির্ভূত”। আল্লাহ্ তায়ালা এরশাদ করেছেন- “যে বাড়িতে কেউ বাস করে না তাতে তোমাদের প্রবেশে কোন পাপ নেই এবং সেখানে তোমাদের উপকার রয়েছে”২০। দোকানপাট, হোটেল, সরাইখানা, অতিথিশালা, অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এসব স্থানের মধ্যে গণ্য। প্রয়োজনীয় কাজে অন্যের বাড়িতে প্রয়োজন দেখা দিলে পর্দার আড়াল থেকে চেয়ে নিতে হবে। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনুল কারীমে আল্লাহ্ পাক ঘোষণা করেছেন, “নবী সহধর্মিণীদের নিকট থেকে কোন বস্তু গ্রহণ করলে পর্দার অন্তরাল থেকে চেয়ে নাও” ২১। মানুষের গোপনীয় বিষয়ের অন্বেষণ করার মাধ্যমে অন্যের ত্রুটি খোঁজা নিষেধ। নবী করিম (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি অন্যের দোষত্রুটি দেখে তা গোপন রাখল সে যেন একজন জীবন্ত সমাহিত ব্যক্তিকে রক্ষা করল” ২২।
২। জীবনের নিরাপত্তার অধিকার : ইসলাম নাগরিকদের যে সব মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে জীবনের নিরাপত্তার অধিকার অন্যতম। ইসলামী রাষ্ট্রে যত প্রকার নাগরিক বসবাস করে অর্থাৎ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টান সকল প্রকার নাগরিকদের জন্য ইসলাম জীবনের নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করেছে। কারণ একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের নিকট এ অধিকার সবার জন্য প্রাপ্য। তাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য এ অধিকার ইসলাম দিয়েছে। কাউকে হত্যা করা, কারো ঘর-বাড়ী দখল করা এবং ধ্বংসাত্মক অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া কাউকে হত্যা করলে সমগ্র মানব গোষ্ঠীকে হত্যা করার শামিল। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী- অর্থাৎ- “নর হত্যা এবং পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যতিরেকে কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানব গোষ্ঠীকে হত্যা করল”২৩। ‘ইসলামী আইন’ সংগত কারণে হত্যা করার যে নিয়ম করেছে তাকে বলা হয় ‘কিতাল বিল হাক্ক’। এ ক্ষেত্রে একটি সীমাও নির্ধারণ করেছে ইসলাম। তা হলো নিন্মরূপ: ক. কিসাস বা হত্যার বদলে হত্যা করা। ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার অপরাধীকে তার অপরাধের প্রতিশোধস্বরূপ এ হত্যা বা কিসাসের বিধান করা হয়েছে। খ. জিহাদের ময়দানে ইসলামের শত্রুদের হত্যা করা। গ. বিবাহিত নারী অথবা পুরুষকে ব্যভিচারের অপরাধে হত্যা করা। ঘ. ধর্ম ত্যাগের অপরাধে হত্যা করা। ঙ. ডাকাত অর্থাৎ রাজপথে রাহাজানির অপরাধে হত্যা এবং চ. ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার পতনের চেষ্টায় লিপ্তদের শাস্তিস্বরূপ হত্যা করা। এ ছয়টি কারণ ছাড়া অন্য কোন কারণে মানুষকে হত্যা করা যাবে না। এভাবে ইসলাম মানুষের জীবনের নিরাপত্তার অধিকার সংরক্ষণ করেছে।
৩। সম্পদের মালিকানার অধিকার : মানুষকে হালাল উপায়ে অর্জিত ব্যক্তি সম্পদের মালিকার অধিকারের গ্যারান্টি দিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে শরীয়ত নির্ধারিত খাতসমূহ পরিশোধ করতে হবে। যেমন: যাকাত, দান-খায়রাত, মাতা-পিতা ও নিকটাত্মীয়দের লালন পালনের ব্যয়ভার ও দায়িত্ব বহন করতে হবে। জরুরী অবস্থা, প্লাবন, মহামারি, ইত্যাদি খাতের ব্যয়ভার বহনের জন্য রাষ্ট্রকর্তৃক ধার্য পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে পেশীশক্তি সম্পন্ন ও ক্ষমতার দাপটে একজন অন্য জনের সম্পদ জোর-দখল করে অবৈধভাবে ভোগ করছে। এটা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। ইসলামী রাষ্ট্রের সরকার যে কোন ব্যক্তির সম্পদের মালিকানার অধিকার নিশ্চিত করেছে এবং মালিককে নিম্নোক্ত অধিকার দিয়েছে:
ক. ভোগ-ব্যবহারে অধিকার।
খ. অধিক মুনাফা অর্জনের অধিকার।
গ. মালিকানা হস্তান্তরের অধিকার।
ঘ. মালিকানা স্বত্ব রক্ষার অধিকার।
এ ব্যাপারে কোরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশ হচ্ছে-
“ তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস কর না”২৪।
৪। মান-সম্মানের নিরাপত্তার অধিকার : প্রত্যেক নাগরিকের মান-সম্মান ও ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তা দেয়া ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা মানুষের সম্পদের নিরাপত্তার পাশাপাশি মান- ইজ্জতেরও নিরাপত্তার বিধান করেছে। বিদায় হজ্জের ভাষণে নবী করীম (সাঃ) জান-মালের নিরাপত্তার সাথে সাথে ইজ্জত- আব্রুর মর্যাদা রক্ষারও নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনুল কারীমে আল্লাহ পাক এরশাদ করেছেন;
‘হে ঈমানদারগণ! কোন পুরুষ যেন অপর কোন পুরুষকে উপহাস না করে; কেননা যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী যেন অপর কোন নারীকেও উপহাস না করে কেননা যাকে উপহাস করা হয় উপহাস কারিণী অপেক্ষা সে উত্তম হতে পারে’২৫।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) তার অসংখ্য হাদীসে মানুষকে অহেতুক মারপিট করতে এবং অবমাননা ও অপমান করতে নিষেধ করেছেন। একবার তিনি বলেন; “মুসলমানদের পৃষ্ঠদেশ সম্মাানিত (তাকে মারধর করা যাবে না)। তবে সে যদি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে, তবে শাস্তি দেয়া যাবে। বিনা কারণে কোন মুসলমানকে মারলে আল্লাহ্ তার ওপর ভয়ানক অসন্তুষ্ট হন”২৬। অপর একটি হাদীসে রাসূল (সাঃ) বলেছেন; ‘যে ব্যক্তি অন্য কোন লোকের মানহানি করে অথবা জুলুম করে তবে সেদিন আসার আগেই তার ক্ষমা চেয়ে নেয়া উচিত যে দিন তার ধন-সম্পদ, আর অন্য কিছু থাকবে না’২৭।
৫। ন্যায়বিচার পাবার অধিকার : ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। ইসলাম ন্যয়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য বদ্ধপরিকর। অন্যায়ভাবে কাউকে বিচারের গ্যাঁড়াকলে ফেলে দিয়ে স্বার্থ হাসিল করা ইসলামের বিধান নয়। ইসলাম তাই মানুষের ন্যায়বিচার পাবার অধিকার নিশ্চিত করেছে। প্রচলিত শাসন ব্যবস্থায় অর্থের বিনিময়ে অথবা অন্য কোন উপায়ে ন্যায়বিচার থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। মিথ্যা মামলা- মোকদ্দমা দিয়ে মানুষকে অনেক সময় হেনস্তা করা হয়। জমি-জমা, বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করা হয়, অথচ বিচার চাইতে গেলে পক্ষপাতমূলক বিচার করা হয়ে থাকে। আল্লাহ পাক তার নবীকে নির্র্দেশ দিয়েছেন এ কথা বলার জন্য যে,
তুমি বল, “তোমাদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি, আল্লাহ্ তায়ালা আরও বলেন; বল তোমার প্রভু আমাকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন”২৮। কোরআনুল কারীমে অন্যত্র এরশাদ হচ্ছে-“তোমরা যখন মানুষের মাঝে বিচারকার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায় পরায়ণতার সাথে বিচার করবে; তোমরা যখন বিচার করবে ন্যায্য বিচার করবে- তোমার নিকটাত্মীয় হলেও; তুমি তাদের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করলে সুবিচার করবে। নিশ্চয় আল্লাহ্ সুবিচারকারীদের ভালবাসেন”২৯। এ ছাড়া আরও অনেক অধিকার ইসলাম কর্তৃক দেয়া হয়েছে। যা অত্যন্ত সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ। যেমন: ব্যক্তি স্বাধীনতা সংরক্ষণের অধিকার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অধিকার, নারী-পুরুষের সমান অধিকার, পরিবার পরিচালনার অধিকার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অধিকার, সংগঠন করার অধিকার, সমাবেশ করার আধিকার, বিনিময় লাভের অধিকার, সমাজে ও রাষ্ট্রে শান্তিতে বসবাস করার অধিকার, ধর্ম পালনের অধিকার, অমুসলিম সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার এবং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকারও ইসলাম কর্র্তৃক স্বীকৃত মৌলিক অধিকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
উপসংহার : ইসলাম সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জীবন বিধান। যে বিধানে সন্নিবেশিত আছে মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক, ও রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান। এতে আছে মানুষের ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির সমাধান আছে মানব কল্যাণ ও মৌলিক মানাবাধিকার সংরক্ষণের উপায় ও প্রতিষ্ঠার পথ নির্দেশনা। তাই ইসলামকে অনুসরণ তথা মহাগ্রন্থ আল কোরআন ও রাসূল (সাঃ) এর আদর্শ সমাজে বাস্তবায়িত হলে সমাজে, পরিবারে ও রাষ্ট্রে কোন ধরণের অশান্তি ও বিশৃংখলার জন্ম নিতে ও টিকে থাকতে পারবে না। তখন জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই নিজ নিজ অধিকার অনুযায়ী রাষ্ট্রে শান্তিতে বসবাস করার সুযোগ পাবে। সুতরাং কোরআন ও সুন্নাহ্র আলোকে সমাজে ও রাষ্ট্রে মানবাধিকার বাস্তবায়ন, প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের জন্য সকলকে পথিকৃৎ এর ভূমিকা পালন করা উচিত। (সমাপ্ত)
লেখক : কলামিস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যাপক ও পিএইচডি গবেষক, ইউ.কে।
* জাতিসংঘ কর্তৃক মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের মুখবন্ধ।
* সনদের বাংলা অনুবাদ জাতিসংঘ ইনফরমেশন সেন্টর ঢাকা থেকে প্রাপ্ত।
সহায়কগ্রন্থ :
১। আল কুরআন: সূরা- তাওবাহ্-১১১ আয়াত
২। আল কুরআন: সূরা- আলে ইমরান-১৯ আয়াত।
৩। আল কুরআন: সূরা- নিসা-৭৫ আয়াত
৪। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১ নম্বর অনুচ্ছেদ।
৫। সূত্র: Morris Stockhammer , plato Dictionary, philosophical library, New Yark 1903, page-32
৬। Morris Stockhammer , plato Dictionary, philosophical library, New Yark 1903, page-141
৭। Morris Stockhammer , plato Dictionary, philosophical library, New Yark 1903, page-56
৮। Morris Stockhammer , plato Dictionary, philosophical library, New Yark 1903, page-134
৯। Aristotle: Politics : page-312
১০। Aristotle: Politics : page-364
১১। Aristotle: Politics : page-185
১২। Dewey R.E., Freedom, the Macillan co. London 1970, page-347
১৩। Dewey R.E., Freedom, the Macillan co. London 1970, page-347
১৪।  A.K Brohi; Fundmental law of Pakistan, Karachi 1958 page 733
১৫। A.K Brohi; Fundmental law of Pakistan, Karachi 1958 page 733
১৬। আল-কোরআন: সূরা সফ- আয়াত-১০
১৭। সূত্র: Document of liberty David and Charls New town Abbot: England – 1971, page-51
১৮। আল-কোরআন: সূরা ইমরান ২৬ আয়াত
১৯। আল-কোরআন: সূরা- নূর: ২৭-২৮ আয়াত।
২০। আল-কোরআন: সূরা- নূর: ২৯ আয়াত।
২১। আল-কোরআন: আহযাব- ৫৩ আয়াত।
২২। আল-হাদীস: আবু দাউদ
২৩। আল-কোরআন: সূরা- মায়েদা: ৩২ আয়াত।
২৪। আল-কোরআন: সূরা- বাকারাহ্-১৮৮ আয়াত।
২৫। আল-কোরআন: সূরা- হুজরাত: ১১ আয়াত।
২৬। আল-হাদীস: তাবারানী।
২৭। আল-হাদীস: সহীহ্ আল-বুখারী।
২৮। আল-কোরআন: সূরা- শুরা ১৫ আয়াত; সূরা- আরাফ: ২৯ আয়াত।
২৯। আল-কোরআন: সূরা- নিসা: ৫৮ আয়াত; আনআম: ১৫২ আয়াত; মায়েদা: ৪২ আয়াত।

আরও পড়ুনঃ   ইসলাম ও মৌলিক মানবাধিকার -(পর্ব-১)

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 + 3 =