ইসলাম নিয়ে চর্চিত কয়েকটি রটনা এবং তার সত্যতা যাচাই

0
6
ইসলাম নিয়ে রটনা

এবেলার ওয়েবসাইটে একটা লেখা দেখলাম ‘ইসলাম সম্পর্কে কয়েকটি রটনা যার কোনওটিই সত্য নয়’ শিরোনামে। এই লেখাতে পাঁচটি টপিক নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়গুলো হল, মুসলিম মাত্রই জঙ্গী মনোভাবাপন্ন, বলপ্রয়োগ করে ইসলামের বিস্তার হয়েছে, ইসলামে নারী অধিকার স্বীকৃত নেই, জিহাদ, এবং ইসলাম অন্য ধর্মের প্রতি অসহিষ্ণু। লেখাটিতে সংক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি বাক্যে উপরোক্ত বিষয় গুলোতে আলোচনা করা হয়েছে। লেখাটি পড়ে আমার মনে হল এটাকে আমি আমার মতো করি লিখি। সংক্ষিপ্ত কিন্তু তথ্যবহুল হলে খুব ভালোই হবে। আমার এই লেখা লেখার উদ্দেশ্য এটাই। ইসলাম বিদ্বেষীদের অভাব মুহাম্মাদ (সা.) –এর সময়েও ছিলনা এখনও নেই। কিয়ামাত পর্যন্ত অভাব হবেও না।

ইসলাম বিদ্বেষীরা বিভিন্নভাবে ইসলামের সমালোচনা করে, ভুল ব্যাখা করে, মিথ্যা রটনা করে সমাজে ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। আগে যে এমন হতো না তা নয়, কিন্তু আগের মুসলিমদের চরিত্র এমন ছিল যে বিদ্বেষীদের মিথ্যা প্রচারে তেমন কোন প্রভাবই পড়ত না। এখনকার মুসলিমদের চরিত্রে ইসলাম প্রকাশ পায়না বলেই এই সমস্যা গুলো বেশি প্রকট হচ্ছে বলে আমার বিশ্বাস। তার সাথে কিছু স্বার্থপর নামধারী মুসলিম এবং চরমপন্থী খারেজীদের কারনে ইসলাম সন্ত্রাসের ধর্ম বা মুসলিমরা জঙ্গী মনোভাবাপন্ন বলেও একটা ধারণা সৃষ্টি করতে অনেকটা সক্ষম হয়েছে ইসলামের দুশমনরা। এছাড়া আরো কয়েকটি ব্যাপারে ব্যাপক অপপ্রচার হয়েছে যার সত্যতা যাচাই করা জরুরি। আসুন এই ব্যাপারে আলোচনা করা হোক।

মুসলিম মাত্রই জঙ্গী মনোভাবাপন্নঃ

এটা নিছকই একটা অপবাদ। এবং হাস্যকর অপবাদ। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী আক্রমন এবং কয়েকটি মুসলিম দেশের অশান্ত অবস্থা দেখে অনেকেই এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হোন এবং সত্য ভেবে বসেন। ঠান্ডা মাথায় একটু ভেবে দেখুন এসব অশান্তি কত দিনের? যদি মুসলিম মাত্রই জঙ্গী মনোভাবাপন্ন হতো তবে এই পৃথিবীই থাকত না। এই পৃথিবীতে মুসলিমদের সংখ্যা প্রায় দুশো কোটির কাছাকাছি। এটা কত বড় জনসংখ্যা একটু ভাবুন। পৃথিবীর প্রত্যেক তিন জন ব্যক্তির একজন মুসলিম। যদি আসলেই মুসলিমরা জঙ্গী মনোভাবাপন্ন হয় তাহলে পৃথিবীর কোন কোনাতেই শান্তি থাকা সম্ভব নয়। কোন কোন মিডিয়া এমনভাবে কিছু ঘটনাকে তুলে ধরে যেন মুসলিম মাত্রই এমন। কয়েকটি মুসলিম দেশ অশান্ত তার মানে এই নয় সারা মুসলিম দুনিয়া অশান্ত। ষাটটিরও বেশি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশ আছে। কিন্তু মিডিয়ায় তো মাত্র কয়েকটা দেশের কথাই ঘুরে ফিরে আসে বারবার। আর একটু ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করলেই বুঝতে পারবেন সেই দেশগুলোর সাথে তেলের সম্পর্ক আছে এবং আমেরিকার নামও জড়িত আছে। সবকিছু আসলে রাজনৈতিক। মুসলিমরা কোন ভাবেই জঙ্গী মনোভাবাপন্ন বা সন্ত্রাসে উতসাহ দেয়না। কারণ, ইসলাম মুসলিমদের তা শেখায় না। মহান আল্লাহ বলেন, “ধর্মে বল প্রয়োগের কোনো স্থান নেই । সঠিক পথ প্রকৃতই ভুল পথ হতে পৃথক…”। (সুরা বাক্কারাহ/২৫৬)। ইসলাম সন্ত্রাসী হওয়ার নয় বরং ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেয়। মহানবী (সা.) বলেন,  ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করবে না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করবেন না’ (বুখারী/৭৩৭৬; মুসলিম/৬১৭২)। তিনি আরো বলতেন, ‘দয়ার্দ্র মানুষদেরকে পরম দয়াময় (আল্লাহ) দয়া করেন। তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া প্রদর্শন করো, তাহলে তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন, যিনি আকাশে আছেন’ (তিরমিযী; সহীহ আবু দাউদ/৪১৩২)। ‘সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ সেই ব্যক্তিযে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশী উপকারী‘। [সহীহুল জা’মে/৩২৮৯; দারাকুত্বনী, সিলসিলাহ সহীহাহ/৪২৬]

বলপ্রয়োগ করে ইসলামের বিস্তার হয়েছেঃ  

আরও পড়ুনঃ   মুসলমানরা কেন মৃত্যুকে ভয় পায়?

হামেশাই ইসলাম সম্পর্কে একটা অপবাদ দেওয়া হয় যে ইসলাম প্রসার লাভ করেছে তরবারীর জোরে। মানে বলপ্রয়োগ করে। মুসলমানরা কোন রাজ্য জয় করলে রাজ্যবাসীদের নাকি মুসলিম হতে বাধ্য করতেন নতুবা কতল করতেন। এই কথা যে ১০০% মিথ্যা তার হাজারো প্রমান আছে। একজন সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষও নিজের বুদ্ধির অল্প ব্যবহার করেও বুঝে যাবে এটা কতটা অযৌক্তিক আর মিথ্যায় ভরা অপবাদ। যেমন ধরুন, স্পেন বা ভারত উপমহাদেশে মুসলিমরা ১০০০ বছরের মতো শাসন করেছে। কিন্তু এসব দেশে কি মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ট? নাহ,এখানে মুসলিমদের থেকে কয়েক গুন বেশি অমুসলিম আছে। যদি এদের জবরদস্তি মুসলিম করা হতো তবে কি এখানে অমুসলিম থাকার কথা ছিল? নাহ, ১০০০ বছর ধরে অমুসলিমদের জবরদস্তি মুসলিম করা হলে একজন অমুসলিমও থাকার কথা নয়। আরো দেখুন, আরব দেশ গুলোতে চৌদ্দ’শ বছর ধরেই মুসলিমরা শাসন করছে তারপরেও সেইসব দেশে যথেষ্ট পরিমাণে অমুসলিম আছে। এইসব দেশ জলন্ত উদাহরণ এটার যে মুসলিম শাসকরা জবরদস্তি অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহন করতে বাধ্য করেননি। মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ার কথা ধরুন এখানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ট। ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র। কবে, কোন সৈন্য এ দেশ দুটিতে তরবারীর জোরে ইসলামের বিস্তৃতি ঘটিয়েছে? এখানে তো মুসলিম সম্রাটরা কখনোই শাসন করেনি। এরা মুসলিম হয়েছে ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে, তরবারী জোরে নয়। ইসলাম বা মুসলিমরা কি সত্যিই অমুসলিমদের জবরদস্তি মুসলিম করেছে? অনান্য ধর্মে হস্তক্ষেপ করেছে? ধর্মপালনে বাধা দিয়েছে? এসব ব্যাপারে ঐতিহাসীকদের মতকেই অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ, তাঁদের কাজই ইতিহাস নিয়ে গবেষনা করা আর সত্যান্বেষন করা। আসুন কয়েকজন ঐতিহাসিক এবং সত্যান্বেষীর মতামত জানা যাক –

◆ ইসলাম কোন ধর্মের নীতিতে হস্তক্ষেপ করেনি। কোন ধর্মের অবজ্ঞা করেনি। কোন ধর্মীয় বিচারালয় বিধর্মীদের শাস্তি প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠা করেনি। ইসলাম কখনো লোকদের ধর্মকে বলপূর্বক পরিবর্তনের সংকল্প করেনি। [M.D Saint Hiller]

◆ স্যার পি.সি রায় বলেছেন – একথা সরাসরি মিথ্যা যে, ইসলাম তরবারির জোরে প্রচারিত হয়েছে। ইসলাম যদি তরবারির দ্বারাই প্রচার লাভ করবে তবে মুসলমানের রাজত্ব হওয়া সত্ত্বেও এত হিন্দু কি করে বসতি লাভ করল? যদি ও কথা সত্য হয়, তবে হিন্দুদের ঐ অঞ্চল থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। [করাচি অভিভাষন, ২৯ আগষ্ট ১৯৩২]

ইসলামে নারী অধিকার স্বীকৃত নেইঃ 

ইসলামে মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত। কন্যা হত্যা মহাপাপ। কন্যারাও সম্পত্তিতে ভাগ পাবে। বলা হয়েছে পুরুষদের মতো নারীদেরও অধিকার আছে। ইসলামে স্ত্রীর দিকে প্রেমের দৃষ্টিতে তাকানো পূণ্যের কাজ। স্ত্রীর মুখে খাবার তুলে দেওয়া পূণ্যের কাজ। পূত্র এবং কন্যা সন্তানের সাথে সমান ব্যাবহার করতে বলা হয়েছে ইসলামে এমনকি চুমু দেওয়ার ক্ষেত্রেও। বলা হয়েছে, সেই পুরুষ সর্বোত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। নারীদেরও বিবাহ বিচ্ছেদ করার অধিকার দিয়েছে। বিয়েতে স্ত্রীদের মোহর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিয়েতে মেয়েদের মত নেওয়া জরুরি বলা হয়েছে। স্বামীদের জন্য স্ত্রীদের সংসারী কাজে সাহায্য করা পূণ্যের কাজ। নারীদের ভরনপোষণ এবং রক্ষা করার দায়িত্ব পুরুষদের দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ঘোষণা দিয়েছে কন্যা সন্তানদের উত্তমভাবে লালনপালন করার পুরুষ্কার জান্নাত। কন্যা সন্তানের জন্মকে বরকতময় বলা হয়েছে। গর্ভাবস্থায় নারী মারা গেলে ইসলাম তাকে শহীদের মর্যাদা দিয়েছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের সঠিক অধিকার দিয়েছে ইসলাম। কোনভাবেই তাদের নিচু করে দেখা হয়নি বা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্ছিত করা হয়নি। ইসলাম ছাড়া অন্য কোন মতবাদে স্পষ্টভাবে নারী অধিকার স্বীকৃত হয়নি। দুনিয়াতে গণতন্ত্র আসার পর নারী অধিকার ধীরে ধীরে স্বীকৃত হচ্ছে। তার আগে মুসলিম দুনিয়া ব্যতিত নারী অধিকার স্বীকৃত ছিলনা। নারী স্বাধীনতার বিখ্যাত বক্তা মিল (MILL) তার ‘পরাধীন নারী’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘ইউরোপের ইতিহাসের দিকে তাকান, খুব বেশী দিন অতিবাহিত হয়নি যখন বাপ তার মেয়েকে যেখানে ইচ্ছা বিক্রি করে দিতো। এ ব্যাপারে তার ইচ্ছার কোন তোয়াক্কাই করা হতো না’। রুশ প্রবাদ আছে ‘মুরগী যেমন পাখি নয়, নারী তেমনি মানুষ নয়’। 1917 সালের আগের ইংল্যান্ডে পুরুষদের অধিকার ছিল লাঠি বা চাবুক দিয়ে স্ত্রীদের মারধর করার। রাশিয়ার জার শাসনের অন্তিম লগ্ন পর্যন্ত স্ত্রী প্রহার এত সাধারণ প্রথা ছিল যেন বিয়ের আগে নববধুর বাবা জামাইকে উপহার দিত একটি নতুন চাবুক। কিছু সভ্যতায় এমন ছিল যে বাড়ির যে পুরুষই অপরাধ করুক না কেন, স্ত্রীকে শাস্তি দিলেই হবে। স্ত্রীকে খুন করার অধিকার স্বামীর ছিল। অথচ এই ধরনের কোন অসভ্যতায় ছিলনা মুসলিম দুনিয়ায়। কারণ নারীদের ব্যাপারে পুরুষদের কঠোরভাবে সাবধান করা হয়েছে ইসলামে।

আরও পড়ুনঃ   জ্ঞানার্জন সম্পর্কে বিদ্বানদের উক্তি

জিহাদঃ   

জিহাদ মানেই রক্তারক্তি বা খুনোখুনি নয়। জিহাদ মানেই বিধর্মীদের হত্যা করা নয়, জিহাদ মানে যেখানে সেখানে বোমব্লাস্ট করে নিরীহ মানুষদের হত্যা করা নয়। জিহাদ আসলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই। জিহাদের অর্থ সংগ্রাম বা প্রচেষ্টা করা। নবী (সা) এবং সাহাবাদের যুগে জিহাদ করে বিশৃঙখল এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শান্তিপূর্ণ এলাকা বিশৃঙখল হয়নি। ইসলামী চিন্তাবিদ্গণ বলেন, জিহাদ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠাকল্পে ফরয করা হয়েছে ইসলামে। জিহাদ জিহাদের ময়দানেই সীমাবদ্ধ থাকবে। বেসামরিক লোকেদের হত্যা করা যাবেনা জিহাদে। কোন দূত হত্যা করা যাবেনা তাতে। বৃদ্ধ, নারী ও শিশু হত্যা করা যাবেনা। শত্রু পক্ষের ফসল নষ্ট করা যাবেনা। অপ্রয়োজনে বাড়ি ঘর জ্বালানো যাবেনা এবং উপাসনালয় নষ্ট করা যাবেনা। সুতরাং যে লড়াইতে ইসলামী উদারনীতির লংঘন হয় তা জিহাদ নয়। ([যুব সমস্যা ও শরয়ী সমাধান/১৯৬ পৃষ্ঠা] মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন হত্যার বিনিময় ব্যতীত কাউকে হত্যা করল অথবা সন্ত্রাস সৃষ্টি করল সে যেন সমগ্র মানব জাতিকেই হত্যা করল। আর যে একটা প্রাণকে বাঁচাল সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে বাঁচাল’ (সূরা মায়েদা)। নবীজী বলেন, ‘যে কোন অমুসলিমকে (অকারণে) হত্যা করবে সে জন্নাতের সুঘ্রাণও পাবেনা। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ ৪০ বছরের দুরুত্ব থেকেও পাওয়া যাবে’ মহানবী সা• তাঁর দশ বছরের সামরিক জীবনে প্রায় ৩০ লাখ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ইসলামী সালতানাতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অথচ এই বিশাল এলাকা জয় করতে সকল যুদ্ধে মুসলমানরা সর্বমোট ২৫১ জন কাফির সৈন্য হত্যা করেছেন। আর মুসলমানদের মধ্যে শাহাদাত বরণ করেছেন সর্বোচ্চ ১২০ জন। পৃথিবীর শুরু থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া অনৈসলামিক যুদ্ধ-বিগ্রহের ইতিহাস তন্ন তন্ন করে খুজলেও এত বিশাল এলাকা বিজয়ের জন্য এত কম সংখ্যক প্রাণহাণীর অন্য কোন নযীর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

ইসলাম অন্য ধর্মের প্রতি অসহিষ্ণুঃ

এটা সবথেকে বড় মিথ্যা কথা গুলোর একটা। কারণ, আরবে  ইসলাম প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এখনও অনেক খৃষ্টান ইহুদি আছে। তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। আর মদিনা সনদ অন্য ধর্মের প্রতি সহিষ্ণু হওয়ার সবথেকে বড় প্রমাণ। মদিনা সনদের কয়েকটি ধারা দেখুন, সনদপত্রে স্বাক্ষরকারী সম্প্রদায়সমূহ একটি জাতি গঠন করবে; মুসলিম, খ্রিষ্টান, ইহুদি, পৌত্তলিক ও অন্যান্য সম্প্রদায় ধর্মীয় ব্যাপারে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে, কেউ কারো ধর্মীয় কাজে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করতে পারবে না; কোনো লোক ব্যক্তিগত অপরাধ করলে তা ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবেই বিচার করা হবে, তজ্জন্য অপরাধীর সম্প্রদায়কে দায়ী করা যাবে না; মুসলমান, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেরা পরস্পর বন্ধুসুলভ আচরণ করবে। মহানবী মুহাম্মাদ (সা.) এর মদিনা রাষ্ট্রের এসব সংবিধান কি অসহিষনু? মক্কাতে মুসলিমদের প্রতি কত ভয়ানক অত্যাচার হয়েছিল, তাদের ঘর বাড়ি সম্পদ লুন্ঠিত হয়েছিল, অত্যাচারের জ্বালায় মুসলিমদের মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করতে হয়েছিল। পরে যখন মুসলিমরা মক্কা বিজয় করে তখন কোন রকম রক্তপাত হয়নি। ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল অত্যাচারীদের। ইসলাম বা মুসলিমরা যদি অন্যদের প্রতি অসহিষনু হতো তাহলে কি আরবে একজনও ইহুদি খৃষ্টানের বেচে থাকার কথা ছিল। শুধু তাই নয়, যদি সারা বিশ্বের যেসব জায়গায় মুসলিমরা বছরের পর বছর শাসন করেছে তার দিকে তাকানো হয় তবুও এটাই প্রমানিত হবে যে তারা সহিষনু। অন্য ধর্ম, সংস্কৃতি এবং অমুসলিমদের অস্তিত্বই প্রমান করে ইসলাম সহিষনু নয়। যে সকল অমুসলিমরা আল্লাহ ছেড়ে অন্যদের উপাসনা করে তাদের নিয়ে মুসলিমরা যাতে কোনো রকম ব্যাঙ্গ বা কটুক্তি না করেন সে ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহকে ছেড়ে যাদেরকে তারা ডাকে তাদের তোমরা গালি দিও না…..(কুরান;৬/১০৮)। মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা সকল ধর্মের মানুষদেরকে দান কর’। (ইবনে আবী শাইবা; সিঃ সহীহাহ/২৭৬৬)। ইসলাম অন্য ধর্মের প্রতি অসহিষ্ণু নয় তার সব থেকে বড় প্রমান এই আয়াতটায়। ইসলাম অন্য ধর্মের প্রতি অসহিষ্ণু হলে এত অল্প সময়ে এত প্রভাব বিস্তারকারী ধর্মে পরিণত হতে পারত না।

 “হে মুমিনগণ! আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানে তোমরা অবিচল থাকবে; কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদেরকে যেন কখনো সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে, সুবিচার করবে এটি তাকওয়ার নিকটতর এবং আল্লাহকে ভয় করবে, তোমরা যা কর আল্লাহ তা পুরো খবর রাখেন”(সুরা মায়েদা/৮)।

আরও পড়ুনঃ   লোকে কী বলবে?

Source

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 + seven =