ইসলাম প্রচারের গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে জেনে নিন

0
11
ইসলাম প্রচারের গুরুত্ব

সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের গুরুত্ব দিতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা কোরআনে ঈমান, নামাজ, জাকাত ইত্যাদির আগে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করার কথা উল্লেখ করেছেন। ইসলাম প্রচারের সুমহান দায়িত্ব নিয়েই যুগে যুগে আম্বিয়ায়ে কেরাম প্রেরিত হয়েছেন বিভিন্ন জনপদের জানগোষ্ঠীর কাছে। আল্লাহর প্রতি যাদের বিশ্বাস নেই, অথবা থাকলেও বিকৃত বিশ্বাসের অধিকারী, তাদের সঠিক পথের দিশা দেয়া, আল্লাহর বন্দেগির সরল-সঠিক পথ তাদের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরাই ছিল নবীদের কাজ। যাতে কেয়ামতের ময়দানে কেউ এ অভিযোগ করতে না পারে যে, আমাদের কাছে ইসলামের বাণী নিয়ে কেউ আসেনি। এরশাদ হচ্ছে, ‘যেন তোমরা না বল যে, আমাদের কাছে কোনো সুসংবাদদাত কিংবা সতর্ককারী আসেনি। অবশ্যই তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এসেছে। আর আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।’ (সূরা মায়েদা : ১৯)।

নবী ও রাসুলদের দায়িত্ব
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করাই ছিল সব নবী এবং রাসুলের দায়িত্ব। সব নবীই তাঁর উম্মতের পরম হিতাকাক্সক্ষী হিসেবে একত্ববাদ ও ইবাদতের আদেশ করেছেন এবং শিরক, কুফর ও পাপাচার থেকে নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা অনুসরণ করে বার্তাবাহক উম্মি নবীর, যার উল্লেখ তারা তাদের কাছে রক্ষিত তওরাত ও ইনজিলে লিপিবদ্ধ পায়, যিনি তাদের সৎকাজের নির্দেশ দেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন।’ (সূরা আরাফ : ১৫৭)। ‘হে রাসুল! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা আপনি প্রচার করুন। যদি আপনি তা না করেন, তাহলে আপনি আল্লাহর বার্তা প্রচার করলেন না।’ (সূরা মায়েদা : ৬৭)।
কোরআনুল কারিমে বারবার বলা হয়েছে, প্রচার বা পৌঁছানোই রাসুলদের একমাত্র দায়িত্ব। ‘রাসুলদের দায়িত্ব তো শুধু সুস্পষ্টভাবে প্রচার করা।’ (সূরা নাহল : ৩৫)। যাতে মানুষ আল্লাহর বান্দা হয় এবং শয়তানের আনুগত্য ছেড়ে দেয়। ‘আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসুল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুত থেকে নিরাপদ থাক।’ (সূরা নাহাল : ৩৬)।

আরও পড়ুনঃ   এক মিনিটে আপনি কি কি আমল করতে পারেন

উম্মতে মুহাম্মদির দায়িত্ব
নবুয়তের ধারাবাহিকতা যেহেত শেষ; সুতরাং ইসলাম প্রচারের দায়িত্ব এই উম্মতের ওপর অর্পিত হয়েছে। দ্বীন ইসলাম প্রচার উম্মতের ওপর নফল নয়, বরং উম্মতে মুহাম্মদির জন্য ফরজ (কিফায়া)। এ ফরজ পালনে শৈথিল্যের পরিণতি কী হতে পারে, তা আজ আমাদের সামনে স্পষ্ট। ইসলাম সঠিকভাবে প্রচার না হওয়ার সুযোগে একটি কুচক্রী ও স্বার্থান্বেষী মহল ইসলামের নামে বিভিন্ন অপতৎপরতা এবং বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করছে। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ প্রদান উম্মতে মুহাম্মদির অন্যতম দায়িত্ব এবং বৈশিষ্ট্য। এরশাদ হচ্ছে, ‘তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতারা।’ (সূরা তাহরিম : ৬)। ইসলাম প্রচারের মাঝেই রয়েছে এ উম্মতের সফলতা। এরশাদ হচ্ছে, ‘আর যেন তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের প্রতি আহ্বান করবে, ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দকাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৪)। শ্রেষ্ঠজাতি হওয়ার পূর্ব শর্তও কিন্তু সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ প্রদানের মাঝে নিহিত। ‘তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে বাছাই করা হয়েছে, মানবতার কল্যাণের জন্য। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে।’ (সূরা আলে ইমরান : ১১০)।

সহযোগিতা ও সমর্থনের স্থান
এক্ষেত্রে কোরআনের অন্যতম আরেকটি নির্দেশনা হলো, সহযোগিতা করতে হবে ভালো কাজের ক্ষেত্রে এবং মন্দকাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সাহায্য বা সমর্থন করা যাবে না। ‘সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য করো। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না।’ (সূরা মায়েদা : ২)। কোরআনের এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা গেলে সব অপরাধপ্রবণতা থেকে মুক্তি পাবে সমাজ, মুক্তি পাবে মানবতা। অন্যায় কাজের সহযোগিতার পরিবর্তে সবাই যদি বিরোধিতা শুরু করে, তাহলে বন্ধ হবে সমাজের সব অন্যায়-অপরাধ, দুর্নীতি-সন্ত্রাস ও জুলুম-নির্যাতন। কারণ যে কোনো অপরাধ সংঘটিত করার জন্য প্রয়োজন হয় কারও না কারও সহযোগিতা ও সমর্থনের।

আরও পড়ুনঃ   বিভিন্ন সূরার গুরুত্ব ও ফযীলত জেনে নিয়ে আমলের মাধ্যমে নেকি অর্জন করুন

ইসলাম প্রচার হবে জীবনের প্রতিজ্ঞা
ইসলাম প্রচারে সাহাবায় কেরাম ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। কোনো বাধা-বিপত্তিই তাদের ইসলাম প্রচার ব্যাহত করতে পারেনি। আমাদের পর্যন্ত ইসলাম পৌঁছত না যদি সাহাবায় কেরাম ইসলাম প্রচারের উদ্যোগ না নিতেন। তাদের ত্যাগ ও কোরবানির কারণে ইসলাম ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বময়। ‘উবাদাহ ইবনু সামিত (রা.) বলেন, আমরা রাসুল (সা.) থেকে বায়াত করি আনুগত্যের এবং সৎকর্মে আদেশ ও অসৎকর্মে নিষেধের এবং এ কথার ওপর যে, আমরা মহিমাময় আল্লাহর জন্য কথা বলব এবং সে বিষয়ে কোনো নিন্দুকের নিন্দা বা গালাগালের তোয়াক্কা করব না।’ (আহমাদ : ২২৭৬৯)।

ইসলাম প্রচারকের মর্যাদা
পবিত্র কোরআনে ইসলাম প্রচারের দায়িত্ব পালনকারী মোমিনকেই সর্বোত্তম বলে ঘোষণা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘ওই ব্যক্তি অপেক্ষা কথায় কে উত্তম, যে আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহ্বান করে, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি তো মুসলিমদের একজন।’ (সূরা ফুসসিলাত : ৩৩)।

ইসলাম প্রচারের পুরস্কার
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ শুধু দায়িত্বই নয়, বরং এর জন্য রয়েছে পুরস্কারের ব্যবস্থাও। এরশাদ হচ্ছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের পথনির্দেশ করে, সে ঠিক ততটাই বিনিময় পায়, যতটা বিনিময় ওই কাজ সম্পাদনকারী নিজে পেয়ে থাকে।’ (মুসলিম : ৫০০৭)।

Comments

comments