ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ পড়ার নিয়ম ও কিছু সুন্নত/মাসায়িল জেনে নিন

0
103
ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ পড়ার নিয়ম

আরবি মাস ২৯ ও ৩০ দিনে হয়। রমজান মাসের ২৯ তারিখ চাঁদ দেখা গেলে রমজানের রোজা ৩০ দিন পূর্ণ করতে হবে। ৩০ রমজান চাঁদ দেখা না গেলেও পরদিন হবে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন। আর এদিনই পালিত হবে পবত্রি ঈদ-উল-ফিতর। বছরে আমাদের দুই বার ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়ার জন্য যেতে হয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে আমাদের অনেকেই ঈদের নামাজের নিয়মগুলো ভুলে যায়। আসুন জেনে নিই ঈদের নামাজের নিয়মগুলো-

ঈদের নামাজ দুই রাকাআত। ঈদের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। যা জামাআতের সহিত পড়তে হয়। এ নামাজে অতিরিক্ত ছয় তাকবির দিতে হয়ে। প্রথম রাকায়াতে তাকবিরে তাহরিমাসহ ৪ তাকবির। ইমাম সাহেব তাকবিরে তাহরিমার মাধ্যমে নিয়্ত বাধার পর ছানা পড়ার পর তিন তাকবির দিবেন। মুসল্লিরাও সেই সঙ্গে সঙ্গে দু’হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাবেন এবং তাকবির দিবেন। তিন তাকবির শেষ হলে অন্যান্য নামাজের মতো হাত নাভীর উপর রাখবে। তার পর ইমাম সাহেব নামাজ পড়াবেন।

দ্বিতীয় রাকাআতে ইমাম সাহেব সূরা ফাতিহার সঙ্গে সূরা মিলানোর পর তিন তাকবির দিবেন। মুক্তাদিগণ ইমামের সঙ্গে সঙ্গে তিন তাকবির বলবেন এবং কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠাবেন। ৪র্থ তাকবিরে রুকুতে যাবেন। তার পর সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করবেন। ঈদের নামাজের আগে পরে কোনো নফল বা সুন্নত নামাজ নাই।

ঈদের নামাজের কিছু মাসায়িল-

ক. রমাদানুল মুবারকের পরে শাওয়ালের প্রথম তারিখ ফজরের পর ২ রাকাত ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। এ সালাত মুসাফির, অসুস্থ এবং নারীদের জন্য ওয়াজিব নয়। তবে তারা উপযুক্ত পরিবেশে থাকলে এবং ঈদগাহে আসতে পারলে সাওয়াব পাবে। (বাদায়ে সানায়েফি তারতীব আল শারইয়ে)

খ. ঈদের নামাজ আদায়ের সময় হলো শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখ সূর্য উদয়ের পর থেকে সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ার আগ পর্যন্ত। তবে বৃষ্টি, আবহাওয়া বা দুর্যোগ পরিবেশ ইত্যাদি কারণে মসজিদেও যদি ঈদের সালাত আদায় করা না যায় তাহলে ২রা শাওয়াল ওজর বশত ফজর থেকে ঠিক দ্বিপ্রহরের আগ পর্যন্ত আদায় করতে পারবে। দ্বিতীয় দিনও যদি আদায় করতে না পারে তাহলে এ সালাত আদায় করার আর সময় থাকবে না। (আল কাসানী)

আরও পড়ুনঃ   রমজানের রোজার ফজিলত, তাৎপর্য ও প্রয়োজনীয় মাসআলা : মুফতি আবু ওয়াফা মানসুর আহমাদ

গ. ঈদের নামাজে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো দেয়া ওয়াজিব। ঈদের সালাতে আযান ও ইক্বামত নেই। বাড়তি তাকবিরগুলোর সময় রাফ‘য়ে ইয়াদাইন তথা দুই হাত উঠানো সুন্নাত। ইমাম সাহেব তাকবিরগুলো মধ্যখানে তিন তাসবিহ পরিমাণ অবকাশ দিবেন। যাতে করে (বড় জামায়াতে) মুক্তাদিদের ইমামকে অনুসরণ করতে কোনো অসুবিধা না হয়।(আল কাসানী)

ঘ. কেউ যদি ঈদের সালাতে অংশগ্রহণে দেরি করে এবং ইমামের সাথে প্রথম রাকায়াতে অংশগ্রহণ করে কিন্তু অতিরিক্ত তাকবিরগুলো পেল না তাহলে প্রথমে তাকবিরে তাহরিমা বাধার পর নিজে নিজে প্রথম রাকায়াতের তাকবিরগুলো দিবে। কিন্তু তাকবিরগুলো দিতে গিয়ে যদি রুকু হারানোর সম্ভাবনা থাকে তাহলে তাকবিরে তাহরিমার পর তাকবির দিয়ে রুকুতে যাবে এবং তাসবিহ না পড়ে প্রথম রাকায়াতের অতিরিক্ত তাকবিরগুলো রুকুতে পড়বে (তখন তাকবির দিতে রাফ‘য়ে য়াদাইন বা হাত তুলতে হবে না)। এভাবে কেউ যদি দ্বিতীয় রাকাতে অংশগ্রহণ করে এবং অতিরিক্ত তাকবিরগুলো না পায় বরং রুকু পায় তাহলে রুকুতে রুকুর তাসবিহ না পড়ে দ্বিতীয় রাকায়াতের তাকবিরগুলো পড়বে এবং ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর উঠে গিয়ে প্রথম রাকায়াত যেভাবে ইমাম সাহেব আদায় করেছেন সেভাবে আদায় করবে।(তোহফাতুল ফোক্বাহা)

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের ঈদের নামাজ সহিহভাবে পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন

বিডি ইসলামের সঙ্গে থাকুন। রমজান সম্পর্কিত সুন্দর সুন্দর ইসলামী আলোচনা পড়ুন। কুরআন-হাদীস মোতাবেক আমলী জিন্দেগী যাপন করে রমজানের রহমত, বরকত ও মাগফেরাত অর্জন করুন। আমীন, ছুম্মা আমীন। সূত্রঃ জাগো নিউজ

পবিত্র ঈদুল ফিতর এর দিনের সুন্নতসমূহ।

÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷

পবিত্র ঈদুল ফিতর এর দিনের সুন্নত হলো-

(১) খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠা,

(২) গোসল করা,

(৩) মিসওয়াক করা,

(৪) সামর্থ অনুযায়ী নতুন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা,

(৫) আতর ব্যবহার করা,

(৬) নামাযের পূর্বে ছদকাতুল ফিতর আদায় করা,

(৭) ঈদুল ফিতর নামাযের পূর্বে কিছু মিষ্টান্ন খাওয়া

আরও পড়ুনঃ   পবিত্র লাইলাতুল কদরের ফযিলত ও আমল

(৮) তিন বা বেজোড় সংখ্যক খেজুর বা খুরমা খাওয়া,

(৯) এলাকার মসজিদে গিয়ে ফজরের নামায পড়া,

(১০) ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া,

(১১) এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা,

(১২) সকাল সকাল ঈদের নামায পড়ার জন্য যাওয়া,

(১৩) ঈদের নামায ঈদগাহে গিয়ে পড়া। সম্ভব না হলে মহল্লার (এলাকার) মসজিদে গিয়ে ঈদের নামায পড়া,

(১৪) আস্তে আস্তে নিম্নলিখিত দোয়া পড়তে পড়তে ঈদগাহে যাওয়া

الله اكبر الله اكبر لا اله الا الله والله اكبر الله اكبر ولله الحمد

(১৫) শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে খুশি প্রকাশ করা ইত্যাদি ঈদের সুন্নত।

সূত্রঃ (আলমগীরী, নূরুল ঈজাহ ও অন্যান্য ফিক্বাহর কিতাব সমূহ)

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two + 15 =