একামতে দ্বীনের কাজ করা সবার জন্য ফরজ

0
8
একামতে দ্বীন

আলাউদ্দিন ইমামী:
“দ্বীন” ও “ইসলাম” এ দুইটি ইসলামিক মৌলিক পরিভাষা। কুরআন ও হাদীসে বহুল ব্যবহৃত অন্যতম শব্দ হচ্ছে এ দুটি। ত্রে বিশেষে এর এক একটি শব্দের অর্থ ভিন্ন ভিন্নও হয়ে থাকে। যদিও এ দুটি শব্দ কোনো কোনো সময় একই অর্থ প্রকাশ করার জন্য প্রয়োগ হয়। যেমন দ্বীন ইসলাম বলে মানুষ ইসলাম ধর্মকেই বুঝায়।

দ্বীন শব্দটি কুরআন শরীফে প্রায় ৬০ বারের মতো ব্যবহৃত হয়েছে। বিভিন্ন বাক্যে বিভিন্ন অর্থে প্রয়োগ হয়েছে। যেমন কোনো সময় এর অর্থ আইন ও বিধান। কোনো সময় জীবন বিধান ও আনুগত্য। কোনো সময় কর্মফল ও প্রতিদান। এবং কোনো সময় দ্বীন ও শরিয়ত। কোনো সময় ইসলামী শরিয়ত ও অনুশাসন। কালামে পাকে দ্বীন শব্দটি একই অর্থে বার বার আবার ভিন্ন ভিন্ন অর্থেও ব্যবহার করা হয়েছে। এ শব্দটি বিশুদ্ধ, সত্য, অনুসরণ, নিয়ম এবং ন্যায় বিচার বুঝাবার জন্যও ব্যবহার হয়।

অনুরূপভাবে ইসলাম শব্দটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে কুরআন ও হাদীসে। কোনো সময় এর অর্থ শান্তি, আবার কোনো সময় এর অর্থ আনুগত্য করা। ইসলাম শব্দটির মূল ধাতু হচ্ছে সিলমুন আনুগত্য অথবা সালামুন শান্তি। এই দুইটি অর্থেই ইসলাম শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহর আনুগত্য রাসূলের আনুগত্য, আল্লাহর বিধান এবং আল্লাহ ওয়ালাদের আনুগত্যের মধ্যেই শান্তি। যেমন মসজিদে শান্তি বিরাজিত থাকে। যেহেতু যেখানে আল্লাহর বিধান মতো আল্লাহ, রাসূল, আল্লাহর বিধান এবং আল্লাহ ওয়ালাদের আনুগত্য করে সব কাজ সম্পাদন করা হয়। সমাজ ও রাষ্ট্রেও শান্তি আসবে যদি সেভাবে আল্লাহর বিধান, আল্লাহর রাসূলের এবং আল্লাহ ওয়ালাদের আনুগত্য করে সমাজ ও রাষ্ট্র চলে। এখন যারা রাজনীতি করে, রাষ্ট্র চালায়, তারা কিভাবে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে, তাদের ঈমান আমলই তো ঠিক নাই।

একামতে দ্বীন ও হেফাজতে ইসলামে কাজ করা সবার জন্য ফরজ :

শুধু আলেম ওলামা এবং ইসলামী দল নয়, সরকারি হোক অথবা বিরোধী দল, ইসলাম শিতি অথবা সাধারণ শিতি, রাজনৈতিক নেতা এবং ধনী গরিব যারাই নিজেদের মুসলমান বলে পরিচয় দেয়, তাদের সবার জন্য ফরজ, দ্বীনের একামত ও হেফাজত। আল্লাহ বলেন, তোমরা সবাই মিলে দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা ও বিজয়ীকর এবং সে ব্যাপারে গ্র“পিং ও মতবিরোধ করিও না। শিরিককারীদের একাজে ডাকলে তারা সেটিকে কঠিন মনে করে। আল-কুরআন। সূরা আশ শুরা, আয়াত-১৩। কারণ আল্লাহ নবীকে সঠিক জীবন ব্যবস্থা এবং পথ নির্দেশসহ এ জন্যই পাঠিয়েছেন, যেন অন্য সকল জীবন ব্যবস্থার উপর তিনি দ্বীন ইসলামকে বিজয়ী করেন। যদিও অন্য জীবন ব্যবস্থায় বিশ্বাসী শিরককারীরা দ্বীন ইসলামের বিজয়কে অপছন্দ করে। আল-কুরআন। সূরা ছফ। আয়াত নং-৯। এ আয়াত থেকে বুঝা যায়, দ্বীনকে বিজয়ী করে দ্বীনের অধীনে জীবন যাপন করা ফরজ। অন্য জীবন ব্যবস্থার অধীনে থাকা শিরক। যারা ইসলামকে বাদ দিয়ে অন্য জীবন ব্যবস্থার অধীনে থাকতে চায়, তারা শিরককারী। তাই শিরক মুক্ত হওয়ার জন্য রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক, সরকারি দল বিরোধীদল যারাই মুসলমান, তাদের সবাইকে অজু করার সময় বলতে হয় ইসলাম ছাড়া আর সব কুফরী বিধান ও মতবাদই বাতিল এবং জায়নামাজে দাড়িয়ে বলতে হয় আমি শিরককারী নই। কোনো রাজনৈতিক দল যদি আল্লাহর বিধান বাদ দিয়ে নিজেরা বিধান বানায়, তাহলে তারা নিজের দলকে আল্লাহর সমান বানায়। যেমন মন্দির এবং মাজারে সিজদাকারীগণ সিজদার মাধ্যমে মূর্তি ও মাজারকে আল্লাহর সমান বানায়। তাই এই কাজ শিরক এ রকম কাজ যেই করুন সে শিরককারী। তারা যদি পীর মাশায়েখও হয়। এই জন্য আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, আল্লাহর নাফরমানী করে কোনো মানবের হুকুম মানা যাবে না। আল-হাদীস। সকল গুনাহ আল্লাহ মাফ করবেন, কিন্তু শিরক গুনাহ মাফ করবেন না। আল-কুরআন। সূরা নিসা। আয়াত নং-১১৬।

আরও পড়ুনঃ   স্রষ্টার নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য সত্য ধর্ম ইসলাম এর সত্যতার অকাট্য প্রমাণ (ইসলামে অবিশ্বাসীদের নিকট জিজ্ঞাসা – এ কোরআন কি বর্বর অশিক্ষিত জাতির নিরক্ষর নবী দ্বারা রচিত হওয়া সম্ভব ? আপনাদের মুক্তমনা বিবেক কি বলে ? )

এ কারণেই আল্লাহর রাসূল (সা.) মদীনা শরীফে গিয়ে মদীনা সনদ রচনা করে, সকল সম্প্রদায়কে নিজের আস্থা ও প্রভাব বলয়ে নিয়ে এসে, নিজেই মদীনার রাষ্ট্র প্রধান, সমর প্রধান এবং প্রধান বিচারপতির পদ গ্রহণ করে, দ্বীন ইসলামকে বিজয়ী করে, একামতে দ্বীন ও হেফাজতে ইসলামের চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রিয় নবীর মাদানী জীবনের ভূমিকা প্রমাণ করে যে, একামতে দ্বীন ও হেফাজতে ইসলামের ইহাই কুরআন সুন্নাহ সম্মত বিশুদ্ধ পথ। একামতে দ্বীনই হেফাজতে ইসলামের নির্ভূল তরিকা। যারা নিজেদের মুসলমান মনে করে একামতে দ্বীন ও হেফাজতে ইসলামের জন্য প্রিয় নবীর এ পথে আসাই তাদের ইমানী দায়িত্ব এবং ফরজ। আল্লাহ বলেন, নবী প্রদত্ত ইসলামী নিয়ম পথ ও জীবন ব্যবস্থা ছাড়া, অন্য পথ বা তরিকা যদি কেউ অবলম্বন করে, তাদের সে পথ গ্রহণ করা হবে না। আল-কুরআন। সূরা আলে ইমরান। আয়াত নং-৮৫। আল্লাহর নবী (সা.) বলেন, তোমরা তোমাদের নবীর পথ ছেড়ে ভিন্ন নিয়ম ও পথ অবলম্বন করলে বিভ্রান্তি ও গোমরাহীতে নিপতিত হবে। আল-হাদীস। এই জন্যই আল্লাহ বলেন, রাসূল তোমাদের যাহা দিয়েছেন তা আঁকড়ে ধরো, আর যা নিষেধ করেছেন তা পরিহার কর। আল-কুরআন। সূরা হাশর। আয়াত নং-৭।

একামতে দ্বীন ও হেফাজতে ইসলামের, ইসলামিক কর্মসূচি :

সামাজিক অধঃপতন, নৈতিক বিপর্যয়, অমানবিক আচরণ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, নারী নির্যাতন এবং মানুষের চারিত্রিক ও ইসলামিক অবনতি দেখে সকল শ্রেণীর মুসলমানই আজ চিন্তিত। কিভাবে মানুষের মানবিক ও চারিত্রিক উন্নতি হবে? কিভাবে ইসলামের হেফাজত ও একামত তথা বিজয় হবে, এ নিয়ে সবাই অস্থির। প্রকৃতই যদি মানুষ এ ব্যাপারে কোনো সুফল পেতে চায়, তাহলে প্রিয় নবী (সা.)কেই আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এইজন্যই আল্লাহ মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তোমরা যারা আল্লাহর করুণা ও সন্তুষ্টি পেতে চাও, যারা পরকালের চিন্তা কর, তোমাদের সবার জন্য সব বিষয়ে আদর্শ হলো আল্লাহর রাসূল (সা.)। আল কুরআন। আয়াত নং-৬। সূরা মুমতাহানা। ইসলামের একামত এবং হেফাজতের জন্য প্রিয় নবী (সা.) এর গৃহিত কর্মসূচি হলো সঠিক এবং যুগোপযোগী কর্মসূচি। এ ব্যাপারে প্রিয় নবীর সুন্নতি তরিকার ভিত্তিতে নি¤œলিখিত কর্মসূচি গ্রহণ করাই সমীচীন। যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনে একামতে দ্বীন ও হেফাজতে ঈমান ইসলাম এ ব্যাপারে সুফল বয়ে আনতে পারে।

নিজেকে এবং অধীনস্ত জনকে লোভ মোহ ও জাগতিক ভয়ভীতি মুক্ত বানিয়ে নৈতিক, আধ্যাত্মিক ও খোদাভীতির গুণে সমৃদ্ধ করে ধ্বংস বিপর্যয় এবং জাহান্নাম থেকে রা করা। আল্লাহ বলেন, তোমরা নিজেকে এবং অধীনস্তকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। আল কুরআন। সূরায়ে তাহরিম। আয়াত নং-৬। সমাজের গরিব অসহায় এবং সত্যপ্রিয় মানুষগুলোকে ইসলামের প্রভাব বলয়ে নিয়ে আসা। সকল মানুষের সামনে ইসলামের সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ পরিচয় তুলে ধরা। নবীজি মক্কী জীবনের ১৩ বছরে এ কাজটি করেছেন।

আরও পড়ুনঃ   কোন দোয়া পাঠ করলে আল্লাহ পাক কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি দেন? জেনে নিন অর্থ ও ফজিলত সহ

সমাজকে ইসলামের মানবিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সুফল দান করার জন্য ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে নিজস্ব আস্থায় নিয়ে এসে, ইসলামকে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। নবীজি (সা.) মদীনায় গিয়ে সবাইকে আস্থায় নিয়ে এসে মদীনা সনদের মাধ্যমে ইসলামকে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, এ কাজটি করেছেন। ইহাই হলো ইসলাম হেফাজতের সঠিক পথ। তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা কর এবং এ ব্যাপারে গ্র“পিং করিও না। (আল-কুরআন। সূরা শুরা। আয়াত-১৩।) তোমরা তাদের মতো হইও না যারা বিভিন্ন গ্র“পে বিভক্ত হয়ে মত বিরোধে লিপ্ত হয়েছে। (আল-কুরআন। সূরা আলে ইমরান। আয়াত-১০৫।) আল্লাহ দ্বীনকে বিজয়ী করার হুকুম জারি করেছেন। কোনো দল যেমন তার দলের লোক অন্যের দলের অধীনে থাকা পছন্দ করে না, আল্লাহর মুমিন বান্দারা তাগুত আর কাফেরের অধীনে কাজ পছন্দ করে না। তার কারণ কুফর আর তাগুতের অধীনে থেকে ইসলাম হেফাজত দূরে থাক ঈমানও হেফাজত করা যায় না। তখন আল্লাহর ভয় বাদ দিয়ে কুফর আর’ তাগুতের ভয়ে নীরব ও সন্তস্ত্র থাকতে হয়। নাউজুবিল্লাহ। ইহাও এক ধরনের শিরক।

যে সব ইসলামী দল ও মহলের পীর মাশায়েখ, আল্লামা, মাওলানাদের, দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য জনবল ও ধনসম্পদ আছে, তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংকীর্ণতা পরিহার করে, ছোট বড় সকল ইসলামী দল এবং সত্য ও শান্তিপ্রিয় ডান বাম পন্থী দল এবং অমুসলমানদের সাথে নিয়ে স্ব-স্ব ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকারের স্বীকৃতি দিয়ে, সামাজিক নিরাপত্তার প্রত্যয়ে, দেশ ও সমাজে ইসলামী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ গ্রহণ করা। নবীজি মদীনায় তাই করেছেন। এ ব্যাপারে আমরা রাজনীতি করি না বললে, কেনো রাজনীতি করি না তা বুঝিয়ে বলতে হবে। পীর মাশায়েখ এবং আল্লামা মাওলানাদের এ কথা থেকে সাধারণ মানুষ যদি রাসূলের ইসলামী রাজনীতি করা না জায়েজ মনে করে, তা বড় গুমরাহী এবং গজবের কাজ হবে।

সমাজ ও রাষ্ট্রে বিরাজিত ইসলাম, সমাজ, মানবতা, রাষ্ট্র, নারী, শ্রমিক এবং গরিবের স্বার্থ বিরোধী সকল কর্মতৎপরতার ব্যাপারে জনমত গঠন এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলা ও প্রতিবাদ করা। ইসলাম, সমাজ, রাষ্ট্র, মানবতা ও গরিরের জন্য কল্যাণকর সকল কাজে সহযোগিতা করা। আল্লাহ বলেন, তোমরা পরস্পর ভালো ও তাকওয়ার কাজে সহযোগিতা কর, মন্দ এবং সীমা লঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করবে না। আল্লাহর নবী (সা.) বলেন, তোমরা অন্যায় দেখলে প্রতিরোধ কর, সম্ভব না হলে প্রতিবাদ কর, তাও যদি না পার অন্তরে ঘৃণা কর, (তার থেকে দূরে থাক)। আল-হাদীস।

মসজিদ, মাদরাসা, মক্তব, শিা প্রতিষ্ঠান, কাব সমিতির এলাকায় ইসলামের জ্ঞান ও পরিচয়ের এবং ইসলামী চরিত্রের বিকাশ ও প্রচারের জন্য, ইসলাম বিরোধী সকল রকমের অপকর্মের বিরুদ্ধে জনমত গঠন ও প্রতিরোধ সৃষ্টির জন্য, মাহফিল, আলোচনা সভা, সেমিনার, ঘরোয়া বৈঠক এবং মতবিনিময় সভার আয়োজন করা। ব্যাপক আকারে ইসলামী দিবসগুলো পালনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। ইসলামী মনিষীদের জীবনী আলোচনার ব্যবস্থা করা।

আরও পড়ুনঃ   ঋণ থেকে মুক্তি পেতে মহানবী (সা.) যা করতে বলেছেন

ইসলামী মিডিয়া সৃষ্টি করা। ইসলামপন্থী সকল মিডিয়া সমন্বয়ের মাধ্যমে একামতে দ্বীন ও হেফাজতে ইসলামের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন করা। ইসলামী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ভূমিকা রাখা। ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রচার করা এবং মিডিয়ায় ইসলামী অনুষ্ঠান, সভা সেমিনার, ওয়াজ মিলাদ ও জুমার নামাজ সহ ইসলামী দিবসও আয়োজন সমূহের ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা। ইসলাম বিরোধী সকল অপসংস্কৃতি এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠন ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা। ইসলাম বিরোধীদের অর্থে ও পরিকল্পনায় পরিচালিত, সকল দেশী-বিদেশী, ইসলাম বিরোধী এবং ইসলামের ব্যাপারে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিতে লিপ্ত মিডিয়াগুলোর ব্যাপারে জনগণ ও নতুন প্রজন্মকে সচেতন করা। আল্লাহর নবী (সা.) ইসলাম বিরোধী কবিদের বিরুদ্ধে ইসলামী কবিদের অনুমোদন দিয়ে এ কাজ করেছেন।

সকল ইসলামী দল ও মহল স্ব-স্ব কর্মসূচি বহাল রেখে, নিজস্ব অবস্থানে থেকে একামতে দ্বীন ও হেফাজতে ইসলামের জন্য তাওহীদ রেসালাত এবং এত্তেহাদ মায়াল এখতেলাফের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে হেফাজতে ইমান, ইসলাম ও একামতে দ্বীনের জন্য, জনমত গঠন এবং উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং সকল রকমের ঈমান ও ইসলাম বিরোধী কাজের ব্যাপারে জাতিকে সচেতন ও সক্রিয় করা। নিজেদের মধ্যে কোনো বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা মিডিয়া ও জনসম্মুখে প্রকাশ না করে নিজেরা একটি শরয়ী নিরপেক্ষ শালিশি বোর্ড গঠন করে তার মাধ্যমে ফয়সালা করা। আল্লাহ বলেন, তোমরা কোনো ব্যাপারে বিবাদে লিপ্ত হলে তা আল্লাহ এবং রাসূলের কাছে সমর্পণ কর। আল কুরআন। সূরা নিসা আয়াত ৫৯।

মসজিদ, মাদরাসা, খানকাহ ইসলামী দল, মহল ও ইসলামী প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে এবং সমাজে যেসব অশিতি, অসহায়, অভাবী, সমস্যা ও বিপদগ্রস্ত নারী পুরুষ আছে, তাদের শিতি করে গড়ে তোলার জন্য তাদের সমস্যা ও অভাব দূর করার এবং তাদের একামতে দ্বীন ও হেফাজতে ইসলামের জন্য গড়ে তোলার ব্যাপারে সম্মিলিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা। আল্লাহর নবী (সা.) বলেন, সেই ভালো মানুষ যে মানুষের উপকার করে। তিনি আরো বলেন, যারা সমস্যাগ্রস্ত মানুষের সমস্যা দূর করার জন্য চেষ্টা করে তারা সেই লোকদের মতো যারা সারারাত এবাদত করে সারাদিন রোজা রাখে। আল হাদীস।

পীর মাশায়েখ, আলেম-ওলামা এবং ইসলামী দল একামতে দ্বীন ও হেফাজতে ইসলামের জন্য ঐক্যবদ্ধ না হওয়ায়, দেশ, ধর্ম ও মানুষের এবং পরিণামে নিজেদের কি তি হচ্ছে এ বিষয়টি বুঝার মতো হেদায়েত আল্লাহ আমাদের আলেম-ওলামা ও পীর মাশায়েখদের দান করুন। আমীন। হানিফী মাজহাবের ইমাম, ইমামে আজম আবু হানিফা মুহাম্মদ নোমান বিন সাবেত বলেছেন, “যে যুগের অবস্থা সম্পর্কে বুঝে না, সে হল মূর্খ।” তাই বর্তমান সময়ে যুগের চাহিদা কি এবং একামতে দ্বীন ও হেফাজতে ইমান, ইসলামের জন্য করণীয় কি, আল্লাহ সবাইকে বুঝার এবং সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার তাওফীক দিন। আমীন।

বস্তুতপে একামতে দ্বীন ও হেফাজত ইসলাম হচ্ছে ইসলাম রার এবং ঈমানের পথে চলার, ঈমানের ভিত্তিতে জীবন গড়ার জন্য অপরিহার্য বিষয়। ইহা ছাড়া ঈমান রা করা খুবই কঠিন। নাউজুবিল্লাহ।

লেখক : খতিব, বান্দরবান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ

Comments

comments