কৃষিকাজ ও কৃষকের মর্যাদা

0
4
কৃষিকাজ ও কৃষকের মর্যাদা
মাওলানা মুনীরুল ইসলাম:
ইসলামে কৃষিকাজের গুরুত্ব এবং কৃষকের অনেক মর্যাদা রয়েছে। পৃথিবীতে আগমনকারী প্রায় সব নবী-রাসূলই কৃষি সংক্রান্ত কাজ করেছেন। আদিপিতা ও প্রথম মানব হজরত আদম (আ.) পৃথিবীতে এসে প্রথম কৃষি কাজ শুরু করেন। তিনি নিজের হাতে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে কৃষির ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন। নিজ হাতে খেজুর গাছ রোপণ করেছেন। সাহাবায়ে কেরামকে তিনি কৃষি কাজে উৎসাহিত করেছেন। অনেক সাহাবি ক্ষেত-খামারে কাজ করে, ফলের বাগান করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রতিটি মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, পথ্য, শিক্ষা সরঞ্জাম, পানি, বিদ্যুৎ, যানবাহন সবকিছুর মূল উৎপাদন কৃষি থেকেই আসে। ভূমি বলতে পাহাড়-পর্বত, নদীনালা, সাগর, ভূগর্ভস্থ সম্পদ সবকিছুকেই ভূমি বোঝায়। আর বর্তমানে জমি চাষসহ পশু পালন, মৎস্যবিজ্ঞান এবং উদ্যান পালনও কৃষিবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত।
ইসলামে কৃষিকাজের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনিই তোমাদের জন্য মাটিকে ব্যবহারের উপযোগী করে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা এতে বিচরণ করো এবং তার দেওয়া রিজিক আহার করো, পুনরুত্থান তাঁর কাছেই হবে’ (সূরা মুলক : ১৫)। হাদিসে আছে_ হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জমিনের প্রচ্ছন্ন ভাণ্ডারে খাদ্য অন্বেষণ করো।’ দেশের ভূমি যেন পরিত্যক্ত বা অনাবাদি না থাকে সেজন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা জমি আবাদ করো, আর যে ব্যক্তি নিজে আবাদ করতে না পারে সে যেন ভূমিটিকে অন্য ভাইকে দিয়ে দেয়, যাতে সে আবাদ করে ভোগ করতে পারে।’-বুখারি শরিফ
ইসলাম বর্গা চাষকেও অনুমোদন দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি জমি সেচ করা, চারা রোপণ এবং ফসল ফলানোর জন্য নিজের জমি অন্যের কাছে হস্তান্তর করে এবং বিনিময়ে উৎপাদিত পণ্যের একটি নির্দিষ্ট অংশগ্রহণ করে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) খায়বারের লোকজনের সঙ্গে এই মর্মে চুক্তি করেছিলেন যে, তারা উৎপাদিত গাছ বা ফল-ফসলের অর্ধেক দিয়ে দেবে।’ -মুসলিম শরিফ
দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কৃষির সঙ্গে শিল্পের বন্ধুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ তৈরি হওয়া প্রয়োজন। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী (রহ.) বলেছেন, ‘ওই অর্থনীতি কখনও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না, যেখানে কৃষিকে অবজ্ঞা করে শিল্পকে অস্ত্রের জোরে বা গায়ের জোরে টিকিয়ে রাখা হয়। এরূপ অর্থ ব্যবস্থার ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী।’ পৃথিবীতে যেমন কৃষি কাজের গুরুত্ব ও উপকারিতা রয়েছে, তেমনি পরকালেও এর গুরুত্ব ও সওয়াব রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি হালাল এবং উপযুক্ত উপায়ে জীবিকা আহরণের চেষ্টা করল, সে আল্লাহর সঙ্গে এমনভাবে দেখা করবে যেন তার মুখ পূর্ণ চাঁদের মতো হবে এবং যে ব্যক্তি ঔদ্ধত্যের সঙ্গে ও সীমা লঙ্ঘনের মাধ্যমে তা চাইবে, সে এমন অবস্থায় আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে যেন আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত।’ -বুখারি শরিফ
কৃষির সঙ্গে কৃষকের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সমাজে কৃষিকাজের যেমন গুরুত্ব রয়েছে, কৃষির কারিগর কৃষকেরও অনেক মর্যাদা রয়েছে। কৃষক অনেক কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলান। মূলত কৃষিজ পণ্য থেকেই সব খাদ্য তৈরি হয়। এত পরিশ্রমের পরও কৃষকরা অত্যন্ত সহজ-সরল জীবনযাপন করে থাকেন। তাদের মধ্যে কোনো অলসতা নেই। ভোরে ওঠে তারা মাঠের কাজে মনোযোগী হয়ে যান।
কবি ও লেখক

Comments

comments

আরও পড়ুনঃ   ছাত্রজীবন-শিক্ষার গুরুত্ব, পর্ব-২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

14 + twelve =