কোরবানির মাংস গ্রহণে সতর্কতা

0
10
মাংস গ্রহণে সতর্কতা
আর কিছু দিন পরই ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ। আর কোরবানির ঈদ মানেই হলো রেড মিট বা লাল মাংসের সম্ভার এবং এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মুখোমুখি হওয়া। গরু, খাসি, ভেড়া, মহিষ, উট ও দুম্বার মাংসকে বলে রেড মিট বা লাল মাংস।
আর এ গোশতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খারাপ কোলেস্টেরল, যা হৃদপিণ্ডের প্রধান শত্রু। লাল মাংসে বিদ্যমান খারাপ চর্বি বা কোলেস্টেরল গ্রহণের ফলে হৃদপিণ্ডের রক্তনালী বা ধমনীর অভ্যন্তরে চর্বি জমে তা সরু হয়ে যায়, ফলে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং পরিণামে ঘটে হার্ট অ্যাটাক। তাই কোরবানির মাংস গ্রহণে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে, নিতে হবে চিকিত্সকের পরামর্শ।
কোরবানির মাংস থেকে চর্বি বাদ দেয়ার কৌশল
lপশু কোরবানির পর মাংস কাটার সময় মাংসের গায়ে লেগে থাকা চর্বি যতটা সম্ভব কেটে বাদ দিতে হবে।
lমাংস রান্নার আগে মাংসকে আগুনে ঝলসে নিলে কিছু চর্বি গলে পড়ে যায়। এভাবে মাংসকে চর্বিমুক্ত করা যেতে পারে।
lমাংসকে একটু হলুদ-লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে রেফ্রিজারেটরে ঠাণ্ডা করলে কিছুটা চর্বি মাংস থেকে বেরিয়ে এসে জমাকৃত অবস্থায় থাকে। এ অবস্থায় বাড়তি চর্বিটুকু একটা চামচ দিয়ে আঁচড়ে সহজে বাদ দেয়া যায়।
lএ ছাড়া মাংসকে একটি র্যাক বা ঝাঁজরা পাত্রে রেখে অন্য একটি পাত্রের ওপর বসিয়ে চুলায় দিলে নিচের পাত্রে মাংসের ঝরে যাওয়া চর্বি জমা হবে। এ পদ্ধতিতে মাংস থেকে অনেক চর্বি বাদ দেয়া যায়।
অনেকে ঈদে মুরগির মাংস খেয়ে থাকে। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তা হলো মুরগির মাংস খাওয়ার সময় অবশ্যই মুরগির চামড়া বাদ দিয়ে খেতে হবে, কারণ একটা মুরগিতে যে পরিমাণ চর্বি থাকে তার অর্ধেকটাই আসে চামড়া থেকে। একই সাথে মগজ ও কলিজা বাদ দিয়ে খেতে হবে।
কোলেস্টেরল ভাবনা
কোরবানির মাংস খাওয়ার সময় অবশ্যই কোলেস্টেরলের কথা মনে রাখতে হবে, কারণ মন্দ কোলেস্টেরল নীরবে মৃত্যু ডেকে আনে। যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি কিংবা বিপদসীমার কাছাকাছি, তারা চিকিত্সকের সাথে পরামর্শ করে মাংস খাবেন। যাদের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে কিংবা ৩০ বছর বয়সের পর যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ২০০-এর বেশি, তাদেরকে রেড মিট বা লাল মাংস একেবারেই না খাওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন।
তবে কোরবানিতে যেহেতু মাংস খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে, সুতরাং একটু বুঝেশুনে খেতে হবে। যারা হৃদরোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি তারা পশুর কলিজা, হৃদপিণ্ড ও মগজ খেতে পারবেন না। একইভাবে ডিমের তৈরি যেকোনো খাবার তৈরির সময় কুসুম বাদ দিতে হবে। এসব রোগীর ক্ষেত্রে পোলাও-বিরিয়ানির পরিবর্তে খিচুড়ি বেছে নেয়া উত্তম।
কোরবানিতে কোলেস্টেরল এড়িয়ে চলার আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পন্থা হলো-
lরান্নার কাজে ঘি বা বাটার অয়েল ব্যবহার না করে তার পরিবর্তে সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করা।
lফিরনি, পায়েস, মিষ্টান্ন প্রভৃতি তৈরির জন্য স্কিমড মিল্ক বা ননীতোলা দুধ ব্যবহার করা্
lদুধজাত খাবার কম রেখে খাদ্য তালিকায় প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল রাখা।
lকোরবানিকে ভোজনের উত্সব হিসেবে না দেখে এবং সেই আনন্দে না মেতে একে ত্যাগের মহিমা হিসেবে দেখে নিজেকে সংযত রাখা।
 ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল
লেখক : হাড়-জোড়া, বাত-ব্যথা ও আঘাতজনিত রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন
চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি.
২ ইংলিশ রোড, ঢাকা।

Comments

comments

আরও পড়ুনঃ   পর্নোগ্রাফী দেখলে মস্তিষ্ক যেভাবে বদলে যায়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − thirteen =