ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য

0
13
ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য
বিঃ দ্রঃ আগে পড়ে আসতে পারেন পর্ব ১ , পর্ব২ এবং পর্ব ৩
দেখা যাচ্ছে ছাত্রজীবন মোটেও হেলাফেলার সময় নয়। এ সময়ে যারা জ্ঞানার্জন, চরিত্র গঠন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সৃজনশীলতার বিকাশে যত্নবান হয় জীবনের সফলতা তাদের জন্যই অপেক্ষা করতে থাকে। অন্যদিকে এ সময়ে যারা হেলাফেলায় সময় নষ্ট করে, নেশাগ্রস্থ হয়ে ও অসৎ বন্ধু-বান্ধবদের পালায় পড়ে বেঘোরে সময় নষ্ট করে এবং সময়ের কাজ সময়ে করতে পিছপা হয়, পরবর্তী জীবনে তাদের জন্য কেবল আফসোস, হতাশা ও অভিশাপই অপেক্ষা করতে থাকে। অতএব আমরা এ সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, ছাত্রজীবন মোটেই উদ্দেশ্যহীন ও দায়িত্বহীন জীবনের নাম নয়। বরং ছাত্রজীবনেই পালন করতে হয় মানব জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আর সে দায়িত্ব হচ্ছে নিজেকে গড়ার দায়িত্ব। পৃথিবীকে গড়তে হলে সবার আগে নিজেকে গড়াই হচ্ছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
আবার এই নিজেকে গড়া বা আত্মগঠনের জন্যই প্রয়োজন জীবন জিজ্ঞাসা বা জীবনবোধকে সমৃদ্ধ করা। জীবন ও জগৎকে জানাই হচ্ছে জীবনবোধ। নিজের জীবনকে ও জগৎকে যে যতবেশি জানতে ও বুঝতে পারে তার জীবনবোধ তত সমৃদ্ধ হবে। সুতরাং আমরা বলতে পারি একজন ছাত্রের দায়িত্ব হচ্ছে জীবন ও জগৎ সম্পর্কে জানা বা জ্ঞান অর্জন করা এবং সে অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তোলা।
পৃথিবীতে জ্ঞান বা তথ্য প্রবাহের রয়েছে দুটি প্রধান উৎস। একটি উৎস হচ্ছে মানুষের তৈরি। মানুষকে আল্লাহ বুদ্ধিবৃত্তি বা চিন্তাশক্তি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ তার পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের দ্বারা পর্যবেক্ষণ, চিন্তা-ভাবনা, গবেষণা, ধারণা, কল্পনা ও অভিজ্ঞতা এবং ইতিহাস-ঐতিহ্যের আলোকে জীবন ও জগৎ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে। এভাবে চিন্তা-গবেষণা ও আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষ জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিরাট ভান্ডার গড়ে তুলেছে। জীবন ও জগতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানুষের যুগ-যুগান্তরের অব্যাহত চিন্তা-ভাবনার ফলেই গড়ে উঠেছে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা, গড়ে উঠেছে জীবন ও জগৎ সম্পর্কে বিভিন্ন মতবাদ। এ হচ্ছে মানুষের নিজস্ব চিন্তা-প্রসূত জ্ঞান। একে বৈষয়িক, বস্তুগত বা বস্তুনিষ্ঠ জ্ঞানও বলা হয়।
জীবন ও জগৎ সম্পর্কে যথার্থ ধারণা লাভের আরেকটি উৎস হচ্ছে স্রষ্টা প্রদত্ত প্রত্যক্ষ জ্ঞান বা ঐশী প্রত্যাদেশ। এ জ্ঞান আমরা ধর্মের মাধ্যমে লাভ করে থাকি। ইসলামের পরিভাষায় এ জ্ঞানকে বলা হয় ওহীর জ্ঞান। বৈষয়িক বা বস্তুগত যে জ্ঞান মানুষ তার নিজস্ব চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে লাভ করে তাও অবশ্য পরোক্ষ ভাবে আল্লাহরই দেয়া। কারণ মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি, চিন্তাশক্তি, মনন ও সৃজনশীলতা আল্লাহই দিয়েছেন। তাছাড়া আল্লাহ প্রতিনিয়ত এলহামের মাধ্যমে মানুষকে জ্ঞান-গবেষণার ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন। তবে সে জ্ঞান বা ইলহাম অত্যন্ত সূক্ষ ও ইঙ্গিতপূর্ণ এবং তা যথেষ্ট সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নয়। ইলহামের জ্ঞান মূলত সম্পূরক জ্ঞান কিন্তু মূল জ্ঞান হল ওহীর জ্ঞান। আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন মানুষকে জীবন ও জগৎ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান প্রদান করার জন্য বুদ্ধিবৃত্তি, বিবেক ও ইলহাম প্রদান ছাড়াও নবী-রাসূলদের মাধ্যমে ওহী বা প্রত্যাদেশ প্রেরণ করেছেন।
এ জ্ঞান মানুষ তার সীমিত চিন্তাশক্তি ও বোধগম্যতার দ্বারা অর্জন করতে পারে না। এ কারণে জ্ঞানের পূর্ণতার জন্য, জীবন ও জগৎ সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ এবং জীবনবোধের পূর্ণতার জন্য মানুষের নিজস্ব উদ্ভাবিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাশাপাশি ধর্মীয় তথা ওহীর জ্ঞান লাভ করাও জরুরী। কারণ প্রথমত: বৈষয়িক জীবন সম্পর্কে মানুষের যে জ্ঞান তা সবই বস্তুগত। দৃশ্যমান জগতের বাইরে তার আর কোন জ্ঞান নেই। দৃশ্যমান জগতের বাইরেও যে জগৎ রয়েছে, বেহেশত, দোযখ ইত্যাদি রয়েছে এবং সেই মহাজগতিক বা পারলৌকিক জীবনের সাথে আমাদের এই পার্থিব জীবনের যে একটি যোগসূত্র রয়েছে; সে সম্পর্কে অজ্ঞতা ও বোধহীনতার কারণে মানুষের জীবনবোধে অপূর্ণতা থেকে যেতে পারে।
জীবনবোধের পূর্ণতা এমনকি বৈষয়িক জীবনকে সফল ও তাৎপর্যপূর্ণ করার প্রয়োজনেই আপাত অবোধ্য এবং আমাদের পরিচিত আকাশ-পৃথিবীর বাইরের বিশাল-বিস্তৃত জগৎ সম্পর্কেও যথার্থ ধারণা থাকা প্রয়োজন এবং কেবল মাত্র ওহীর জ্ঞান বা ধর্মীয় জ্ঞানের মাধ্যমেই আমরা তা লাভ করতে পারি।
জীবন ও জগৎ সম্পর্কে মানুষ তার নিজস্ব পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যা জানতে পারে তার চেয়ে এই জীবন ও জগতের যিনি স্রষ্টা, এই মানুষ ও বিশ্বজগৎ সম্পর্কে তিনি নিশ্চয়ই সবচেয়ে বেশি জানেন এবং তাঁর দেয়া প্রত্যক্ষ জ্ঞানই যে সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তাতে সন্দেহ থাকতে পারে না। কাজেই, তিনি যখন বলেন জীবনের সত্যিকার তাৎপর্য বুঝতে হলে এবং সত্যিকার সফলতা পেতে হলে মানুষের উচিত সেই অদৃশ্য-অজানা জগৎ সম্পর্কেও জানা এবং সে অনুযায়ী জীবনবোধকে বিন্যস্ত করা, তখন আমাদের বিবেক স্বাভাবিক ভাবেই স্রষ্টার আহবানেই সাড়া দিবে।
স্রষ্টা ও পালনকর্তা হিসেবে আমাদের ভালো-মন্দ এবং আমাদের প্রয়োজন সম্পর্কে যেহেতু তিনি সবচেয়ে বেশি ওয়াকিবহাল; মানুষের বস্তুগত প্রয়োজনের যাবতীয় চাহিদার যোগান যেমন তিনি দিচ্ছেন, সেই একই কারণে বস্তুগত দ্রব্যের পাশাপাশি জীবন ও জগৎ সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবোধ ও আধ্যাত্মিক জীবনের পথ-নির্দেশও তিনি আমাদেরকে দিয়েছেন। আল্লাহর দেয়া সেই পূর্ণাঙ্গ হেদায়াত বা ঐশী জীবন বিধানের নামই হল ইসলাম। বস্তুগত জ্ঞান আহরণের পাশাপাশি তাই জীবন ও জগৎ সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে এবং সত্যিকার ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবোধ গড়ে তোলার জন্য তাই ছাত্রজীবনের দায়িত্ব হচ্ছে নিজের ধর্ম সম্পর্কেও জানা এবং সে অনুযায়ী যথার্থ জীবনবোধ গড়ে তোলা।
বিশেষ করে আত্মগঠনের তথা নৈতিক শিক্ষার ভিত্তিতে একজন সত্যিকার বিবেকবান মানুষ হওয়ার জন্য ধর্ম শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। ধর্ম তথা নৈতিকতা মুক্ত সেকুলার শিক্ষাব্যবস্থা মানুষকে যথার্থ মানুষে পরিণত করতে যে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে তার প্রমাণ আজ বিশ্ববাসী হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। মিথ্যা, প্রতারণা, স্বার্থপরতা, অন্যায়ভাবে অপরের সম্পদ গ্রাস, নিষ্ঠুরতা, নির্লজ্জতা, বিশ্বাস-ঘাতকতা, যুদ্ধ, জিঘাংসা, সন্ত্রাস, রাহাজানি ইত্যাদি আজ মানব চরিত্রের সাধারণ বৈশিষ্টে পরিণত হয়েছে। দূর্নীতি ও সন্ত্রাস আজ আমাদের জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তি থেকে শুরু করে মন্ত্রী, এমপি, আমলা, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, বিচারক, পুলিশ, ব্যবসায়ী সহ সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আজ ব্যাপকভাবে দূর্নীতীগ্রস্থ। এসব লোকদের সবাই কিন্তু অত্যন্ত উচ্চ শিক্ষিত। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, রাহাজানি ইত্যাদি অপকর্মের সাথেও আজকাল তথাকথিত আধুনিক শিক্ষিত ছেলেপেলেদেরই সম্পৃক্ত থাকতে দেখা যায়। এ সবই ধর্ম-বিমুখ নাস্তিক্যবাদী শিক্ষার বিষময় ফল।
ধর্মমুক্ত সেকুলার শিক্ষাব্যবস্থা পরজীবনের ধারণা থেকে মুক্ত। সেকুলার জীবন-দর্শন মানুষকে বানরের বংশধর মনে করে। এ শিক্ষা মানুষকে ইতর প্রাণীর থেকে খুব বেশি মর্যাদা দেয় না। মানুষের সত্যিকার পরিচয়, তার মর্যাদা এবং দায়িত্ব-কর্তব্য এ শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ণিত হয় না। নাস্তিক্যবাদী সেকুলার শিক্ষাব্যবস্থা মানুষকে শুধু ভোগবাদী ও দুনিয়াপূজারীই করে তোলে। বস্তুবাদী শিক্ষা ও জীবন দর্শন মানুষের দুনিয়াবী জিন্দেগী ও দৃশ্যমান জগৎকেই একমাত্র সত্য ও চূড়ান্ত বলে মনে করে। এই দৃশ্যমান জগতের বাইরের বিশাল-বিস্তুীর্ণ পারলৌকিক জীবনের অস্তিত্ব ধর্মমুক্ত সেকুলার শিক্ষা-দর্শন স্বীকার করতে চায় না।
যার কারণে সেকুলার শিক্ষা ও দর্শনে শিক্ষিত লোকেরা দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ও বিত্ত-বৈভবকেই জীবনের চূড়ান্ত সফলতা জ্ঞান করে এবং তাদের শিক্ষা-দর্শনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হয়ে ওঠে অর্থ উপার্জন। এ ধরনের শিক্ষা দিয়ে অনেক জ্ঞানী-গুণী তৈরী হলেও মানুষ তৈরী হয় খুবই কম। জ্ঞানী হওয়ার পাশাপাশি সত্যিকার মানুষ হয়ে ওঠার জন্য ধর্মভিত্তিক শিক্ষা অপরিহার্য। মানুষের সত্যিকার পরিচয় এবং মানবীয় বৈশিষ্ট গুলোর যথার্থ বিকাশ আমরা কেবল ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমেই লাভ করতে পারি।
একটা মানুষ তার দায়িত্ব সম্পর্কে যখন সচেতন হয়ে ওঠে তখন তার কর্তব্য বা করণীয় নির্ধারণে সে সাধারণত ভুল করে না বা কর্তব্য নির্ধারণ তার জন্য অনেক সহজ হয়ে ওঠে। একজন ছাত্র যখন উপলব্ধি করতে পারবে যে জ্ঞানার্জন এবং আত্মগঠনই হচ্ছে তার মূল দায়িত্ব তখন তার করণীয় হবে অধ্যয়ন ও আত্মগঠনে মনোযোগী হওয়া। আসলে এটিই একজন ছাত্র বা ছাত্রীর প্রধান কর্তব্য। অধ্যয়নকে সাধনা, তপস্যা বা পবিত্র ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবেই নেয়া উচিত।
হিন্দু ধর্মে যেমন বলা হয়েছে – ছাত্রনং অধ্যয়নং তপঃ। অর্থাৎ অধ্যয়নই ছাত্রের তপস্যা। ছাত্রজীবনে পড়া-শোনার চাইতে আর কোন কিছুকে গুরুত্ব দেয়া উচিত নয়। যতই দেশের কথা, জাতির কথা আর যত আন্দোলনের কথাই বলা হোক না কেন ছাত্রত্বকে বাদ দিয়ে কোন ছাত্র-রাজনীতিকেই সমর্থন দেয়া যায় না। কারণ মেধাশূন্য নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত জাতির জন্য অভিশাপই বয়ে আনে। তাছাড়া অজ্ঞানতা ও মুর্খতার কারণেই জীবন ও জগৎ সম্পর্কে একপেশে ধারণা, কুপমন্ডুকতা, গোঁড়ামী, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, অন্ধ বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা ও সন্ত্রাসবাদ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। এ কারণে ইসলামে জ্ঞানার্জনের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। নারী পুরুষ সবার উপর জ্ঞানার্জনকে নামাজ-রোজার মতই ফরজ বা অত্যাবশ্যকীয় ঘোষণা করা হয়েছে। অবশ্য এ বিষয়ে আমরা একটি পৃথক প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করব।
এখানে আমরা শুধু এটুকুই বলতে চাই যে, ছাত্রজীবনে ছাত্রত্বকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া উচিত এবং এই ছাত্রত্ব তথা অধ্যয়নের তুলনায় আর কোন বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া মোটেই উচিত নয়, বিশেষ করে রাজনীতিকে তো নয়ই। অনেকে আবার ছাত্রজীবনেই পয়সা রোজগারের ধান্দা করে এবং ছাত্রজীবনেই পার্ট-টাইম চাকরি খোঁজে। এটিও ঠিক নয়। শিশুশ্রমের মত এটিও আইন করে নিষিদ্ধ করা উচিত। একান্তই যারা অসহায় তাদের সাহায্যে বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত কিন্তু তাদের অসহায়ত্বের সুযোগে তাদের ছাত্রত্ব ধ্বংস করা উচিত নয়। মোটকথা নারীরা যেমন তাদের সতীত্ব রক্ষায় সচেষ্ট থাকে, একজন ছাত্রেরও উচিত তার ছাত্রত্ব রক্ষায় তেমনিভাবে সজাগ ও সচেষ্ট থাকা। এটা হল ছাত্রজীবনের প্রধান কর্তব্য।
দ্বিতীয় কর্তব্য হল অত্যন্ত একনিষ্ঠতার সাথে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা। কারণ ধর্মীয় অনুশাসন হল এ সময়ে একজন ছাত্রের জন্য রক্ষাকবচ স্বরূপ। এ রক্ষাকবচ তাকে সকল শয়তানী কুমন্ত্রণা, বিভ্রান্তি ও বিপদগামীতার হাত থেকে রক্ষা করবে। নফসের তাড়না, কুপ্রবৃত্তি ও কু-অভ্যাস থেকে রক্ষা করে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ও সমৃদ্ধি দান করবে। এর ফলে তার আত্মগঠন তথা জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিক ও আত্মিক উন্নয়ন সহজ হবে। বলাবাহুল্য শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্যই হল মানুষকে শারীরিক ও আত্মিক উন্নতির মাধ্যমে ইনসানে কামেল বা সর্বোচ্চ নৈতিক আদর্শে উন্নীত করা। আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-এর শিক্ষাই ছিল এটি। তিনি বলেছেন, ‘নৈতিক চরিত্রের পূর্ণতা বিকাশের জন্যই আমাকে পাঠানো হয়েছে’।
এ ব্যাপারে পবিত্র ইসলাম ধর্মে তো রয়েছে চমৎকার ব্যবস্থাপনা। ইসলামের মহান আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে যে কোন জাহেলী সমাজেই একটি নৈতিক বিপ্লব ঘটিয়ে দেয়া সম্ভব। যেমনটি করেছিলেন মহানবী। যে সমাজ ছিল একটি চরম জাহেলী সমাজ, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, ছিনতাই, হত্যা, ইতরতা ছিল যে সমাজের মানুষের সাধারণ বৈশিষ্ট, যে সমাজ ছিল শত গোত্র বিভক্ত, গোত্রে গোত্রে বিবাদ, সংঘাত-সংঘর্ষ ও সন্ত্রাস ছিল যেখানকার নিত্য দিনের ঘটনা, এমনি একটি ব্যর্থ ও অকার্যকর সমাজ-রাষ্ট্রকে এবং সে সমাজের সেই ইতর-বর্বর মানুষগুলোকে মানবতার জন্য চরম আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করলেন কোন যাদুমন্ত্রে? সে যাদু আর কিছুই নয়, ঐশীগ্রন্থ আল কোরআনের চিরন্তন ও শাশ্বত আদর্শ মাত্র।
চলবে-

Comments

comments

আরও পড়ুনঃ   ইসলামের দৃষ্টিতে আন্তধর্ম বিয়ে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

18 + 16 =