জগৎখ্যাত মুসলিম বিজ্ঞানী

0
29
জগৎখ্যাত মুসলিম বিজ্ঞানী

সৈয়দ রশিদ আলম:  খ্যাতনামা বিজ্ঞানী, গবেষক, আবিষ্কারকদের নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা হলেও মুসলিম বিশ্বের খ্যাতনামা বিজ্ঞানীদের নিয়ে আলোচনা কোথাও হয় না। সু-কৌশলে তাদের সৃষ্টিশীল কর্মকে, গবেষণাকে ও আবিষ্কারকে আড়াল করে রাখা হয়। আজ আমরা বিশ্ববরেণ্য কয়েকজন মুসলিম বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিব।খ্যাতনামা বিজ্ঞানী, গবেষক, আবিষ্কারকদের নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা হলেও মুসলিম বিশ্বের খ্যাতনামা বিজ্ঞানীদের নিয়ে আলোচনা কোথাও হয় না। সু-কৌশলে তাদের সৃষ্টিশীল কর্মকে, গবেষণাকে ও আবিষ্কারকে আড়াল করে রাখা হয়। আজ আমরা বিশ্ববরেণ্য কয়েকজন মুসলিম বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিব।

আলবিরুনী, ভূপর্যটক হিসাবে পারস্যের এই মনিষী পরিচিত হলেও একই সাথে তিনি গণিত বিদ্যাকে একইভূতকরে বলবিদ্যা নামক গবেষণা করে নতুন পথের প্রবর্তক হিসাবে তিনি স্বীকৃত। জীবনের বেশির ভাগ সময় গবেষণা কর্মে জীবন অতিবাহিত করেছেন।

ইবনেসিনা, চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক বলে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। তিনি একুশ বছর বয়সে ‘মুজমুয়া’ নামে একটি বিশ্বকোষ রচনা করেন। তিনি পদার্থ বিজ্ঞান, দর্শন, ধর্মতত্ব, জ্যামিতি, গণিত ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের উপর প্রায় একশত পুস্তুক রচনা করেন। সকাল সন্ধ্যায় প্রভুর দরবারে অজানাকে জানার জন্য ফরিয়াদ করতেন। যখনই গবেষণা কর্মে সমস্যায় পড়ে যেতেন মহান আল্লাহর সাহায্য চাইতেন। পরদিন ফজরের নামাজের পর সমস্যার সমাধান পেয়ে যেতেন।

মুসা আলখাওয়ারিজমি, গণিতবিদ একই সাথে একজন জোতিবির্দ হিসাবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তিনি ছিলেন বীজগনিত বা এলজ্যাব্রার জনক। অনুবাদক হিসাবে তিনি পরিচিত। পাটিগণিত এর উপর তার একটি বই ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। তারপর বিশ্বব্যাপী তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে।

জাবির ইবনে হাইয়াম, রসায়ন গবেষণার প্রতিষ্ঠা। তিনিই প্রথম বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতিতে রসায়নের প্রাথমিক প্রক্রিয়াগুলো চর্চা করার উপায় আবিষ্কার করেন। তিনি প্রায় দু’হাজার পুস্তক রচনা করেন।

ওমর খৈয়াম, তিনিই প্রথম উপবৃত্ত ও বৃত্তের ছেদকের সাহায্যে তৃঘাত সমীকরণের সমাধান করেন। তার রচিত, মালা কাতফি আলআজাব আল মুকাবিলা পুস্তক প্রকাশিত হওয়ার বিশ্বব্যাপী তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। কবি হিসাবে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ   একজন জান্নাতী মানুষের কাহিনী

আল ফারাবি, পদার্থ বিজ্ঞানে তিনিই প্রথম শূন্যতার অবস্থান প্রমান করেছিলেন। পদার্থ বিজ্ঞান ছাড়াও তিনি সমাজ বিজ্ঞান, দর্শন, যুক্তিশাস্ত্র, চিকিৎসা বিজ্ঞানে অসামান্য অবদান রেখে ছিলেন। বিশ্বব্যাপী দার্শনিক হিসাবে তার পরিচয় রয়েছে।

আল বাত্তানি, জোতিবির্দ ও হিসাবে তিনি পরিচিত। তিনিই প্রথম নির্ভুল পরিমাপ করে দেখিয়ে ছিলেন যে এক সৌর বছরে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড হয়। এই জোর্তিবিদ্যা গবেষণার জন্য তিনি প্রথম নিজস্ব উদ্যোগে মানমন্দির নির্মাণ করেন।

ইবনে হাইসাম, তিনি একই সাথে পদার্থবিদ, জোতিবির্দ, প্রকৌশলী, গনিতবিদ, চিকিৎসাবিদ, দার্শনিক ও মনবিজ্ঞানী হিসাবে পরিচিত। তিনি জোর্তিবিদ্যার উপর একাধিক পুস্তক রচনা করেছেন।

আল রাযী, সালফিউরিক এসিড এর আবিষ্কারক। তিনি বিভিন্ন গবেষণামূলক ১৮৪টি পুস্তক রচনা করেছেন।

বানু মুসা, পীরমাপক যন্ত্রের উৎকর্ষ সাধন করেছিলেন। ভিত্তি স্থাপনেও আধুনিক করেন।

আল বলখি, জোতিবির্দ, দার্শনিক, গনিতবিদ হিসাবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। একাধিক গবেষণামূলক পুস্তুক রচনা করেছেন।

আল সাইগ, জোতিবির্দ, যুক্তিবিদ, দার্শনিক, পদার্থবিদ, মনোবিজ্ঞানী ও চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিসাবে পরিচিত। এমনকি উদ্ভিদ বিজ্ঞানী হিসাবেও তিনি পরিচিত।

আল-কিন্দি, ভাষাবিদ ও ২৬৫টি পুস্তুকের লেখক। ভাষাশাস্ত্র, গনিতও শাস্ত্র, ফিকাহ্ শাস্ত্র গবেষক। ইতিহাস ও ধর্মীয় বিষয়ের উপর মহান পন্ডিত হিসাবে স্বীকৃত।

আল বেতরুগি, দার্শনিক ও জোতিবির্দ। ¯েœহশিয়াল মোসন ও প্লেনটারী মোসন নিয়ে নিজস্ব মতবাদ প্রচার করেন।

ইবনুন নাফিজ, মানবদেহের রক্তচঞ্চালন পদ্ধতি, শ্বাসনালী, ফুসফুসের সঠিক অবস্থান হৃদপিন্ড, শরীরের শিরা উপশিরায় বায়ু ও রক্তের প্রবাহ সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে প্রথম অবহিত করেন। দুঃখজনক হলেও সত্যি এই মহাবিজ্ঞানীদের নিয়ে বিশ্বের কোথাও আলোচনা হয় না। কারণ একটাই এই বিজ্ঞানীরা মুসলমান।

আমরা আশা করব মুসলিম বিশ্ব এই মহা বিজ্ঞানীদের সৃষ্টিশীল গবেষণা কর্ম নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এদের হাত ধরে আমরা পৃথিবী থেকে সমস্ত অন্ধকার দূর করে দিতে চাই। সেটা সম্ভব যদি আমরা গবেষণা কর্মে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে প্রয়োগ করতে পারি।

আরও পড়ুনঃ   মুসলিম বিজ্ঞানীদের থেকে চুরি করে বিধর্মীদের কথিত বিজ্ঞানীরা আজ বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × one =