তওবাঃ আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম উপায়

0
11
তওবা

কানিজ ফাতেমা: মানুষ। আরবি প্রতিশব্দ ইনছান যা নিছইয়ান শব্দ থেকে উৎপত্তি। অর্থ হলো ভুল করা বা ভুলে যাওয়া সুতরাং ভুল করাই মানুষের স্বাভাবিক প্রবনতা। আল্লাহ মানুষকে কর্মের স্বাধীনতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। পার্থীব জীবনের এই স্বাধীনতাকে যে আল্লাহর নির্দেশিত পথে পরিচালিত করে তারাই সফলকাম। জীবন চলার পথে যদি ভুল হয়ে যায় অথবা সে ভুল করে আল্লাহর নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে মুক্তির উপায় হলো তওবা।

তওবার মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার পাপ সমুহ ক্ষমা করে দেন। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘পাপ থেকে তাওবাকারীর অবস্থা এমন, যার কোন পাপ নেই’। অন্য এক হাদিসের ভাষ্যমতে, তাওবা করার দ্বারা পাপীর পাপই শুধু ক্ষমা করা হয়না, বরং তার মর্যাদাও বৃদ্ধি করা হয়।

কেননা মানুষ যখন গোনাহ করে ফেলে সে আল্লাহর দরবারে অপরাধ স্বীকার করে তাওবা করে, কান্নাকাটি করে, বিনীত কন্ঠে গোনাহ মাফের আবেদন জানায় তখন তার মর্যাদা কখনও এ পর্যায়ে পৌছে যে, যদি গোনাহ না করত, তা হলে সে মর্যাদায় পৌছা কখনও সম্ভব হত না। তাই তওবাই হলো পাপ থেকে ক্ষমা লাভ ও  আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পথ।

কোরআনে আল্লাহ বলেন, “ তারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হলে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরন করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থণা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা  করবেন? তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হটকারিতা প্রদর্শন করেনা এবং জেনে-শুনে তাই করতে থাকেনা” (সুরা আল ইমরান-১৩৫)

আল্লাহ এটিই পছন্দ করেন যে মানুষ ভুল করবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে। হাদিসে এসেছে মানুষ যদি না করতো তাহলে আল্লাহ এই জাতিকে পৃথিবী থেকে উঠিয়ে নিতেন এবং নতুন এক জাতিকে আল্লাহ দুনিয়াতে পাঠাতেন যারা ভুল করবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে।

আরও পড়ুনঃ   সর্বদা নেক আমল চালু রাখা

আর এই ‘তাওবা’ তিনটি বিষয়ের সমষ্টি তা হলো ১। যে ভুল হয়ে গেছে সেটার উপর লজ্জিত হওয়া অনুতপ্ত হওয়া এবং মানুষিকভাবে অনুশোচিত হওয়া। ২। যে গোনাহটি সংঘটিত হলো, সেটা তৎক্ষণাৎ ছেড়ে দেয়া। ৩। ভবিষ্যতে  গোনাহ না করার দৃঢ় অঙ্গীকার করা। এই তিনটি কাজের সমন্বয়েই তওবা পরিপূর্ণ হবে। আল্লাহর কোন বান্দা যখন নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায় আল্লাহ তখন তার উপর আধিক সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন।

আল্লাহর রাসুল (সাঃ) দিনে ৭০/১০০ বার আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতেন। বান্দা ক্ষমা প্রার্থনা এবং তাওবার মাধ্যমে যখন পাপ মুক্ত হয় এবং গুনাহ থেকে বিরত থাকে তখন তার তাকওয়ার নূর অর্জিত হবে। আল্লাহর নৈকট্য লাভ হবে। তাই আল্লাহ আমাদের সকলকে তাওবার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জনের তাওফিক দান করুন, আমিন।

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − six =