নামাজিদের জন্য ১৫টি সুসংবাদ

0
54
নামাজিদের জন্য সুসংবাদ

আমিন ইকবাল : নামাজ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। একজন মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা। হাশরের মাঠে সর্বপ্রথম নামাজের ব্যাপারেই জিজ্ঞাসা করা হবে। কোরআন ও হাদিসে নামাজের পাবন্দি ও যতœবান ব্যক্তিদের জন্য অনেক ফজিলত ও সুসংবাদ উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে ১৫টি সুসংবাদ তুলে ধরছি। আশা করি এর মাধ্যমে সবার মাঝে নামাজের প্রতি পাবন্দি ও আগ্রহ তৈরি হবে ইনশাআল্লাহ।
সকল আমলের মধ্যে সর্বোত্তম আমল নামাজ। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, আমি একবার রাসুল সা. কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তখন তিনি বললেন, সময়মত নামাজ আদায় করা। [বুখারি ও মুসলিম]
নামাজ বান্দা ও প্রভুর মাঝে বন্ধন ও সম্পর্ক স্বরূপ। রাসুল সা. বলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন নামাজে দাঁড়ায়; সে তখন তার প্রভুর সঙ্গে চুপিসারে কথা বলতে থাকে। [বুখারি]
নামাজ দ্বীনের খুঁটি। রাসুল সা. বলেন, সকল বিষয়ের মূল হলো ইসলাম। ইসলামের খুঁটি হলো নামাজ। আর তার সফলতার চূড়া হলো জিহাদ। [তিরমিজি]
নামাজ নূর স্বরূপ। রাসুল সা. ইরশাদ করেন নামাজ হলো নূর। [মুসলিম]
নামাজ মুনাফেকি থেকে মুক্তির উপায়। রাসুল সা. বলেন, মুনাফিকদের উপর ফজর ও ইশার নামাজ অনেক কষ্টকর হয়ে থাকে। অথচ যদি তারা জানতো যে এর (ফজর ও ইশা) মাঝে কী পরিমাণ (সওয়াব ও প্রতিদান) রয়েছে তাহলে তারা হাটুতে ভর করে হলেও আসতো। [বুখারি ও মুসলিম]
নামাজ জাহান্নাম থেকে নিরাপত্তা ও মুক্তির মাধ্যম। রাসুল সা. ইরশাদ করেন, ওই ব্যক্তি কখনোই জাহান্নামে যাবে না যে সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বের নামাজ আদায় করে। অর্থাৎ ফরজ ও আসর আদায় করে। [মুসলিম]
নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। রাসুল সা. এর উদ্দেশ্যে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আপনার নিকট যে কিতাব প্রেরণ করা হয়েছে, তা পাঠ করুন ও নামাজ কায়েম করুন। নিশ্চই নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।
নামাজ গুরুত্বপূর্ণ কাজসমূহে সাহায্যকারী। তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।
জামাতের সাথে নামাজ আদায় করা একাকি নামাজ আদায় করা থেকে উত্তম। রাসুল সা. ইরশাদ করেন, জামাতের সাথে নামাজ আদায় করা একাকি নামাজ আদায় করা থেকে উত্তম। [বুখারি ও মুসলিম]
নামাজি ব্যক্তির জন্য ফেরেশতারা রহমত ও মাগফিরাত কামনা করে। রাসুল সা. বলেন, যতক্ষণ তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি তার নামাজের স্থানে বসে থাকে ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকে (যতক্ষণ না তার ওজু ভাঙে)। তারা বলতে থাকে হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! তার উপর রহম করুন। [বুখারি ও মুসলিম]
গুনাহ মাফের সুসংবাদ। রাসুল সা. বলেন, যে ব্যক্তি নামাজের জন্য অজু করে এবং অজু উত্তমরূপে পূর্ণ করে, অতঃপর ফরজ নামাজের উদ্দেশ্যে বের হয় এবং নামাজ আদায় করে জামাতের সাথে, আল্লাহ তার সকল গুনাহ মাফ করে দেন। [মুসলিম]
শরীর গুনাহ থেকে পাক-সাফ হয়ে যায়। রাসুল সা. বলেন তোমরা কি মনে করো যে, তোমাদের কারও দরজার সামনে একটি নদী থাকে, যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তার শরীরে কি কোনো প্রকার ময়লা অবশিষ্ট থাকবে? সাহাবিরা বললেন, না। তার শরীরে আর কোনো ময়লাই অবশিষ্ট থাকবে না। রাসুল সা. বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণও এরকমই। এগুলোর বিনিময়ে আল্লাহ তার অপরাধসমূহ মুছে দেন। [বুখারি ও মুসলিম]
জান্নাতে মেহমানদারী প্রস্তুতের সুসংবাদ। রাসুল সা. বলেন যেই ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় মসজিদে গমন করে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে মেহমানদারী প্রস্তুত করে রাখেন। তার প্রত্যেকবারের জন্য যখনই সে সকালে বা সন্ধ্যায় (মসজিদে ) গমন করে। [বুখারি ও মুসলিম]
মসজিদে অগ্রসর হওয়ার সময় এক কদমে একটি করে গুনাহ মাফ করা হয় ও অপর কদমে তার মর্যাদা সমুন্নত করা হয়। রাসুল সা. বলেন, যে নিজে ঘরে পবিত্রতা অর্জন করলো আল্লাহর ঘরসমূহ থেকে কোনো এক ঘরের দিকে অগ্রসর হলো (মসজিদ) যাতে করে আল্লাহর নির্ধারিত ফরজসমূহ থেকে কোনো এক ফরজ আদায় করতে পারে (নামাজ) তার একটি কদমে একটি করে গুনাহ মাফ হবে। এবং আরেক কদমে জান্নাতে পদমর্যাদা উন্নীত করা হবে। [মুসলিম]
নামাজে আগে উপস্থিত হলে মহা প্রতিদানের সুসংবাদ। রাসুল সা. বলেন, যদি লোকেরা জানতো যে আজানের মাঝে ও (জামাতের) প্রথম কাতারের মাঝে কী (সওয়াব) আছে, আর লটারি ছাড়া এটা (ভাগ) না পেত, তবে তারা এর জন্য লটারি দিত। আর যদি তারা জানতো, (জামাতে) আগে উপস্থিত হওয়ার মাঝে কী ফজিলত আছে, তাহলে তারা প্রতিযোগিতা করতো। [বুখারি ও মুসলিম]

আরও পড়ুনঃ   নামায, রোযা করে কি হবে? আমি তো এমনিতেই ভালো মানুষ

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

15 − 1 =