মধ্যম পন্থা অবলম্বনই বিশ্বনবির আদর্শের অনুসরণ

0
5
মধ্যম পন্থা অবলম্বন

ইসলাম কোনো ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি যেমন পছন্দ করে না; তেমনি ইসলামের বিধি-বিধান বাস্তবায়নের ব্যাপারে আবার ছাড়াছাড়িও সমর্থন করে না। সর্বক্ষেত্রে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করাকে পছন্দ করে।

ইসলামে এ বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াড়িকে বলে ইফরাত ও তাফরিত। ইসলামে উভয়টাই পরিত্যাগ করার ব্যাপারে জোড় তাগিদ দেয়া হয়েছে। এক কথায় সব কাজ-কর্মে মধ্যমপন্থার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রবিউল আউয়াল মাসে বিশ্বমুসলিম বিশ্বনবির প্রেম-ভালোবাসায় অসংখ্য অনুষ্ঠান উদযাপন করে। কিন্তু কোনো অনুষ্ঠানেই বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি করা ঠিক নয়। প্রয়োজন হলো বিশ্বনবির সুমহান আদর্শের অনুসরণ ও অনুকরণ করা। কারণ তাঁর আদর্শ অনুসরণই ঈমানের পূর্বশত।

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের গুণ প্রকাশ করে বলেন, ‘আর তারা (মুমিনগণ) যখন ব্যয় (খরচ) করে তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না বরং মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে।’

আল্লাহর পথে খরচ করা ইবাদত। আবার প্রয়োজনের কম কোনো কাজ করাও ইবাদতের অন্তর্ভূক্ত নয়। বরং সব কাজে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা জরুরি। এ ভাবে বিশ্বনবির আদর্শ অনুসরনে হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-বিশ্বনবির আদর্শ

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনজন লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রীদের ঘরে আসল। তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইবাদত-বন্দেগি সম্পর্কে জানতে চাইল।

যখন তাদেরকে এ সম্পর্কে  জানানো হল, তখন তারা যেন এটাকে অপ্রতুল মনে করল। আর বলল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোথায় আর আমরা কোথায়? তাঁর আগের পরের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।

তাদের একজন বলল, আমি সারা রাত নামাজ পড়তে থাকব। আরেকজন বলল, আমি সারা জীবন রোজা রাখব। কখনো রোজা ছাড়ব না। আরেকজন বলল, আমি মেয়েদের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখব, কখনো বিয়ে করব না।

ইতিমধ্যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাছে আসলেন। আর বললেন, তোমরা তো এ কথাগুলো বলেছ।

আরও পড়ুনঃ   মা-কে ভালবাসেন ? তাহলে মা সম্পর্কিত কতিপয় হাদিস জেনে নিন এখনই

আল্লাহর কসম! তোমাদের চেয়ে আমি আল্লাহকে বেশি ভয় করি। তাঁর সম্পর্কে বেশি তাকওয়া (পরহেজগারি) অবলম্বন করি।

কিন্তু আমি রোজা রাখি আবার রোজা ছেড়ে দেই। আমি নামাজ পড়ি আবার নিদ্রা যাই। আর বিয়ে-শাদীও করি। যে আমার আদর্শের (সুন্নাত) থেকে মখু ফিরিয়ে নেয় সে আমার দলভুক্ত নয়। (বুখারি ও মুসলিম)

হাদিসের শিক্ষা

১. বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইবাদত-বন্দেগির ধরণ, পদ্ধতি ও পরিমাণ সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি করা।

২. ইসলামে বৈরাগ্যবাদের স্থান নেই। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম-নিদ্রা, বিয়ে-শাদী, পরিবার-পরিজন ইত্যাদি সবকিছু নিয়েই ইসলামী জীবন। এগুলো বাদ দিয়ে যদি কেউ শুধু ইবাদত-বন্দেগি করে ইসলাম পালন করতে চায় সে বিশ্বনবির উম্মত বলে গণ্য হবে না।

৩. দুনিয়ার সব কাজ-কর্ম ও অন্যের অধিকার আদায় করার সাথে সাথে সাধ্য ও সামর্থানুযায়ী ইবাদত-বন্দেগি সম্পাদন করাই হলো মধ্যপন্থা অবলম্বন। আর এটাই বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুমহান আদর্শ। তাই দুনিয়াদারী ছেড়ে দিয়ে শুধু ইবাদাত-বন্দেগিতে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে তিনি নিষেধ করেছেন।

পরিশেষে… রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুনিয়ায় শুভাগমন এবং ইন্তিকালের মাসে তাঁর স্মরণ ও আদর্শ অনুসরণ ও অনুকরণই নবিপ্রেম ও ঈমানের পূর্বশত। রবিউল আউয়াল মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য উপলব্দি করতে উল্লেখিত হাদিসে ওপর আমল করা অত্যন্ত জরুরি। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ার কল্যাণ এবং পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের সফলতা লাভে কুরআন ও হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কাগজ অনলাইন ডেস্ক

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × 3 =