মানুষের সৃষ্টি নাপাক নাকি পাক পদার্থ থেকে হয়েছে?

0
16
মানুষের সৃষ্টি, নাপাক পদার্থ

সাধারণ মানুষ-তো বলেই, সেই সাথে দেশের ধর্মীয় জ্ঞানের কর্ণধার হিসাবে পরিচিত আলেম সমাজও তাদের বক্তৃতায় বলে থাকেন যে, “মানুষ একফোঁটা নাপাক পদার্থ থেকে সৃষ্টি”। নিয়মানুসারে কোন বিষয় যদি জানা না থাকে বা বুঝতে পারা যায়, তাহলে যে জানে বা যার কাছে শিক্ষার ব্যবস্থা আছে, সেই ব্যক্তির নিকট থেকে শিক্ষা নেয়া উচিৎ। হযরত আয়েশা (রা:) থেকে এই কাধিক সহিহ হাদিস বর্ণিত আছে যে, ”রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বীর্য ক্ষেত্রবিশেষ কাপড়ে লেগে শুকিয়ে যেত এবং আয়েশা (রা:) তা নখ দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তুলে ফেলতেন। কখনও ঘষে মুছে দিতেন। সেই কাপড় দিয়েই আবার রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ আদায় করতেন কিন্তু পানি দিয়ে ধোলাই করতেন না”। এখানে একটা বিষয় নিঃসন্দেহে প্রমাণিত যে, বীর্য নাপাক নয়, বরং তা শরীর থেকে বের হলে শরীর অপবিত্র হয়ে যায় এবং গোসল ফরজ হয়।

আমাদের জানা উচিৎ যে, সকল পদার্থই দেহের ভিতরে থাকা অবস্থায় দেহ পবিত্র থাকে। সেই পদার্থই আবার যখন দেহের বাহিরে আসে, তখন কিছু পদার্থ নাপাক হয় আবার কিছু পদার্থ নাপাক হয় না। যেমন প্রস্রাব, পায়খানা, রক্ত, মজি ইত্যাদি দেহের ভিতরে থাকা অবস্থায় পাক থাকে, কিন্তু যখনই দেহের বাহিরে আসে, তখন-ই নাপাক হয়ে যায়। এতে অজু ভঙ্গ হয় এবং কাপড়ে লাগলে কাপড়ও নাপাক হয়ে যায়। অপরপক্ষে দেহ থেকে যখন বায়ু নির্গত হয়, তখন দেহ এবং কাপড় নাপাক হয় না ঠিকই কিন্তু অজু ভঙ্গ হয়। আবার দেহ থেকে যখন বীর্য বের হয়, তখন অজু ভঙ্গ হয়, দেহ অপবিত্র হয়, এবং কাপড়ও নাপাক হয়। এখানে কথা থাকে যে, আয়েশা (রা:) যে সকল যায়গায় কাপড়কে রক্ত বা বীর্য থেকে ঘষে বা নখ দিয়ে খুঁটিয়ে পরিষ্কার করেছেন, সেই সকল ক্ষেত্রেই কিন্তু উল্লিখিত পদার্থ-দ্বয় শুকনা থাকার কথা উল্লেখ আছে। কাজেই ভেজা থাকলে অবশ্যই ধোলাই করা ছাড়া পবিত্রতা সম্ভব নয়। তবে পায়খানা-প্রস্রাব শুকনা অথবা ভেজা সকল ক্ষেত্রেই ধোলাই করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ   ইসলামে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা সম্পর্কে জানুন

সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকৃত যে, বীর্য দেহের ভিতরে থাকা অবস্থায় নাপাক থাকে না। পৃথিবীর কোন গবেষণাগারে এই পর্যন্ত বীর্যকে বাহির করে অর্থাৎ বাতাস বা দুনিয়ার সংস্পর্শে এই নে তা দিয়ে প্রাণের আবির্ভাব ঘটানো সম্ভব হয়নি। স্বামী স্ত্রীর মিলনের মাধ্যমেই পুরুষ দেহের অভ্যন্তরে থেকে নারী দেহের অভ্যন্তরে তথা জরায়ুতে বীর্য চলে যায়, এবং তার পর থেকে যথা নিয়মে মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন রব্বুল আলামীনের আদেশে দৈনন্দিন পরিবর্তন হতে থাকে। যেখানে বীর্য দুনিয়ার কোন সংস্পর্শেই আসলো না, সেখানে বীর্য নাপাক হল কিভাবে?  আল্লাহ রব্বুল আলামীন এই বীর্য পরিবর্তনের পদ্ধতিকে আবার স্বাভাবিক পদ্ধতি বলেননি, বরং বলেছেন যে, “আমি সজোরে নিক্ষিপ্ত পদার্থ থকে তোমাদের সৃষ্টি করেছি”। কাজেই বাহির থেকে পানি ঢালার মতন করে ঢেলে কখনও মানব দেহের সৃষ্টি সম্ভব নয়’ যদিও তা জরায়ুতেই করা হয়। বীর্য বাহিরে আসার পর শুকিয়ে গেলে তা আর নাপাক থাকে না, এই বিষয় আমরা আয়েশা (রা:) এর বর্ণিত হাদিস থেকেই জানতে পারি। তবে যেহেতু সকল নাপাক পদার্থই দেহের ভিতরে থাকলে পাক থাকে, তাই মহান মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন আমাদের দেহকে পাক বীর্য থেকেই সৃষ্টি করেছেন। অথচ আমরা না জেনে সেই পাক অবস্থাকে নাপাক পদার্থ হিসাবে চালিয়ে দিচ্ছি। আমরা কখনই নাপাক পদার্থ থেকে সৃষ্টি নই। আরও একটি উদাহরণ দেয়া যায়, তাহলো মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন পাক কালামে এরশাদ করেন, “আমি রক্তে এবং গোবরের সংমিশ্রণে তোমাদের জন্য উপাদেয় খাদ্য (দুগ্ধ) সৃষ্টি করেছি”। এই ক্ষেত্রে গোবর এবং রক্ত এই দুইটিই বাহিরের জগতে আমাদের জন্য হারাম, অথচ বাহিরের জগতের এই দুই নাপাক পদার্থই মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন দেহের ভিতর তথা পাক থাকা অবস্থায় দুগ্ধের রূপ দিয়ে আমাদের জন্য সর্বোত্তম খাদ্য হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। কাজেই কোন বিষয় না জেনে সেই বিষয়ে বক্তৃতা করা বা মতামত প্রকাশ করা একবারেই সমীচীন নহে। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন

আরও পড়ুনঃ   ইসলাম রক্ষায় আলেম ওলামা ও মুসলমানের দায়িত্ব

http://www.islam-qa.com/en/ref/141556/semen impure 

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

fifteen − 9 =