মিথ্যা থেকে বাচার উপায়!!

0
22
মিথ্যা থেকে বাচার উপায়

মিথ্যা যে একটি বদ অভ্যাস তাতে কেউ সন্দেহ করে বলে আমি মনে করি না, কারণ মিথ্যাকে রাসূলসাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধ্বংসকর বলে মন্তব্য করেছেন। আরো বলেছেন, মিথ্যা মুনাফেকীর নিদর্শন। মানুষ মিথ্যা বলতে বলতে এক সময় আল্লাহর দরবারে মিথ্যাবাদী বলে সাব্যস্ত হয়। আর সত্য বলা ও সত্য বলার প্রচেষ্টায় রতথাকলে আল্লাহ্ তাকে সত্যবাদী বলে লিখেনেন; এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামেরএকটি হাদীসের ভাষ্যই উদ্ধৃত করলাম।কথা উঠেছিল আমাদের এক শিক্ষককে নিয়ে যিনিমিথ্যা কথা বলতে ছাত্রদেরকে নিষেধ করতেন।একদা আমরা তার বৈঠকখানায় অবস্থান করছিলাম,এমতাবস্থায় সেখানে এমন এক লোক এসেউপস্থিত যাকে তিনি পছন্দ করতেন না। আসা মাত্রইলোকটি প্রশ্ন করলো: “তোমাদের গুরুমশাইকোথায়”? আমরা জানতাম যে, উস্তাদজী তার সাথেদেখা করতে চান না; অথচ আমাদেরকে মিথ্যাবলতে নিষেধ করেছেন। এ পরিস্থিতিতেআমাদের মধ্যকার সর্বকনিষ্ঠ জন সভয়ে বলেফেললো যে, তিনি পাশের ফ্লাটে আছেন।উস্তাদজীকে তার কথামত ডাকা হলো, তিনিআসলেন এবং তার সাথে জরুরী কথাবার্তা সারলেন।কিছুক্ষণ পর লোকটি বিদায় নিলো। আমরা পরস্পরমুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলাম। আমাদের অবস্থাদেখে তিনি বুঝতে পারলেন যে, তার অবস্থানবলে দেয়ায় তিনি যে খুশী হননি, এটা আমরা বুঝতেসক্ষম হয়েছি, কিন্তু আমরা অপরাগ ছিলাম, কারণ মিথ্যাবলা যাবে না। তিনি ব্যাপারটা সহজ করে নিতে নিতেবললেন, তোমরা এমনটি বললেই পারতে যে, “তিনিএখানে নেই”।আমরা বলে উঠলাম: এটা কি মিথ্যা নয়? তিনি বললেন: না, এটা মিথ্যা নয়; বরং ﻣﻌﺎﺭﻳﺾ বা বলারকৌশল। সাহাবী ইমরান ইবন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুবলেন, ﺇﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻌﺎﺭﻳﺾ ﻟﻤﻨﺪﻭﺣﺔ ﻋﻦ ﺍﻟﻜﺬﺏ অর্থাৎ,“বাচনভঙ্গী ও কথার কৌশলের মাধ্যমে মিথ্যাথেকে বাঁচা যায়”। [বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ:৮৫৭]আমরা জানতে চাইলাম: কুরআন, হাদীস বা সালফেসালেহীনের জীবনে এ প্রকার বাচনভঙ্গীরব্যবহার আছে কি?তিনি বললেন: তোমাদের এ প্রশ্নটি আমার কাছেভালো লেগেছে। আসলে দ্বীনী ব্যাপারেকোন কিছু বলার পূর্বে আমাদের জানা আবশ্যকযে, আমাদের কথাটা কুরআন-সুন্নাহ্ অনুযায়ীহয়েছে কি না। আর যে আয়াত বা হাদীসকে আমিবা আমরা দলীল হিসেবে পেশ করবো, সেআয়াত বা হাদীস দ্বারা আমাদের সালফে সালেহীনতথা সাহাবা, তাবেয়ীন ও তাবেতাবেয়ীনেরঅনুসারীগণ আমরা যে রকম বুঝেছি সে রকমবুঝেছেন কি না? নাকি আমরা আয়াত ও হাদীসেরব্যাখ্যায় নতুন কোন কথা সংযোজন করেছি?কেননা জগতে যত ফেৎনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি হয়েছেআর যত ফির্কার উৎপত্তি হয়েছে, সবাই দলীলহিসেবে কুরআন ও হাদীসের বাণী উদ্ধৃত করেথাকে, যদি সব ব্যাখ্যাই গ্রহণযোগ্য হতো তাহলেদ্বীনের অস্তিত্ব টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়ত।তাই সালফে-সালেহীনের ব্যাখ্যা অনুসারেইকুরআন বা হাদীসকে আমাদের বুঝতে হবে।এখন আসা যাক তোমাদের প্রশ্নের উত্তরে-তোমারা জানতে চেয়েছ কুরআন, সুন্নাহ্ এবংসালফে-সালেহীনের জীবনে এ প্রকারেরﻣﻌﺎﺭﻳﺾ বা বাচনভঙ্গির ব্যবহার হয়েছে কি না? আমিবলবো: হাঁ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা’আলাইব্রাহীম ‘আলাইহিস্ সালামের ঘটনা বর্ণনা করতেগিয়ে বলেছেন: ﻓَﻨَﻈَﺮَ ﻧَﻈْﺮَﺓً ﻓِﻲ ﺍﻟﻨُّﺠُﻮﻡِ অর্থাৎ,“তিনি ক্ষণিকের জন্য তারকারাজির প্রতি দৃষ্টিপাত করেবললেন: ‘আমি অসুস্থ’।” এখানে ইব্রাহীম ‘আলাইহিস্সালামকে তার জাতির লোকেরা মূর্তিপূজা করতেআহ্বান করেছিল। তাঁকে আহ্বান করেছিল মেলায়মূর্তি বিক্রয় করার জন্য। কিন্তু তিনি এ থেকে বাঁচারজন্য চমৎকার এক বাচনভঙ্গি ব্যবহার করলেন যাতেমিথ্যাও হয়নি আবার শির্কেও লিপ্ত হতে হয়নি। তারজাতির লোকেরা বিশ্বাস করত যে, নক্ষত্ররাজিমানুষের রোগ, শোক, আরোগ্য এসব দিয়েথাকে। তাই ইব্রাহীম ‘আলাইহিস্ সালাম তাদেরকেবোকা বানানোর জন্য তারকারাজির দিকে ক্ষণিকেরজন্য দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন, তারপর বললেন যে,“আমি অসুস্থ হয়ে যাবো”, তাঁর জাতির লোকেরাবুঝলো যে, ইব্রাহীম তারকার অবস্থান দেখেবুঝেছে সে অসুস্থ হয়ে যাবে তাই সে মেলায়যাচ্ছে না। অথচ ইব্রাহীম ‘আলাইহিস্ সালামেরউদ্দেশ্য ছিল তাদেরকে বোকা বানানো আর“আমি রোগগ্রস্ত” কথার দ্বারা উদ্দেশ্য ছিল যে,আমি মানসিক ভাবে তোমাদের কর্মকাণ্ডে খুশীনই।অনুরূপভাবে আইয়ূব ‘আলাইহিস্ সালাম তাঁর স্ত্রীকেএকশ’ বেত্রাঘাত করার শপথ করেছিলেন। আল্লাহ্তাঁকে সে শপথ পূর্ণ করার কৌশল এভাবে বাতলেদিয়েছিলেন যে,﴿ ﻭَﺧُﺬۡ ﺑِﻴَﺪِﻙَ ﺿِﻐۡﺜٗﺎ ﻓَﭑﺿۡﺮِﺏ ﺑِّﻪِۦ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺤۡﻨَﺚۡۗ ﺇِﻧَّﺎ ﻭَﺟَﺪۡﻧَٰﻪُﺻَﺎﺑِﺮٗﺍۚ ﻧِّﻌۡﻢَ ﭐﻟۡﻌَﺒۡﺪُ ﺇِﻧَّﻪُۥٓ ﺃَﻭَّﺍﺏٞ ٤٤ ﴾ ‏[ ﺹ : ٤٤ ‏]“তুমি তোমার হাতে (একশ’) ছড়ির এক আঁটি বানিয়ে তাদিয়ে এক বেত্রাঘাত করো, শপথ ভঙ্গ করোনা।” [সূরা সদ: ৪৪]তদ্রূপ ইউসুফ ‘আলাইহিস্ সালামও তাঁর ভাইকে আটকেরাখার জন্য এক প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন।আল্লাহ্ তা‘আলা সে ঘটনা বর্ণনা করার পর বলেন:﴿ ﻓَﺒَﺪَﺃَ ﺑِﺄَﻭۡﻋِﻴَﺘِﻬِﻢۡ ﻗَﺒۡﻞَ ﻭِﻋَﺂﺀِ ﺃَﺧِﻴﻪِ ﺛُﻢَّ ﭐﺳۡﺘَﺨۡﺮَﺟَﻬَﺎ ﻣِﻦﻭِﻋَﺂﺀِ ﺃَﺧِﻴﻪِۚ ﻛَﺬَٰﻟِﻚَ ﻛِﺪۡﻧَﺎ ﻟِﻴُﻮﺳُﻒَۖ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻟِﻴَﺄۡﺧُﺬَ ﺃَﺧَﺎﻩُ ﻓِﻲﺩِﻳﻦِ ﭐﻟۡﻤَﻠِﻚِ ﺇِﻟَّﺂ ﺃَﻥ ﻳَﺸَﺂﺀَ ﭐﻟﻠَّﻪُۚ﴾ ‏[ ﻳﻮﺳﻒ : ٧٦ ]“তখন সে তার ভাইয়ের ভাণ্ডের আগে অন্যদেরভাণ্ডে খোঁজা শুরু করল। এভাবে আমি ইউসুফেরজন্য কৌশল করেছি, নতুবা সে কোনভাবেই আল্লাহনা চাইলে রাষ্ট্রীয় আইন মোতাবেক তার ভাইকেআটকে রাখতে পারে না।” [সূরা ইউসুফ: ৭৬]রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামেরহাদীসেও এসেছে, বদরের যুদ্ধে তিনি (সা)কাফেরদের অবস্থান বুঝার জন্য অনেক দূরএগিয়ে গিয়েছিলেন। তারপর সেখানকারলোকদের কাছ থেকে তাদের অবস্থান জানার পরলোকেরা প্রশ্ন করেছিল: তোমরা কোথাথেকে এসেছ? রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামজবাব দিলেন: ﻧﺤﻦ ﻣﻦ ﻣﺎﺀ অর্থাৎ “আমরা পানি হতে”।লোকেরা বুঝে নিল যে, তারা কোন পানির কুপেরকাছে থাকে, সেখান থেকে এসেছে। অথচরাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্য ছিলএকথা বলা যে, আমরা পানি থেকে সৃষ্ট; কারণ সবসৃষ্টির মূলেই রয়েছে পানি।তদ্রূপ আমাদের সালফে-সালেহীনেরজীবনেও এ প্রকার ﻣﻌﺎﺭﻳﺾ ব্যবহারের নজিররয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ আমি কয়েকটি ঘটনা উদ্ধৃতকরছি-প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ্ ইবনে রাওয়াহা রাদিয়াল্লাহু‘আনহু একবার তাঁর স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তারক্রিতদাসীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হয়। তাঁর স্ত্রীহঠাৎ তাদেরকে ঐ অবস্থায় দেখে ফেলেন এবংরাগের মাথায় দা নিয়ে কোপাতে আসে। কিন্তুইত্যবসরে তিনি তাঁর কর্ম সম্পাদন করেফেলেছেন। তাঁর স্ত্রী এসে বললেন যে, যদিআমি তোমাদেরকে ঐ অবস্থায় পেতাম তাহলেতোমার মাথা কেটে ফেলতাম। তিনি বললেন: আমিকি করেছি? তাঁর স্ত্রী বললেন: যদি সত্যিই তুমি কিছুনা করে থাক, তাহলে এখন এ অবস্থায় কুরআন পাঠকরতে পারবে কি? আব্দুল্লাহ্ ইবনে রাওয়াহা সাথেসাথে পড়া শুরু করলেন:ﺷﻬﺪﺕ ﺑﺄﻥ ﻭﻋﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺣﻖ = ﻭﺃﻥ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﻣﺜﻮﻯ ﺍﻟﻜﺎﻓﺮﻳﻨﺎﻭﺃﻥ ﺍﻟﻌﺮﺵ ﻓﻮﻕ ﺍﻟﻤﺎﺀ ﻃﺎﻑ = ﻭﻓﻮﻕ ﺍﻟﻌﺮﺵ ﺭﺏﺍﻟﻌﺎﻟﻤﻴﻨﺎﻭﺗﺤﻤﻠﻪ ﻣﻼﺋﻜﺔ ﻛﺮﺍﻡ = ﻣﻼﺋﻜﺔ ﺍﻹﻟﻪ ﻣﻘﺮﺑﻴﻨﺎ ‏[1 ]মূলতঃ এটা ছিল একটি কবিতার কিছু অংশ। কিন্তু তাঁর স্ত্রীএর মাঝে আর কুরআনের মাঝে পার্থক্য বুঝতেননা। বরং যখন তিনি পড়ছিলেন তখন তাঁর স্ত্রী মনেকরেছিলেন যে, কুরআন পড়ছে। আর যদি সে এঅবস্থায় কুরআন পড়তে পারে তাহলে নিশ্চয় সেকাউকে স্পর্শ করে নি। অবশেষে তাঁর স্ত্রীবললেন যে, আমি আল্লাহর কিতাবের উপর বিশ্বাসস্থাপন করলাম এবং আমার দেখাটাকে মিথ্যা সাব্যস্তকরলাম। এরপর সাহাবী আব্দুল্লাহ্ ইবনে রাওয়াহা যখনরাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন ভাবে হাসলেন যে, তাঁরমাড়ির দাঁত পর্যন্ত দৃস্টিগোচর হয়েছিল।উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করা হয়, তিনিবলেছেন যে, আমি আশ্চর্য হই এই ভেবে যে,“কোন ব্যক্তি ﻣﻌﺎﺭﻳﺾ বা কথা বলার কৌশল জানারপরেও মিথ্যা বলার দিকে ধাবিত হয় কিকরে?” [মুসান্নাফ ইবন আবী শাইবাহ]আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে একবার খাবার খেতেডাকা হলো, সেখানে তিনি কোনো কারণে খাওয়াঅপছন্দ করলেন, তাই তিনি বললেন: ‘আমিরোযাদার’। তারপর তারা তাকে খেতে দেখলো।তারা বললো: ‘আপনি কি বলেন নি যে, আপনিরোযাদার? তিনি জবাবে বললেন: ‘রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে,প্রত্যেক মাসে তিনদিন রোযা রাখা মানে চিরদিনরোযা রাখা?’ (অর্থাৎ ‘সে অনুসারে আমি রোযাদার’।কারণ তিনি প্রত্যেক মাসের ১৪, ১৫, ১৬ এ তিনদিনরোযা রাখতেন।)প্রখ্যাত তাবেয়ী মুহাম্মাদ ইবন সিরীন রাহিমাহুল্লাহরনিকট যদি কোন ঋণদাতা তার ঋণ চাইত এবং তার কাছেদেওয়ার মত কিছু না থাকত, তবে তিনি বলতেন:‘তোমাকে আমি দু’দিনের একদিনে পরিশোধকরব। ঋণদাতা মনে করত যে, আজ বা কাল দিয়েদিবে অথচ তাঁর উদ্দেশ্য হলো দুনিয়ার দিনে বাআখেরাতের দিনে আমি তোমার ঋণ পরিশোধকরে দেব’।ইবনে সিরীন থেকে আরো বর্ণিত আছে যে,কোন এক লোকের ভীষণ চোখ লাগতো(নযর লাগা)। কাজী সুরাইহ্ রাহিমাহুল্লাহ্ তার খচ্চরটিনিয়ে ঐ লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, লোকটিখচ্চরটির উপর চোখ লাগাতে চাইল। কাজী সুরাইহ্রাহিমাহুল্লাহ্ সবকিছু বুঝতে পেরে সাথে সাথেবললেন: ‘আমার এই খচ্চরটা এমন বাজে যে, একবারবসে পড়লে আবার দাঁড় করিয়ে না দেয়া পর্যন্তউঠবে না’। লোকটি বলল: ‘ধ্যাৎ, এমন বাজে জিনিস?’এভাবে সুরাইহ্ রাহিমাহুল্লাহ্ লোকটির চোখ লাগানোথেকে তাঁর খচ্চরটাকে হেফাযত করলেন। অথচকাজী সুরাইহ্-এর কথা ‘বসে পড়লে উঠিয়ে নাদেয়া পর্যন্ত উঠে না’-এর অর্থ এ নয় যে, সত্যিসত্যিই সেটি উঠে না; বরং উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহ্যতক্ষণ না উঠান ততক্ষণ সেটি উঠতে পারে না।ইব্রাহীম নাখয়ী রাহিমাহুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত আছেযে, একবার তার স্ত্রী তাকে কোন একটা কিছুদেয়ার বিষয়ে খুব পীড়াপীড়ি করছিল, তখন তারহাতে একটা পাখা ছিল। তিনি পীড়াপীড়িতে অতিষ্টহয়ে বলে উঠলেন: ‘আল্লাহর শপথ করে বলছিএটা তোমার!’ তার স্ত্রী শান্ত হলে তিনি তারশিষ্যদের জিজ্ঞাসা করলেন: ‘তোমরা কি বুঝলে?’তারা বলল: ‘আপনি আপনার স্ত্রীকে ঐ বস্তুটা দিয়েদিলেন’। তিনি বললেন: ‘কখখনো নয়! তোমরা কিদেখনি যে, আমি পাখাটির দিকেই ইঙ্গিত করছিলাম?আমার উদ্দেশ্য ছিল পাখাটা দেয়া।’প্রখ্যাত মুহাদ্দিস হাম্মাদ বিন যায়েদ রাহিমাহুল্লাহ্-এরকাছে যদি এমন কোন লোক আসত যার সাথে তিনিসাক্ষাৎ করতে চাইতেন না, সাথে সাথে তিনি তাঁর হাতটামাড়ির দাঁতের উপর রেখে বলতেন: ’হায় আমার দাঁত!হায় আমার দাঁত! এভাবে বলতে থাকতেন। লোকটিমনে করত তাঁর বুঝি দাঁতে ব্যাথা তাই কথা বলবেন না,অথচ তিনি দাঁতে ব্যাথা হয়েছে এমন কথা বলেন নি।’ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ্-এর নিকট তাঁর শিষ্য মাররূযীরাহিমাহুল্লাহ্ বসেছিলেন, ইত্যবসরে সেখানে একলোক এসে জিজ্ঞাসা করল: ‘এখানে মাররূযীআছে?’ ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ্ চাইলেন যে,মাররূযী লোকটির সাথে বের না হোক, তাই তিনিসাথে সাথে তাঁর আঙ্গুলকে হাতের কব্জির উপররাখলেন এবং বললেন: ‘মাররূযী এখানে নেই, সেএখানে কি করবে?’এ প্রকারের শত শত ﻣﻌﺎﺭﻳﺾ বা কথা বলার কৌশলেরমাধ্যমে উপস্থিত পরিস্থিতিতে সুন্দর সমাধানেরনজীর সাফলে সালেহীনের জীবনেরয়েছে।এ পর্যন্ত বলে উস্তাদজী চুপ করলেন; আমরাসমস্বরে বলে উঠলাম: উস্তাদজী! এটা কি হিলা বাবাহানা করা নয়? আর হিলা বা বাহানা করা তো হারাম।তিনি জবাবে বললেন: এটা যে এক প্রকার হিলা বা বাহানাতাতে সন্দেহ নেই। তবে জগতে যতপ্রকারগন্ডগোলের সূত্রপাত হয়েছে তার প্রধানকারণগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে, ‘কোন কিছুকেবিচার-বিশ্লেষণ না করে তার ব্যাপারে তড়িৎ হুকুমপ্রদান করা’।মনে রাখবে, এটা একটা হিলা বা বাহানা, কিন্তু সব হিলা-ইনিষিদ্ধ নয়; কারণ, হিলা তিন প্রকার- (১) এক প্রকার হিলাকরা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। যেমনটি করেছিলেনইব্রাহীম ‘আলাইহিস্ সালাম শির্ক থেকে বাঁচার জন্য।(২) আরেক প্রকার হিলা করা জায়েয। তবে ধর্মীয়স্বার্থের দিকে লক্ষ্য রেখে কখনো তা করাভালো বলে বুঝায়, আবার কখনো ত্যাগ করা ভালোবলে প্রতীয়মান হয়। যার কিছু উদাহরণ আগেইপেশ করেছি। (৩) তৃতীয় আরেক প্রকার হিলা বাবাহানা আছে যা করা হয় শরীয়তের কোন ফরদ্বকাজ ত্যাগ করার জন্য বা কোন হারাম কাজকে হালালকরার জন্য অথবা অত্যাচারীকে নির্দোষ আরনির্দোষকে অত্যাচারী বানানোর জন্য, হককেবাতিল আর বাতিলকে হকের রূপে রূপদান করার জন্য;এ প্রকার হিলা বা বাহানা করা সম্পূর্ণরূপে হারাম। এপ্রকারের হিলাকারীরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলেরলা’নতের ভাগীদার হওয়ার পথের পথিক। যেমনটিকোন কোন দেশের কিছু মুসলমানদের মধ্যেদেখা যায় তিন তালাকের মাসআলাতে অন্যস্থানেবিয়ে দেয়ার নামে মৌখিক বিয়ে ও সাথে সাথে মৌখিকতালাকের প্রচলন কিংবা এক রাতের জন্য চুক্তি করেও পরদিন তালাক দেয়ার শর্তে বিয়ে করার হিলা বা বাহানাইত্যাদি। আল্লাহ্ আমাদেরকে এ প্রকারের বাহানাঅনুসরণ করার মাধ্যমে তাঁর লা’নতে পতিত হওয়াথেকে হেফাযত করুন। আমীন।আমরা উস্তাদজীর আলোচনায় প্রীত হলাম।অন্যান্য দিনের মত আজও চা চক্রের মাধ্যমেআসরের সমাপ্তি ঘটিয়ে যে যার বাড়ী অভিমুখেরওয়ানা হলাম।(ইবনুল কাইয়্যেমের “ইগাছাতুল লাহফান” অবলম্বনেরচিত)

আরও পড়ুনঃ   ভালো ছাত্র-ছাত্রী গঠন হওয়ার উপায়

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eighteen + 6 =