লজ্জাস্থানে মুখ দেওয়া কি হারাম?

0
3214
লজ্জাস্থানে মুখ দেওয়া কি হারাম?

প্রশ্নঃ লজ্জাস্থানে মুখ দেওয়া কি হারাম?

প্রশ্নঃ স্ত্রীর মুখে লিঙ্গ দেওয়া জায়েজ আছে কি?

প্রশ্নঃ বউয়ের যোনিতে কি মুখ দেওয়া যাবে? ইসলাম কি বলে যদি পারেন জানাবেন।

প্রশ্নঃ স্বামী তার স্ত্রীর যোনি  এবং স্ত্রী তার স্বামী (পুরুষাঙ্গ+যোনি) চুষতে পারবে কি?

উপরের প্রশ্ন ৪ টির কিন্তু মূলে জবাব একটি। তাই চারটি প্রশ্নের জবাব এক সাথে দিয়ে দিলাম।
উত্তরঃ মা আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) বলেছেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি আমার লজ্জাস্থান দেখেন নি এবং আমিও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের লজ্জাস্থান দেখেনি।
তাছাড়া; নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন লজ্জাস্থানে না তাকাতে। কেননা তাতে নাকী চোখের জ্যোতি কমে যায়। (এ হাদীসে কতটুকু সত্য তা আমার জানার বাহিরে। অনেক আলেম এ নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তবে নিচে এ নিয়ে আমার মত প্রকাশ করলাম।

দ্বিতীয়ত: যৌনাঙ্গতে মুখ লাগানো এটি একটি পুশুভিক্তিক আচরণ। যৌনাঙ্গতে মুখ লাগানো এটা সভ্য মানুষের আচরণ হতে পারেনা। পুশুদের হাত নেই বলেই তার সঙ্গীনিকে মুখ দ্বারা উত্তেজিত করে। কিন্তু আপনার তো হাত আছে। আপনার হাত থাকতে কেনো আপনি (পুরুষ ও নারী) কেনো যৌনাঙ্গতে মুখ লাগিয়ে আপনার সঙ্গীনিকে উত্তেজিত করবেন?? আমার জানা মতে পুশুরাও তো যৌনাঙ্গতে মুখ লাগায় না। তবে আপনি কেনো সৃষ্টির সেরা হয়ে যৌনাঙ্গতে মুখ লাগাবেন???

এটা তো প্রসাবের রাস্তা। আপনি কি যে পাত্রে প্রসাব করেন সে পাত্রে কি খাদ্য রেখে খাবেন??? আপনার রুচিতে হলে খেতে পারেন আমার তাতে কোনো আপত্তি নেই।  আমার এই কথার বিপরীতে যদি আপনি বলেন এটা (যৌনাঙ্গ) তো ধোয়া ও পরিস্কার থাকে। জবাবে আমি আপনাকে বলবো আপনি কারো বাসায় মেহমান হয়ে গেলেন। আপনার সামনে সে বাসার মালিকের ছোট্ট ছেলে ফল রাখার পাত্রেতে প্রসাব করে দিল এবং বাসার মালিক তা ধুয়ে সে পাত্রে আপনাকে ফল বা খাবার খেতে দিল তাহলে আপনি কি সে খাবার খাবেন? অবশ্য আপনার রুচিতে হলে খেতে পারেন।

আপনি তাকান তো আপনার নিজের দিকে। আপনি যখন আপনার মায়ের গর্ভে ছিলেন, তখন মহান আল্লাহ আপনার মায়ের মাসিকের রক্ত বন্ধ করে সে রক্ত দিয়ে আপনার প্রাণ বাঁচিয়েছেন। সে মাসিকের রক্ত কি আপনাকে মুখ দিয়ে পান করিয়েছেন না কি নাড়ী দিয়ে। মহান আল্লাহ মাসিকের রক্ত নাড়ী দিয়ে আপনার দেহ প্রবেশ করিয়ে আপনার প্রাণ রক্ষা করেছেন। তিনি এমনটি কেনো করেছেন? উত্তর হচ্ছে এই রক্ত যদি আপনার মুখ দিয়ে আপনার দেহে প্রবেশ করাতেন তাহলে আপনার মুখ টা নাপাক হয়ে যেত। তা হলে আপনি দুনিয়াতে এসে অপবিত্র মুখ দিয়ে মহান আল্লাহর নাম নিতেন। আপনি যাতে পবিত্র মুখ দিয়ে মহান আল্লাহর নাম জপতে পারেন সে জন্য মহান আল্লাহ এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মায়ের গর্ভে আপনার প্রাণ বাঁচিয়েছেন।
তৃতীয়তঃ যৌনাঙ্গতে মুখ লাগালে যৌনাঙ্গতে লেগে থাকা জীবাণু আপনার দেহে প্রবেশ করবে। তাতে আপনি অসুস্থ হওয়ার সম্ভবনা আছে। তাছাড়া আপনি যৌনাঙ্গতে মুখ লাগাবেন সে যদি যৌন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে তখন আপনি কি করবেন???
এখন আপনি যদি প্রশ্ন করেন ডাক্তারেরা তো বলে যৌনাঙ্গতে মুখ লাগাতে। উত্তরে আমি বলতে চাই, ডাক্তারেরাতো বলে পানি ফুটালে পানিতে থাকা জীবাণুরা মরে যায়। কিন্তু পানিতে থাকা জীবাণুরা মরে কি উড়ে যায় নাকি সে জীবাণু পানিতেই থেকে যায়??? এখন  আপনি যদি সে পানি খান তাহলে মরা জীবাণুর সাথেই সে পানি খাচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ   রজব মাসে উমরা পালন

এই পোস্ট টি যারা পড়েছেন তাদের মনে আবার এই প্রশ্ন জাগতে পারে যে লোকদের মনে এ রকম প্রশ্ন আসে কেন???
উত্তর হচ্ছে পর্ণ ভিডিওর প্রভাব। মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখার সুবিধা থাকার কারণে পর্ণ ভিডিও এখন সবার হাতে হাতে চলে এসেছে। পর্ণ ভিডিওতে বিশ্ব বেশ্যারা যা করে তা দেখে তাদের মনে এই ধরণের প্রশ্ন জাগে। যারা এই প্রশ্ন গুলো করেছে আপনি তাদের কে সাধুবাদ জানাবো। কেনোনা তারা এই প্রশ্ন গুলো করার কারনে এই পোস্ট টি লিখতে পেরেছি যার কারণে তারা হয়ত এই কাজ করা থেকে বিরত থাকবে। তারা যদি এই প্রশ্ন না করে ঐ বেশ্যাদের মতো কাজ চালিয়ে যেত তাহলে????

সাঈদ রুবেল

মাহিরের তথ্যপূর্ণ লেখাটি ও এখানে শেয়ার করা হল যাতে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন :

এটি মতবিরোধপূর্ণ একটি বিষয়। ফাতওয়া আল হিন্দিয়া , হানাফি মাজহাবের ফিকাহতে এই মতবিরোধের কথা উল্লেখ আছে,

” স্বামী যদি তার লজ্জাস্থান স্ত্রীর মুখে প্রবেশ করায়, কেউ বলেন তা মাকরুহ,কেউ বলেন মাকরুহ নয়”। (Al-Fatä wa al Hindiyya 5 :372)

    যারা বলে এইকাজ অনুমোদনযোগ্য

এ কথার দলীল নিম্নরূপঃ

– বিষয়টি পরস্পরকে আনন্দ-ফূর্তি প্রদানের সাধারণ বৈধ অনুমতির অন্তর্ভুক্ত।

– যখন কিনা আনন্দ-ফূর্তির সর্বোচ্চ বিষয় সহবাস জায়েয, তখন তার নিম্ন পর্যায়ের আনন্দ-ফূর্তিও বৈধ।

– তাছাড়া পরস্পরের দেহকে স্পর্শ ও দৃষ্টিপাত দ্বারা উপভোগ করা স্বামী-স্ত্রীর জন্যে বৈধ।তবে শরীয়ত যেটুকু নিষেধ ঘোষণা করেছে তা ব্যতীত।

– আল্লাহ্ তাআলা বলেন,
نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ
“তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের ক্ষেত্র স্বরূপ, যেভাবে ইচ্ছা তোমরা তোমাদের ক্ষেত্রে গমণ কর।” (সূরা বাকারাঃ 223)

– হানাফী মাযহাবের ফিকাহবীদ ইবনু আবেদীন (রাদ্দুল মুহতার 26/388) গ্রন্থে বলেন,

আবু ইউসুফ প্রশ্ন করেন ইমা আবু হানীফা (রাঃ)কে, একজন লোক তার স্ত্রীর যৌনাঙ্গ স্পর্শ করে, স্ত্রীও স্বামীর লিঙ্গ স্পর্শ করে, যাতে তার উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, আপনি কি তাতে কোন অসুবিধা আছে মনে করেন? তিনি বললেন, না, আশা করি এতে তাদের প্রতিদান আরো বৃদ্ধি পাবে।

– মালেকী মাযহাবের ক্বাযী ইবনুল আরাবী বলেন,

স্ত্রীর যৌনাঙ্গে দৃষ্টিপাত করা যাবে কিনা মানুষ বিষয়টি নিয়ে দু‘রকম মত প্রকাশ করেছে। বিশুদ্ধ মত হচ্ছে জায়েয। কেননা যখন যৌনাঙ্গে সহবাসের মাধ্যমে আনন্দ গ্রহণ করা জায়েয, তখন দৃষ্টিপাতও জায়েয।

– মালেকী মাযহাবের আরেকটি কিতাব ‘মাওয়াহেবুল জালীল শারহে মুখতাসার খলীল’ (5/23) গ্রন্থে বলেন,
আসবাগকে প্রশ্ন করা হল, কিছু লোক তো যৌনাঙ্গের প্রতি দৃষ্টিপাতকে মাকরূহ মনে করে? তিনি বললেন, কেউ যদি তা মাকরূহ মনে করে বা অপছন্দ করে, তবে তা না জানার কারণে করে, মূলত: তাতে কোন অসুবিধা নেই এবং তা মাকরূহও নয়। ইমাম মালেক (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন, “সহবাসের সময় স্ত্রীর যৌনাঙ্গের প্রতি তাকানোতে কোন অসুবিধা নেই।” আরেক বর্ণনায় আছে, “তার জিহ্বা দিয়ে চোষণ করবে।”

– শাফেঈ মাযহাবের ফিকাহবিদ ফান্নানী বলেন,

স্ত্রীর পায়খানার রাস্তা ব্যতীত তার দেহের যে কোন অংশে যে কোনভাবে উপভোগ করা জায়েয; যদিও তার ভগাঙ্কুর চোষণ করে।” (ফাতহুল মুঈন শরহ কুররাতুল আইন, লিল মা’বারী 3/387) (হাশিয়া এআনাতুত তালেবীন লিল বাকরী, 3/388)

– হাম্বলী মাযহাবের ফিকাহবিদ মুরাদী (ইনসাফ 12/227 পৃঃ) গ্রন্থে বলেন,
ক্বাযী এয়ায (আল জামে’) গ্রন্থে বলেন,

“সহবাসের পূর্বে স্ত্রীর যৌনাঙ্গে চুম্বন করা জায়েয, সহবাসের পর এরূপ করা মাকরূহ। তিনি আরো বলেন, স্ত্রীর জন্যেও স্বামীর লিঙ্গ উত্তেজনার সাথে স্পর্শ করা ও চুম্বন করা জায়েয। (আর রিআয়া) গ্রন্থেও একথাকে সমর্থন করা হয়েছে এবং ইবনে আকীলও সে বিষয়ে সুস্পষ্ট মত প্রকাশ করেছেন। (আল ইক্বনা’ 3/240)

যাদের মতে, [শর্তসাপেক্ষ] এটা হারাম না, তবে ঘৃণ্য কাজ-

আরও পড়ুনঃ   কোরবানি : ১৫টি অতি গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য ও আহকাম

কারন, নবী[সাঃ] সকল খারাপ কাজ থেকে সতর্ক করেছেন। কিন্তু এই ব্যাপারে তিনি স্পষ্টভাবে নিষেধ করেন নি। এতে করে পেটে নাপাক পদার্থ [বীর্য ,প্রস্রাব ইত্যাদি] প্রবেশ করতে পারে। আর শাফেঈ দের মতে [বীর্য ,প্রস্রাব ইত্যাদি] খাওয়া নিষিদ্ধ[বোধ হয়,হারাম বুঝান হয়েছে” forbidden ”শব্দ দ্বারা ] ।

ইমাম নববী [রাহঃ] বলেন,

” The correct well-known opinion is that it is fobidden to consume semen because it is filthy (mustakhbath), [even though not impure]. Allah Most High says: “…And He (Allah Most High) makes unlawful for them filthy things (khaba’ith) [Qur’än 7:157].”(Al-Majmū Sharh al-Muhadhdhab2:397)

ভাবানুবাদঃ

বিশুদ্ধ মত এটা যে, বীর্য খাওয়া হারাম, কারন এটা নোংরা [মুসতাখবাস], [এমনকি এটা নাপাক]। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ “…তাদের জন্য যাবতীয় তায়্যিবাত কে হালাল ঘোষনা করেন ও নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্তুসমূহ….।” (৭ঃ১৫৭)

দেখুনঃ http://www.darulihsan.com/index.php/q-a/fatwa-q-a/nikah-marriage/item/3386-fatwa-oral-sex
—-
উল্লেখ্য, যারা কাজটিকে হারাম বলেন নি, তারা এই শর্ত দিয়েছেন,যেন বীর্য পেটে না যায়]]

সৌদির বিখ্যাত শাইখ আব্দুল্লাহ ইবন মুনায়

উৎসঃ Fataawa Muhimmah li-Nisaa. al-Ummah – Page 154
প্রশ্নঃ
এক বোন প্রশ্ন করেছেন, তাঁর মত্র ৬ মাস আগে বিয়ে হয়েছে। আর তাঁর স্বামী তাকে তাঁর লজ্জাস্থান চুষে দিতে বলে। সে এই ব্যাপারে জানতে চায়।
জবাবঃ
আলহামদুলিল্লাহ। কোন সন্দেহ নেই যে, প্রশ্নকারীনীর স্বামীর এইরূপ কাজ বিরক্তিকর আর অপছন্দনীয়। এটা স্বামী-স্ত্রীর সুন্দর চরিত্রের ক্ষতিসাধন করে। এইরূপ কাজের নিজেদের মধ্যে ঘৃণা তৈরি করতে পারে যার পরিণাম ত্বালাক।

রাসুলুল্লাহ [সাঃ] এর স্ত্রী আয়িশা [রাঃ] বলেনঃ
“তিনি [সাঃ] তাঁর স্থান দেখতেন না, আর তিনি [রাঃ] তাঁর [সাঃ] স্থান দেখতেন না”। [ইমাম আলবানীর মতে এই হাদীসের সনদ বিতর্কিত। দেখুন-আদাবুয যিফাফ। যদিও স্বামী-স্ত্রীর জন্য পরস্পরের লজ্জাস্থান দেখা জায়েজ]

এই নিয়ে খুব বেশি হলে এটা বলা যায় যে, এই কাজ অপছন্দনীয়। এবং আল্লাহ সবকিছু জানেন।

[আরবী থেকে ইংরেজি অনুবাদকঃ সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, স্ত্রীর জন্য স্বামীর লজ্জাস্থানে মুখ দেওয়া অনুমোদনযোগ্য। যাই হোক, উদ্বেগের বিষয় হল, এই কাজের জন্য বীর্য পেটে চলে যেতে পারে। হাম্বলী মাজহাবে স্ত্রীর জন্য স্বামীর লজ্জাস্থানে মুখ দেওয়া জায়েজ।আল মারদীনীর <আল ইনসাফ> [৮ম খন্ড পৃ. ৩৩]। এটা ইবন আক্বীল ছাড়াও অন্যান্যদের মত। মালিকী মাজহাবের আসবাগ বলেছেন যে,

স্বামী তাঁর স্ত্রীর লজ্জাস্থানে মুখ দিতে পারে। <তাফসীর আল কুরতুবী> [খন্ড ১২ পৃ. ২৩১]

[দেখুনঃ http://www.fatwa-online.com/husband-demands-wife-perform-oral-sex-on-him/ ]
— http://www.islamweb.net/emainpage/index.php?page=showfatwa&Option=FatwaId&Id=81994
==========

আধুনিক আলিমদের কারও কারও মতে এটা হারাম


১]সউদীর বিখ্যাত আলিম ‘সালিহ আল-উসাইমীন
উৎস
[ Al-Ajwibah al-Jaabiriyyah ‘alaa As.ilah al-Bareediyyah al-Iliktroniyyah – Question 2, Saturday 20 Rajab 1428AH
http://www.sahab.net/forums/showthread.php?t=370694 ]
প্রশ্নঃ 
কিছু লোক যাকে ‘অরাল সেক্স’ বলে, তা নিয়ে আপনার মত কি?
উত্তরঃ
আল্লাহ কোন স্বামীকে তাঁর মুখ ব্যবহার করে স্ত্রীর সাথে সংসর্গে যেতে অনুমতি দেন নি।
যার নৈতিক মূল্যবোধের অভাব আছে, সে ছাড়া কেউ এই কাজ করে না, এমনকি যদিও সে মুসলিমদের মধ্য থেকে হয়। এবং এটা স্পষ্ট যে, ঐসব মুসলিম এই অভ্যাসটি অবিশ্বাসীদের কাছ থেকে রপ্ত করেছে, পর্নোগ্রাফী দেখার মাধ্যমে।
তাই মুমিন নারীদের উচিত তাদের স্বামীকে এরূপ কাজে বাঁধা দেওয়া।
[দেখুনঃ http://www.fatwa-online.com/some-people-refer-to-it-as-oral-sex/]

আরও পড়ুনঃ   বিয়ে : করণীয় ও বর্জনীয়

২] মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস বিভাগের ডিন আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী [রাহঃ]
উৎসঃ
[al-Fataawa al-Muhimmah – Page 709]
প্রশ্নঃ
কোন নারীর জন্য তাঁর স্বামীর লজ্জাস্থনে মুখ দেয়া বা কোন স্বামীর জন্য তাঁর স্ত্রীর লজ্জাস্থনে মুখ দেয়া কি বৈধ?
উত্তরঃ
আমি এই প্রশ্নের উত্তর এভাবে দিব যেঃ
এটা কিছু পশুদের কাজ, যেমন কুকুর এটা করে।

আমাদের একটি সাধারণ নীতি এটা যে, নাবী [সাঃ] আমাদের পশুদের অনুরূপ করতে নিষেধ করেছেন, আর আমরা এটা ছাড়া আর কি নিয়ে কথা বলছি; যেমন তিনি [সাঃ] আমাদের মাটিতে আগে হাত রাখতে বলেছেন [সিজদার সময়], যেন তা উটের মত না হয়। সালাতের সময় এদিক-সেদিক শিয়ালের মত না তাকানো। এবং রুকু ও সিজদাহর সময় কাকের মত ঠোকর দিতে মানা করেছেন।

আবার যেহেতু রাসূল [সাঃ] আমাদের কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য রাখতে নিষেধ করেছেন, তাহলে এখান থেকে বুঝা গেল যে, এটা নিষিদ্ধ।একইভাবে ওরাল সেক্স এই দিক থেকেও নিষিদ্ধ, কারন এটা পশুদের অনুকরন করার মতই। বিশেষভাবে যেহেতু আমরা জানি যে, পশুর স্বভাব নোংরা। কাজেই মুসলিমদের উচিত এমন কাজ থেকে নিজেদের দূরে রাখা।
[দেখুনঃ http://www.fatwa-online.com/regarding-oral-sex/]

যারা বলে এটা হারাম তাদের আরও কিছু যুক্তি

দৃঢ়ভাবে জানা যায় যে ঐ ধরণের কর্মে কোন রোগের কারণ ঘটতে পারে অথবা কোন পক্ষের কোন ক্ষতির সম্ভাবনা আছে, তখন তা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। কেননা নবী (সাঃ) বলেন,
لا ضرر ولا ضرار
“নিজের ক্ষতি করা যাবে না এবং অন্যেরও ক্ষতি করা যাবে না।” (ইবনে মাজাহ)

অনুরূপভাবে স্বামী-স্ত্রীর কোন একজন যদি কষ্ট পায় বা অপছন্দ করে, তখনও তা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। কেননা আল্লাহ বলেন,
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
“আর তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর।” (নিসাঃ ১৯)

কিন্তু তারপরও এ ধরণের কাজ থেকে বিরত থাকাই উত্তম এবং পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার অনুকুল। তাছাড়া কাজটি ফিতরাত বা সুস্থ স্বভাব বিরোধী ও অনেকটা কুরূচীপূর্ণ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা পরিহার করা উচ্চ মানসিকতা সম্পন্ন লোকের পরিচয়।

অনুরূপভাবে বিষয়টি নেক লোকদের স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। আজকাল মানুষ মিডিয়ার কারণে কাফেরদের বিকৃত যৌনাচার থেকে এগুলো শিখেছে, যদি তাদের সদৃশ্য অবলম্বন উদ্দেশ্য করে তা করা হয়, তবে তা হারাম। কেননা রাসূল (সাঃ) বলেন,
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
“যে ব্যক্তি কোন জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে।” (আবু দাউদ)

শাইখ মতিউর রহমান মাদানী বলেন যে, যেখানে রাসূল [সাঃ] ডান হাত দিয়ে লজ্জাস্থান স্পর্শ করতে নিষেধ করেছেন,সেখানে মুখ দেয়া কি করে জায়েজ হতে পারে?

এখানে লক্ষ্য রাখা উচিত যে, স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কের মূল উদ্দেশ্যের প্রতি খেয়াল রাখা, আর তা হচ্ছে সেই সম্পর্ককে অটুট,মজবুত ও চলমান রাখা। বিবাহ বন্ধনের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে চিরকালিন জোটবদ্ধ থাকা। আর এই অটুট বন্ধনের মূল রহস্য হল পরস্পরের মাঝে আনন্দময় পরিবেশ ও সার্বক্ষনিক নিবিড় ঘনিষ্টতা বিরাজ করা। والله أعلم
=======
বাংলা অনুবাদক- মূলতঃ এটা মানুষের সম্মানহানিকর। মুখ আল্লাহর যিকির এর জন্য। আল্লাহ ভাল জানেন।

এতক্ষণ যারা আমাদের এই পোস্ট টি পড়েছেন তারা সবাই এটি শেয়ার করবেন বলে আমরা আশা করি।

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 − fifteen =