সুন্নাত ও বিদয়াত

0
10
সুন্নাত ও বিদয়াত

বিদয়াত আরবি শব্দ। বিদয়াতের মূল শব্দ হচ্ছে  বাদিউ।আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি গুণবাচক নামের একটি হলো বাদিউ যার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে  ইসলামী শরিয়তে নব আবিষ্কার, নতুন সংযোজন বা নতুন সৃষ্টি, অর্থাৎ নতুনত্ব, অভিনবত্ব বা নজিরবিহীন তথা নতুন কোনো প্রথা প্রবর্তন করা বা চর্চা করা। যার আগের কোনো দৃষ্টান্ত নেই বা ছিল না,তাকে বিদয়াত বলে।

বিদয়াত শব্দটি সুন্নতের বিপরীত অর্থে ব্যবহার করা হয়। রাসূল সা: যা কিছু করেছেন, যা কিছু বলেছেন আর যা কিছু সমর্থন করেছেন এগুলো হাদিস বা রাসূল সা:-এর সুন্নত। প্রকৃতপক্ষে ইসলামী শরিয়তে রাসূল সা:-এর রেখে যাওয়া দ্বীন আল ইসলামের সাথে খোলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নত ব্যতীত অন্য কোনো কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করার এখতিয়ার বা অধিকার আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল সা: কাউকে দেননি। কারণ আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসূল সা:-কে স্বীয় কর্মকাণ্ডের সার্টিফিকেট দিয়ে নতুন কিছু সংযোজন বা বিয়োজনের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, আজকের দিনে আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করে দিলাম, আর তোমাদের ওপর আমার প্রতিশ্রুত নেয়ামতও পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের জন্য জীবনবিধান হিসেবে আমি ইসলামকে মনোনীত করলাম (সূরা মায়েদা-৫/৩)।

উপরিউক্ত আয়াত নাজিল হয়েছিল রাসূল সা:-এর বিদায় হজে অর্থাৎ দশম হিজরির ৯ জিলহজ জুমার (হজের) দিন আসরের নামাজের পর জাবালে রাহমার পাদদেশে। রাসূল সা: তাঁর উটনির ওপর সওয়ার হয়ে যখন উপস্থিত হাজী সাহেবদের সামনে খুতবা বা বক্তৃতা দিচ্ছিলেন, লক্ষাধিক উপস্থিত সাহাবা হাজী সাহেবকে দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে উপস্থিত সবাইকে লক্ষ্য করে প্রশ্ন করেছিলেন,হে আল্লাহর বান্দারা, আমি কি আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত তোমাদের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি? আমি কি আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পেরেছি?’ উপস্থিত সবাই বলেছিল,হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল আপনি আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত যথাযথভাবে আমাদের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছেন আর আপনার দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করেছেন।’ এ কথা শুনে রাসূল সা: আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহ, তোমার বান্দারা সাক্ষী দিচ্ছে আমি আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পেরেছি। অতএব, তুমিও সাক্ষী থেকো।’ এমনি সময় আল্লাহ তায়ালা জিবরাইল আ:-এর মাধ্যমে ওহি পাঠিয়ে দিলে রাসূল সা: উপস্থিত সবাইকে আল্লাহ তায়ালার নিয়ামত ভরা ওই আয়াত সবাইকে জানিয়ে দেন। তাঁর দীর্ঘ খুতবার শেষে নির্মোক্ত নির্দেশনা দেন, যা বিদায় হজের ভাষণ নামে পরিচিত। রাসূল সা: বলেছেন, ‘আমি তোমাদের মাঝে দুটো জিনিস রেখে যাচ্ছি। যত দিন তোমরা এ দুটোকে আঁকড়ে ধরে থাকবে, তত দিন তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না, আর এ দুটো জিনিস হলো আল্লাহর কিতাব ও নবীর সুন্নত (আল হাকিম আস সহিহাইন)।

কুরআন ও হাদিসে নেই এমন সব আমল বা কাজ শরিয়তের ভাষায় বিদয়াত। বিদাতে লিপ্ত হলে বা আমাদের কোনো আমলে বিদয়াত যুক্ত হলে আমরা যে শুধু সুন্নতের খেলাপ করলাম তা কিন্তু নয়। পক্ষান্তরে আমরা আল্লাহর সাথে শিরকেও লিপ্ত হলাম। ইসলামী শরিয়তে নতুন কিছু সৃষ্টি করার এখতিয়ার আছে শুধু আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূলের। আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি গুণবাচক নামের একটি হলো ‘বাদিউ’। বাদিউ শব্দের অর্থ হচ্ছে  নব আবিষ্কারক বা নব সৃষ্টিকর্তা। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন, ‘আসমান ও জমিনের তিনিই স্রষ্টা, যখন তিনি কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তখন তিনি শুধু বলেন, ‘হও’ আর সাথে সাথে তা হয়ে যায়’ (সূরা বাকারা-২/১১৭)। ওই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নিজেই ঘোষণা করেছেন, নব আবিষ্কারের মালিক হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা। আমরা যদি দ্বীনের ভেতর বা ইসলামী শরিয়তের ভেতর নতুন কিছু আবিষ্কার করি, তা হবে শিরক বা আল্লাহ তায়ালার সাথে আমাদেরকে শরিক করার শামিল।

আরও পড়ুনঃ   জিন, জাদুটোনা ও বদনজর সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

বিদাতে লিপ্ত হলাম তো আল্লাহর সাথে কুফরেও লিপ্ত হলাম। যেমন আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘আজকের দিনে আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করে দিলাম, আর তোমাদের ওপর আমার প্রতিশ্রুত নেয়ামতও পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের জন্য জীবনবিধান হিসেবে আমি ইসলামকে মনোনীত করলাম’ (সূরা মায়েদা-৫/৩)। এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইসলামকে পরিপূর্ণতা দানের ঘোষণা করার পরও যদি আমরা নতুন কিছু যোগ করি, তা হবে শিরক, আর যদি কিছু বিয়োগ করি তা হবে কুফর।

বিদয়াত মুমিন জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে। আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ করেছেন, আল্লাহর জমিনে একবার তাঁর শান্তি স্থাপনের পর তাতে তোমরা বিপর্যয় সৃষ্টি করো না, তোমরা ভয় ও আশা নিয়ে আল্লাহ তায়ালাকেই ডাকো, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার রহমত নেক লোকদের অতি নিকট (সূরা আরাফ-৭/৫৬)। সূরা আল মায়েদার ৩ নম্বর আয়াতে ইসলামকে পরিপূর্ণতা দেয়ার ও আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন বলে ঘোষণা করা হয়েছে, আর এ আয়াতে পরিপূর্ণ দ্বীন মেনে নিয়ে, নতুন কোনো যোগ-বিয়োগ না করে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিদয়াত সম্পর্কে রাসূল সা: সতর্ক করে বলেছেন, তোমরা আমার ও খোলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শ গ্রহণ করো এবং খুব মজবুতভাবে তা ধারণ করো। আর সাবধান! নতুন উদ্ভাবিত সব বিষয়ে সতর্ক থেকো। কেননা নতুন উদ্ভাবিত সব বিষয়ই বিদয়াত, আর সব বিদয়াতই গোমরাহি ও ভ্রষ্টতা (সুনানে ইবনে মাজাহ)। তিনি আরো বলেছেন, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো, আল্লাহর কিতাব আর সর্বোত্তম হিদায়াত হলো মুহাম্মদ সা:-এর হিদায়াত। সর্বনিকৃষ্ট বিষয় হলো মনগড়া নব প্রবর্তিত বিষয়, আর প্রত্যেক নব প্রবর্তিত বিষয়ই বিদয়াত এবং প্রত্যেক বিদয়াতই গোমরাহি বা ভ্রষ্টতা’ (সহি মুসলিম)। তিনি বলেছেন, ‘দ্বীনের ব্যাপারে নতুন সৃষ্ট যেকোনো প্রথাই বিদয়াত, আর সব বিদয়াতই গোমরাহি (আবু দাউদ)।বিদয়াত শিরক ও কুফরের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই (তোমাদের জন্য) আমার মনোনীত দ্বীনবা একমাত্র জীবনব্যবস্থা হচ্ছে ইসলাম (সূরা ইমরান-৩/১৯)।

যে কেউ আল্লাহর মনোনীত ‘  দ্বীন’ বা জীবন বিধান বা আল্লাহর আইনকানুন বাদ দিয়ে নিজেদের মনগড়া নতুন আইন তৈরি করল আর সে আইনে সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনা করল, সে বিদাতের সাথে শিরকও করল। কারণ আইন বা বিধানদাতা হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন, ‘সৃষ্টি যেহেতু আমার, সুতরাং হুকুমও চলবে শুধুমাত্র আমার। সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত দয়ালু ও মেহেরবান (সূরা আরাফ-৭/৫৪)। আল্লাহ তায়ালার এ নির্দেশের পর কেউ কোনো আইন তৈরি করতে পারে না, করলে তা হবে শিরক বা আল্লাহর সাথে নিজেদেরকে শরিক করা, আর আল্লাহ তায়ালার এ হুকুম অমান্য করার অর্থ হচ্ছে কুফরি করা। আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা হচ্ছেÑ ‘যদি কেউ ইসলাম ছাড়া নিজেদের জন্য তথা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অন্য কোনো দ্বীন বা জীবনবিধান, আইনকানুন তালাশ করে বা আবিষ্কার করে, তার কাছ থেকে সে নব উদ্ভাবিত বিধি ব্যবস্থা কখনোই গ্রহণ করা হবে না’ (সূরা আল ইমরান-৩/৮৫)।
বিদয়াত রাসূল সা:-এর আনুগত্যের পরিপন্থী। রাসূল সা:-এর আনুগত্য না করাও কুফরি। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ হচ্ছে, ‘হে ঈমানদারগণ তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো তাঁর রাসূলের এবং সেসব লোকদের, যারা তোমাদের মাঝে উলিল আমর বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের’ (সূরা নিসা-৪/৫৯)।
বিদাতে লিপ্ত হওয়ার অর্থ হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার ওপর অপবাদ বা তোহমত আরোপ করা। আল্লাহ তাঁর দ্বীনের পরিপূর্ণতা দান করেননি বিধায় নতুন কিছু সংযোজন করে বা আইন তৈরি করে সমাজ বা রাষ্ট্র চালাতে হচ্ছে (নাউজুবিল্লাহ)। অথচ আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসূলের মাধ্যমে দ্বীনের পরিপূর্ণতা দান করে সার্টিফিকেট দিয়েছেন, যা সূরা আল মায়েদার ৩ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে।

আরও পড়ুনঃ   দৃষ্টি সংযত রাখার মাহাত্ম্য ও মর্যাদা

বিদাতে লিপ্ত হওয়ার অর্থ হচ্ছে  রাসূল সা:-এর ওপর অপবাদ দেয়া যে, রাসূল সা: তাঁর ওপর আল্লাহ তায়ালার অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন (নাউজুবিল্লাহ)। আসলে আল্লাহর রাসূল সা: তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার কারণে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে স্বীকৃতি লাভ করেছিলেন, যা সূরা আল মায়েদার ৩ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে।

বিদাতে লিপ্ত হওয়ার অর্থ হচ্ছে  সাহাবায়ে কেরামদের মর্যাদা খাটো করা। অথচ সাহাবায়ে কেরামদের মর্যাদার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘সে সব মোহাজের ও আনসারকে যারা প্রথম দিকে ঈমান এনেছে এবং পরে যারা তাদেরকে একান্ত নিষ্ঠার সাথে অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহ তায়ালার ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন, আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য এমন এক সুরম্য জান্নাত তৈরি করে রেখেছেন, যার তলদেশে ঝরনাধারা প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরদিন থাকবেন, আর তাই হবে তাদের জন্য সর্বোত্তম সাফল্য’ (সূরা আত তওবা-৯/১০০)।

রাসূল সা: বলেছেন, ‘তোমাদের উচিত আমার সুন্নতকে আঁকড়ে ধরা এবং আমার সুপথ প্রাপ্ত ন্যায়বান খলিফাদের সুন্নাতকেও, তোমরা সুদৃঢ়ভাবে তা কামড়ে ধরো’ (আদ দারিমি)। তিনি আরো বলেছেন, ‘সর্বোত্তম যুগ হলো আমার যুগ, অতঃপর যারা আসবে তাদের যুগ, অতঃপর যারা আসবে তাদের যুগ’ (সহিহ আল বুখারি)।
আমাদের ইবাদত, আমল বা কাজের ক্ষেত্রে প্রথমত দেখতে হবে রাসূল সা: এ কাজ বা আমল করেছেন কি না? আর করলে কিভাবে করেছেন? যদি রাসূল সা: এ কাজ বা আমল না করে থাকেন, তাহলে আমরা এ কাজ বা আমল থেকে বিরত থাকব। দ্বিতীয়ত, আমরা যে ইবাদত বা কাজ করি সে আমল বা কাজ খোলাফায়ে রাশেদিন করেছেন কি না? আর করলে কিভাবে করেছেন? তৃতীয়ত, বা সর্বশেষ দেখতে হবে আমরা যে ইবাদত, আমল বা কাজ করি, তা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি প্রাপ্ত সাহাবায়ে কিরাম করেছেন কি না? আর করলে কিভাবে করেছেন? যে কাজ বা আমল রাসূল সা: করেননি, খোলাফায়ে রাশেদিন করেননি, আর সাহাবায়ে কেরামও করেননি; সে কাজ আমরা করতে পারি না বা করা উচিত না। যদি আমরা এসব কাজ করি বা রাসূল সা: করেননি, খোলাফায়ে রাশেদিন করেননি, সাহাবায়ে কেরামও করেননি তাহলে আমরা আল্লাহ তায়ালার সাথে শিরক ও কুফর করলাম, রাসূল সা:-এর নবুয়তকে অস্বীকার করলাম, খোলাফায়ে রাশেদিনের ও সাহাবায়ে কেরামদের মর্যাদাকেও অস্বীকার করলাম বা খাটো করলাম, ইসলাম অসম্পূর্ণ বলে ধরে নিলাম।

আরও পড়ুনঃ   ইসলামের আলোকে শিক্ষা ও শিক্ষকতা

জুমার খুতবা চলাকালেও মসজিদে ঢুকে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে তবেই বসার নির্দেশ দিয়েছেন রাসূল সা:। অথচ জুমার খুতবা শোনা ওয়াজিব। আর এখন মসজিদে যখন আলোচনা বা ওয়াজ অথবা বয়ান চলে, তখন নামাজ আদায় করতে নিষেধ করা হয়! মসজিদে লাল বাতি জ্বালানো হয় আর লেখা থাকে, লালবাতি জ্বলাকালীন নামাজ পড়া নিষেধ! আমরা এমন আরো অনেক আমল বা কাজ করি, যা রাসূল সা:, খোলাফায়ে রাশেদিন ও সাহাবায়ে কেরামদের আমলের বিপরীত।

বিদাতের পরিণতির বিষয়গুলো চিন্তা করে হালাল, হারাম, সুন্নত ও বিদয়াত সম্পর্কে জেনে বুঝে আমাদের ইবাদত বা আমল করা উচিত। তা না হলে রাসূল সা:-এর সুন্নাহর পরিবর্তে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের আশায় বিদাতের আমলের কারণে অবশ্য অবশ্যই জাহান্নামে যেতে হবে। এ ব্যাপারে হাদিস শরিফের সতর্ক বাণী হচ্ছে  ‘সাহল ইবনে সাদ রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সা: বলেছেন, হাশরের দিন আমি হাউজে কাউসারের পাশে অবস্থান করব। যে (পুলসিরাত পার হয়ে) আমার সামনে দিয়ে যাবে, সে হাউজে কাউসারের পানি পান করবে। আর যে হাউজে কাউসারের পানি পান করবে, সে কখনো পিপাসার্ত হবে না। অতঃপর একটি দল আসবে যাদেরকে আমি চিনব এবং তারাও আমাকে চিনবে। কিন্তু তাদের ও আমার মাঝে (ফেরেশতা কর্তৃক) প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হবে। তখন আমি বলব, তারা তো আমার লোক। তখন (ফেরেশতারা বলবে বা) বলা হবে; আপনি জানেন না, আপনার পর তারা দ্বীনের ভেতর বিদাতের প্রচলন করেছে বা নতুন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করেছে। তখন আমি তাদেরকে বলব, দূর হও, দূর হও, দূর হও। তখন জাহান্নামের ফেরেশতারা তাদের গলায় জাহান্নামের শিকল পরিয়ে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। যারা আমার পর আমার দ্বীনের মধ্যে বিদাতের প্রবর্তন করেছিল বা দ্বীনের মধ্যে পরিবর্তন করেছিল (সহিহ মুসলিম)। অতএব, সুন্নত বাদ দিয়ে বা সুন্নত না জেনে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের আশায় বিদাতের আমলের ব্যাপারে সাবধান!

বিদয়াত থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে কুরআন ও হাদিসের জ্ঞানার্জন করা ও সে অনুযায়ী আমল করা। বাপ-দাদাকে করতে দেখেছি তাই আমিও করব। কোনো পীর-বুজুর্গ বা মুরব্বির কথা শুনেছি অথবা কিতাবের এবারত পড়েছি এমনটি নয়, সরাসরি কুরআন ও হাদিস থেকে জ্ঞানার্জন করতে হবে, সে জ্ঞান অনুযায়ী আমল করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই জ্ঞানী লোকেরই আমাকে বেশি ভয় করে চলে, নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাশক্তিশালী ও ক্ষমাশীল’ (সূরা ফাতের-৩৫/২৮)। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে উচ্চমর্যাদা দেবেন, আর যা কিছু তোমরা করো আল্লাহ সে বিষয়ে পূর্ণ অবহিত’ (সূরা মুযাদালা-৫৮/১১)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা যাকে কল্যাণ দান করতে চান, তাকে দ্বীন সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান ও সমঝ দান করেন  (মুসনাদে আহমদ)।

সূত্রঃ নিউ মুসলিমস

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 + eight =