সুরা ফাতেহা নাজিল হলো যেভাবে

0
4
সুরা ফাতেহা

মাওলানা মিরাজ রহমান: হজরত আমর ইবনে শুরাহবীল হতে বর্ণিত- একদিন রাসূলে কারীম [সা.] (নবুওয়াত প্রাপ্তির গোঁড়ার দিকে) হজরত খাদীজাকে [রা.] বললেন, আমি কয়দিন যাবৎ নীরব নিভৃতে গেলে সহসাই একটি শব্দ শুনি। এতে আমার মনে ভয় হয়, সম্ভবত সামনে বড় কোন দূর্ঘটনা আছে। হজরত খাদীজা [রা.] বললেন, আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করুন। আপনার কষ্ট হোক আল্লাহ তা চান না। আপনি আমানতের হেফাজত করেন, আত্মীয়তা রক্ষা করেন, সত্য কথা বলেন। এই কথা বলার পর রাসূলুল্লাহ [সা.] কোথাও বেরিয়ে গেলে হজরত আবু বকর [রা.] এলেন। হজরত খাদীজা [রা.] তাঁর কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন এবং মুহাম্মদকে [সা.] সঙ্গে নিয়ে ওরাকা ইবনে নওফেলের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। কিছুক্ষণ পর রাসূলে কারীম [সা.] ফিরে এলেন। তখন হজরত আবু বকর [রা.] নবীজীর হস্ত মুবারক ধরে বললেন, চলুন! ওরাকা ইবনে নওফেলের কাছে যাই। নবীজী জিজ্ঞাসা করলেন, আপনাকে এসব জানাল কে? হজরত আবু বকর [রা.] বললেন, খাদীজা [রা.]।

অতঃপর উভয়ই ওরাকা ইবনে নওফেলের কাছে তাশরীফ নিয়ে গেলেন এবং তাকে বললেন, আমি নীরব নির্জনে গেলে পেছন দিক থেকে ‘হে মুহাম্মদ! হে মুহাম্মদ!’ ডাক শুনতে পাই। তখন আমি দ্রুত বেগে সামনে চলি। প্রত্যুত্তরে ওরাকা ইবনে নওফেল বললেন, আপনি এমন করবেন না। সেখানেই থেমে যাবেন। ভাল করে শুনে নিবেন, আহবানকারী কি বলে? তারপর আমার কাছে আসবেন।

এরপর নবী কারীম [সা.] নির্জনে গিয়ে পূর্বের মত পিছু ডাক শুনে থমকে দাঁড়ালেন। শুনলেন আহবানকারী বলছে- (ইয়া মুহাম্মাদ! বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন…) অতঃপর আহবানকারী বললেন, (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) বলুন!

এরপর নবীজী ওরাকা ইবনে নওফেলের কাছে গিয়ে সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন। এ ঘটনা শুনে ওরাকা ইবনে নওফেল বললেন, সুসংবাদ! আপনাকে সুসংবাদ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি সেই রহমাতুল লিল আলামীন আখেরী নবী, যার সুসংবাদ হজরত ঈসা ইবনে মারইয়াম দিয়ে গেছেন। আপনার কাছে ফিরিশতা প্রত্যাদেশ নিয়ে আসেন, যিনি হজরত মূসা [আ.]-এর কাছে প্রত্যাদেশ নিয়ে আসতেন। আপনি আল্লাহ পাকের প্রেরিত নবী। (আদ্দুররুল মানছুর)

আরও পড়ুনঃ   আল কুর’আনে তাওহীদের বিষয়ে ৯ জন নবীর ভাষণ

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

7 − 2 =