স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মহানবী (সা.)-এর বাণী

0
35
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মহানবী (সা.)

ডা. মো. আব্দুল গাফফার:  স্বাস্থ্য দয়াময় আল্লাহতায়ালার একটি বিশেষ নিয়ামত। মহান আল্লাহর দেওয়া এই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা প্রতিটি মানুষের অপরিহার্য কর্তব্য। আল্লাহতায়ালার অফুরন্ত নেয়ামত আমরা ভোগ করছি। অথচ অনেকেই আমরা তার দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করছি না। আল্লাহ বলেছেন- তোমরা আমার সামান্যতম নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করো আমি তোমাদের নেয়ামত বৃদ্ধি করে দেবো। কাজেই শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও মহান আল্লাহর একটি বিশেষ নিয়ামত। আর এই নিয়ামতের শোকরিয়া আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের অবশ্যই কর্তব্য। স্বাস্থ্য সম্পর্কে লিখতে গেলে অনেক কিছুই লিখতে হয়। এক কথাই  স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। সুতরাং এই স্বাস্থ্যের প্রতি লক্ষ রাখা এবং স্বাস্থ্য রক্ষার মৌলিক নীতিমালাসমূহ মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বিশেষ আবশ্যক।
মহানবী (সা.)) স্বাস্থ্য, সুস্থতা এবং স্বাস্থ্যের হেফাজত ও সুরক্ষার মৌল বিধিবিধান সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক ও উপকারী বস্তুনিষ্ঠ এবং সে সকল বিষয়ও চিহ্নিত করে দিয়েছেন যা স্বাস্থ্য অটুট ও সুস্থ রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। নাসায়ী শরিফে বর্ণিত এক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন- নিশ্চয়ই মানুষকে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো নিয়ামত দান করা হয় নাই। মহানবী (সা.) আরেক হাদিসে বর্ণনা করেছেন- স্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য মহান রাব্বুল আলামিনের নিয়ামতসমূহের মধ্যে দুটি বিশেষ নিয়ামত। অধিকাংশ লোক এই দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে ক্ষতি ও ধোঁকায় পতিত রয়েছে।
তিরমিযী শরিফে বর্ণনা করা হয়েছে- এক বদরি সাহাবি নবী করিম (সা.)-এর নিকট হাজির হয়ে আরোপ করলেন- ইয়া রাসুলুল্লাহ। নামাজের পর কোন দোয়া করবো? রাসূলে করিম (সা.) জবাব দিলেন- আল্লাহতায়ালার নিকট স্বাস্থ্য ও সুস্থতার দোয়া করবে। অতঃপর সাহাবী একই প্রশ্ন করলে হুজুর (সা.) আল্লাহতায়ালার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি নিরাপত্তা স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য দোয়া করবে। (তিরমিযী শরীফ)। সুস্বাস্থ্য যে কত বড় নিয়ামত একমাত্র অসুস্থ ভুক্তভোগী ব্যক্তি ছাড়া বুঝতে পারবে না। আখেরী নবীর মর্যাদায় অভিষিক্ত হুজুর (সা.) বারবার এই স্বাস্থ্যের জন্য দোয়া করার উপদেশ ও শিক্ষা দিয়েছেন। এরপরও যদি আমরা নিজের স্বাস্থ্যের কদর না করি বা সুস্থতার জন্য আল্লাহতায়ালার শুকরিয়া আদায় না করি তা হলে আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করার কারণে আল্লাহ আমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তার গজব দিতে পারেন। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা স্বাস্থ্যরক্ষার একটি অন্যতম উপায়। তাই রাসূলে করিম (সা.) এরশাদ করেছেন, পাঁচটি বিষয়কে তিনি স্বভাবজাত হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছেন। যেগুলিকে তার সুন্নত হিসেবে মেনে চলা হয়। যেমন- খাতনা করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার রাখা, নখ কাটা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা ও গোঁফ ছাটা। আধুনিক বিজ্ঞান এগুলির উপকারিতার প্রমাণ পেয়েছে। এই পাঁচটি বিষয়ের উপর রাসূলে করিম (সা.) অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। দুঃখ-কষ্ট রোগ-ব্যাধি গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন- মুমিন এমন কোনো কষ্ট পায় না এমনকি তার কোনো কাঁটা বেঁধে না যার অছিলায় তার গুনাহসমূহ মাফ করা না হয়। (মুয়াত্তা)। রাসূল (সা.) আরো বলেছেন, ‘মুসলমানের এমন কোনো ব্যথা, কষ্ট, ক্লান্তি, রোগ, পেরেশানি বা কোনো কষ্ট নাই যার দ্বারা তার পাপরাশি দূর না হয়’। (বোখারী ও মুসলিম)।
রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন- অতিরিক্ত খাওয়া থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাও। তিনি আরো বলেছেন- তোমরা উদরপূর্তি করে খেও না। এক ভাগ খাদ্য দ্বারা, এক ভাগ পানি দ্বারা এবং একভাগ শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার জন্য খালি রাখো। (বোখারী)। অতি ভোজন বহুবিধ রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন- অতি ভোজনের প্রাথমিক ফল হলো ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেসার এবং হার্টের রোগ। এ রোগগুলি দুরারোগ্য এবং অতি ভোজনের কারণে হয়ে থাকে। তাই আমাদের প্রিয় নবী খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে অনেক নির্দেশনা দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেছেন- তোমরা দাঁড়িয়ে কোনো খাওয়া বা পান করো না। শয়তান দাঁড়িয়ে পানাহার করে। তিনি আরো বলেছেন- তোমরা বাম হাত দিয়ে কোনো কিছু পানাহার করো না। এর কারণে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কাজেই  আহার নিদ্রার ক্ষেত্রেও আমরা যদি মহানবীর সুন্নত তরিকা মেনে চলি তাহলে অনেক দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি পাবো। এতে সন্দেহ নাই। তিনি বলেছেন- মুসলমান এক নাড়ি দ্বারা খায় আর কাফের ও মোনাফেক সাত নাড়ি দ্বারা যায়। (বোখারী শরীফ)। ক্ষুধার অতিরিক্ত ভক্ষণকারীকে ঘৃণার চোখে দেখা হয়। (মুসনাদ)। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে অতিরিক্ত খাবে কেয়ামত দিবসে সে ঐ পরিমাণ ক্ষুধার্ত থাকবে। (ইবনে মাজাহ)। স্বাস্থ্য ও সুস্থতা মহান আল্লাহতায়ালার একটি বিশেষ নিয়ামত। আমরা যারা নিজেকে মুসলমান হিসেবে দাবি করি- স্বাস্থ্যরক্ষার ক্ষেত্রে রাসূলে করিম (সা.)-এর সুন্নত মেনে চলি সুস্থ থাকি এবং সুস্থ দেহ ও মন নিয়ে আল্লাহর ইবাদতসহ দুনিয়াবি কাজ করি। আল্লাহ আমাদের সকলকে দৈহিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখুন। আমিন।

আরও পড়ুনঃ   আপনি কি গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন ?

লেখক :: কলামিস্ট
[email protected]

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

9 − eight =