হজ্জ ঐক্যের প্রতীক

0
29
হজ্জ

তখন একেবারেই শিশু, বয়স তিন বছরের বেশি নয়। মাত্রাতিরিক্ত ঝড়ো হাওয়া বয়লে ঘরের অন্যসব সদস্যের মত আমিও ভয়ে হাঁপিয়ে যেতাম। কখন আবার ঘরের চাঁল গায়ে এসে পরে! ঘরে চাঁল বাতাসের সাথে সখ্যতা করে না আবার দূর আকাশে উঠে যায়! মা, বাবাকে বললো, ঘরটা তো একেবারে নড়বড়ে অবস্থা। বসবাস অযোগ্য হয়ে পরেছে। বৃষ্টির পানি বাইরে পরার আগে ঘরে পরে। টিনগুলোও নষ্ট প্রায়। মায়ের কথাগুলো বাবার অন্তর নাড়া দিল। যেই কথা সেই কাজ! পাশের বাড়ির এক কাকাবাবু ঘর মেরামত করে। আমরা তাকে কারিগর কাকা বলে ডাকি। ঘর মেরামতের জন্য বাবা কাকাকে নিয়ে আসলো। বাবাকে ঘর মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসের একটি তালিকা দিল কাকু। এবং তাগিদ দিয়ে বললো পাঁচটি ফিলার (কনক্রিট আর লোহায় তৈরী মজবুত খুঁটি) আনতে। আর কয়েকটি গাছের খুঁটিও আনতে বললো কারিগর। কাকার কথামতো সব মালপত্র আনলো বাবা। ঘর পুনঃনির্মান এর কাজ শুরু হলো। সর্বপ্রথম উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম চারকোনে চারটি এবং সমান মাঝকানে একটি ফিলার স্থাপন করেছে কারিগর। শিশুসুলভ ভঙ্গিতে কাকাকে প্রশ্ন করলাম, পাঁচটি খুঁটি কেন স্থাপন করা হলো? কেনইবা পাঁচটি খুঁটি গেড়ে কাজ শুরু করা হলো? বড় হলে বুঝবি বলে এড়িয়ে গেল কাকা। আমি দেখেই আছি তার হালত। সে খুঁটির সাথে বাঁশ বেধেঁ অনায়াসে কাজ করে যাচ্ছে। নির্ভয়ে ওপরে উঠেছে আর নিচে নামছে কারণ খুঁটি তো শক্ত আছে। একপর্যায়ে ঘর মেরামত সম্পূর্ণ হলো। দেখলাম ঐ পাঁচটি খুঁটির ওপরই আমাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ঘরটা বহাল তবিয়তে দাঁড়িয়ে আছে। ঝড়বাদলের দিনে এখন আর ভয় হয়না, প্রচুর বৃষ্টিতেও মায়ের মুখে হাসি। সমস্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে আমরা নিরাপদ। কারণ আমাদের ঘর এখন শক্ত ফিলারে ইস্পাতদৃঢ়।
চার বছর বয়স থেকে মক্তবে যাচ্ছি। আরবি হরফ শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী জ্ঞানকোষ বই থেকে একদিন হুজুর পড়াচ্ছেন “বুনিয়াল ইসলামী আলা হামসি ” অর্থাৎ ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। মুয়াজ্জিন হুজুর এই আয়াতের যথাসাধ্য ব্যখ্যা দিলেন। মুয়াজ্জিন হুজুরের কথার সাথে আমাদের ঘর মেরামতের কার্যক্রমের সাথে যতেষ্ট মিল পেলাম। ছোট্ট সাইফুলের বুঝতে বাকি রইলনা তার ঘরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাঁচটি খুঁটি স্থাপনের হাকিকত।
আমি বুঝতে পারলাম ঘরের এককোন যদি খুঁটিহীন হয় ঘরে কী অবস্থা হবে। খুঁটিহীন ঘর যে  কল্পনাও করা যায়না তা বুঝতে দেরী হলোনা সাইফুলের।
সাইফুল যত বড় হতে লাগলো তার জানার, বুঝার, গবেষণার পরিধিও ক্রমেই প্রসারিত হতে চললো। তার গবেষণার দুয়ারে ধরা দিল ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের বিষয়টি। সৃষ্টি কর্তার প্রিয় হতে যে পাঁচটির একটিও কম থাকলে চলবেনা তাও বুঝে নিতে সক্ষম হলো সে। আর এই পঞ্চ স্তম্ভ হচ্ছে কালিমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত।
প্রথম তিনটি এবং সামর্থবানের জন্য শেষ দুইটিসহ মোট পাঁচটি ভিত্তির পরিপূর্ণ পালনে একজন মানুষ ইনসানে কামেলে পরিনত হয়।
আল্লাহ-রসূলের প্রিয় পাত্র হয়ে দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতে মুক্তি নসিব হয়। এই পাঁচ ভিত্তির একটি হলো হজ্জ। বিশ্বমুসলিম ইতিহাসে সর্বকালের সর্ববৃহৎ ইসলামী মহাসম্মেলনের নাম হজ্জ। পবিত্র কাবাগৃহেকে কেন্দ্র করে মহান প্রভুর সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে বিশ্বের সুদূর প্রান্তসমূহ হতে সামর্থ্যবান মুসলমানগণ হূদয়ভরা ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আবেগজড়িত চিত্তে মক্কায় হাজির হয় এবং সম্পাদন করে হজ্জের যাবতীয় কার্যাবলী। মূলত হজ্জ মুসলিম জাতির সামাজিক, রাজনৈতিক, আধ্যাত্মিক ঐক্য এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও মমত্ববোধের এক প্রকৃষ্ট নিদর্শন।
হজ্জ শব্দটি আরবি। ভাষাবিদরা যার অর্থ তুলেছেন ইচ্ছা ও সংকল্প করা, সাক্ষাৎ করা, মহান কোন কিছুর ইচ্ছা করা। ইংরেজীতে এর অর্থ হচ্ছে To make decision, To meet
ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় হজ্জ হলো, মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কার্যাবলির মাধ্যমে সম্মানিত বায়তুল্লাহ যেয়ারতের সংকল্প করার নামই হজ্জ।
সকল আলেম ও ফকিহগণের ঐক্যমত্যে আদায়, পদ্ধতি ও ফজিলতের দিক থেকে হজ্জ তিন প্রকার। যথা- হজ্জে ইফরাদ, তামাত্তু ও কেরান।
মীকাত সমূহ হতে শুধু হজ্জের ইহরাম বেঁধে হজ্জ সম্পাদন করাকে হজ্জে ইফরাদ বলে আর প্রথমে ওমরার নিয়ত করে ওমরার কাজ সম্পাদন করে হালাল হয়ে ৮ জিলহজ্জ তারিখে হজ্জ্বের নিয়ত করে হজ্জের কাজ সম্পাদক করাকে হজ্জে তামাত্তু বলে এবং মীকাত হতে হজ্জ ও ওমরার নিয়তে উভয়ের জন্য একসাথে ইহরাম বেঁধে হজ্জ্বের কার্যাবলী সম্পাদন করাকে বলে হজ্জে তামাত্তু।
ইমাম আবু হানিফার মতে হজ্জে কেরান, ইমাম শাফেয়ীর মতে হজ্জে ইফরাদ ও ইমাম আহমদের মতে হজ্জে তামাত্তু হলো সর্বোত্তম হজ্জ।
সামর্থবানদের ওপর সন্দেহাতীতভাবে জীবনে একবার হজ্জ ফরজ।
.
হজ্জ্বের মধ্যে মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলিম
জাতির জন্য ইহকালীন এবং পরকালীন
জীবনে অনেক কল্যাণ অন্তর্ভূক্ত করে রেখেছেন। তিনি হজ্জের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ইবাদাতের সমাবেশ ঘটিয়েছেন। পবিত্র বাইতুল্লাহর দর্শন, তাওয়াফ, মাকামে ইবরাহিমে নামাজ আদায়,
দাঁড়িয়ে ঝমঝমের পানি পান, সাফা-মারওয়া পাহাড়ে প্রদক্ষিণ, মিনায় অবস্থান ও নামাজ আদায়, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করতঃ খুতবা শ্রবণ-প্রাণ খুলে দোয়া, রাতে মুযদালিফায় অবস্থান, মিনায় কংকর নিক্ষেপ ও রাত্রিযাপন,
তথায় পশু কুরবানী ও মাথা মুণ্ডনসহ আল্লাহর
নৈকট্য অর্জনে জন্য বেশি বেশি জিকির ও তাঁর দিকে ধাবিত হওয়াকে তিনি হজ্জে বিধিবদ্ধ নিয়ম  করেছেন।
.
ইমাম আবু হানিফা, শাফেয়ী ও মুহাম্মদের মতে- হজ্জ বিলম্বের অবকাশসহ ফরজ। ইমাম মালেক, আহমদ, আবু ইউসুফের মতে- সামর্থবান হওয়ার সাথে সাথে ঐ বছরই হজ্জ আদায় করা ফরজ।
.
হজ্জে গমনের জন্য হজ্জ পালনকারীদের কিছু
নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আর্থিক এবং শারীরিক সামর্থ্য।
নারীদের জন্য মাহরাম। ইসলামী সূত্রানুযায়ী আর্থিক এবং শারীরিক সামর্থ্য ছাড়াও নারীদের
জন্য তৃতীয় একটি শর্ত উল্লেখ করা হয়, সেটি হলো হজ্জে যাওয়ার জন্য নারীকে স্বীয় স্বামী বা যার সঙ্গে ঐ মহিলার বিয়ের অনুমতি নেই, অর্থাৎ কখনো ঐ ব্যক্তির সঙ্গে ঐ মহিলার বিয়ে বৈধ হবে না, যেমন পিতা, ভ্রাতা, পুত্র, প্রমুখ
কয়েকজন নির্দিষ্ট আত্মীয় পুরুষকে সঙ্গে নিতে হয়। একে মাহারাম বলা হয়। যাদের এরকম কেউ নেই তাদের হজ্জে যাওয়ার ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নেই। মাহারাম ব্যতীত হজ্জ্বের জন্য নারীদের সৌদী আরবের ভিসা প্রদান করা হয় না। এক্ষত্রে উল্লেখ রয়েছে যে, যদি মাহরাম
ব্যতীত হজ্জ করতে যায় তাহলে হজ্জ হয়ে যাবে, কিন্তু মাহারাম ব্যতীত সফরের জন্য গুনাহগার বা পাপী হবে।
.
হজ্জকালীন সার্বিক অবস্থাকে বলা হয় ইহরাম যার প্রধান চিহ্ন হলো দুই খণ্ড সেলাইবিহীন সাদা কাপড় পরিধান। ইহরাম-এর নির্দ্দিষ্ট স্থানকে বলা হয় মিকাত । হজ্বের সময় তালবিয়াহ নামক দোয়া পাঠ করা হয়। এটি নিম্নরূপ: -‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা, লাব্বাইকা লা- শারীকা লাকা লাব্বাইকা। ইন্নাল হামদা ওয়ান নেয়ামাতা লাকা ওয়াল মুলকা লা-শারীকা লাকা । এর অর্থ হলো, হে আল্লাহ, আমি হাজির আছি, আমি হাজির আছি। আপনার কোনো শরীক নেই, আমি হাজির আছি। নিশ্চয় সকল প্রশংসা ও নেয়ামত আপনারই এবং সমগ্র
বিশ্বজাহান আপনার। আপনার কোনো
শরীক নেই।
.
কাবাঘরে সর্বপ্রথম হজ্জ আদায় করেন আদিপুরুষ  নবী হযরত আদম (আঃ)। তারপর নূহসহ অন্য অন্যান্য নবী-রাসূল এই দায়িত্ব পালন করেন। মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ)’র সময় থেকে হজ্জ ফরয বা আবশ্যকীয় ইবাদত হিসেবে বান্দার জন্য নির্ধারিত হয়। হিজরি সনের ১২তম মাস হলো জিলহজ্জ মাস। পাক কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী এই সময়ই আল্লাহ তায়ালা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে হজ্জের ঘোষণা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। এ আদেশের পর হযরত ইব্রাহিম আবু কোবাইস পাহাড়ে আরোহণ করে দুই কানে অঙ্গুল রেখে ডানে-বামে এবং পূর্ব-পশ্চিমে মুখ ফিরিয়ে ঘোষণা করেছিলেনঃ হে মানব সকল, তোমাদের পালনকর্তা নিজের গৃহ নির্মাণ করেছেন এবং তোমাদের ওপর এই গৃহের হজ্জ ফরজ করেছেন। তোমরা সবাই পালনকর্তার আদেশ পালন করো”। এই বর্ণনায় আরো উল্লেখ আছে যে ইব্রাহিম (আঃ)’র ঘোষণা প্রভুর পক্ষ থেকে বিশ্বের সবখানে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল।
.
হজ্জ প্রবর্তনে যে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়
তা হলো- আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে
মানুষ (সকল)! নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে
সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে,
পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিতি লাভ করতে পারো। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাবান যে অধিক মুত্তাকি। আল্লাহ সবকিছু জানেন
এবং সকল বিষয়ের খবরাখবর রাখেন। (সুরা
আল-হিজরাত) এ আয়াতের মর্মার্থ থেকেই হজ্জ প্রবর্তনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, বিশ্বের দূর-দূরান্ত থেকে মুসলমানগণ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একই বাবা-মায়ের সন্তানের মতো সর্বাধিক প্রিয়স্থানে (পবিত্র নগরী মক্কায়) একত্রিত হতে আগমন করবে। যেখানে সবার মাঝে পারস্পরিক মিলন ঘটবে, একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হবে। তারা পরস্পরকে কল্যাণকর ও তাকওয়ার কাজে সহযোগিতার সুযোগ লাভ করবে। তাদের সবার কথা, কাজ ও জিকির আজকার হবে এক ও অভিন্ন। যা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক।
.
হাদীস শরীফে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা হজ্জ এবং ওমরা পর্যায়ক্রমে করতে থাক। কারণ এদু’টি দারিদ্র্যতা দূর করে, পাপ মোচন করে। যেমনিভাবে কর্মকারের অগ্নিকুণ্ডু লোহা, সোনা ও রূপার মরিচা দূর করে দেয়। আর গৃহীত হজের একমাত্র প্রতিদান হলো জান্নাত। (তিরমিজি)
অপর হাদীসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি এ ঘরের হজ্জ করল আর সে নির্লজ্জ কোনো কথা-বার্তা ও
ফাসেকি কোনো কর্মে লিপ্ত হলো না, সে তার পাপ হতে ফিরে আসলো সেই দিনের ন্যায়; যে দিন তার মা তাকে জন্ম দিল। (বুখারি ও মুসলিম) তিনি আরো বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এক ওমরা হতে অপর ওমরা এ দুয়ের মাঝে কৃত পাপের কাফফারা। আর গৃহীত হজের একমাত প্রতিদান হলো জান্নাত।
অন্য এক বর্ণনা মতে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, কোন কাজটি অতি উত্তম? তিনি বললেন,
আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান
আনা। বলা হলো, তারপর কোনটি? তিনি
বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।
বলা হলো তারপর কোনটি? তিনি বললেন,
গৃহীত হজ। (বুখারি ও মুসলিম)
আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও রসূল (দ.)’র প্রিয় হওয়ার পাশাপাশি হজ্জ ব্যক্তিজীবনেও বিবিধ কল্যাণ সাধন করেন।  যেমন – বর্ণ বৈষম্য দূরীকরণ, সাম্যের বিকাশ সাধন, পারস্পরিক সম্প্রতি সৃষ্টি, পারস্পরিক কল্যাণ কামনা, শৃংখলবোধ জাগ্রতকরণ, বিশ্বভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি, বিশ্ব সম্মেলন, আন্তর্জাতিক ঐক্য সৃষ্টি, ভাবের আদান প্রদান, মৌলিক অধিকারের প্রতীক, দ্বীন কায়েমের দৃপ্ত শপথ গ্রহণে শক্তিশালী মাধ্যম, আল্লাহর খিলাফত প্রতিষ্ঠা, মতপার্থক্যের অবসান, ভৌগোলিক জ্ঞান অর্জন, সমকালীন বিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করাসহ মুসলিম বিশ্বের উন্নতি সাধনের এক মহাসুযোগ হলো পবিত্র হজ্জ।
ঐতিহাসিক অধ্যাপক লেনারের ভাষায় – The Whole of humanity assumes one aspect and attitude and thus the noblest sight of equality and brotherhood is witnessed in Hajj. There is in his city a force which transcludes, the littleness and divisions of mankind.
ইতিহাসবিদ মুহাম্মদ আলী বলেন- No other instruction in the world has the wonderful influence of the Hajj in levelling all distinctions of race, colour and rank.
পরিশেষে মালিকে খায়েনাতের দরবারে ফরিয়াদ, এ মুহূর্তে পবিত্র কাবা শরীফের চতুর্দিকে লাব্বায়িক আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক বলে বলে প্রদক্ষিণকারী এবং নবীকুল সম্রাট সৈয়দুল মুরছালিন রসূলে পাক (দ.)’র নূরাণী জালী ধরে যাঁরা দরুদ পাঠে ব্যস্ত সেসব ভাগ্যবানদের উসিলায় এই অশান্ত বিশ্বে শান্তি নাযিল হোক। তাঁদের দোয়ায় দিকে দিকে নির্যাতিত, লাঞ্চিত, বঞ্চিত মুসলমানরা বর্বরতা থেকে মুক্ত পেয়ে মুসলমানদের হারিয়ে যাওয়া অধিকার হস্তগত হোক। মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ব্যপারে বিশ্ব জাগ্রত হোক। রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে এক টেবিলে বসুক মুসলিম বিশ্বের নেতারা। হজ্জের মূল শিক্ষা ‘মুসলিম ঐক্যের প্রতীক’ এই শিক্ষাকে কর্মক্ষেত্রে যথাযত কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে কবির ভাষায় শেষ করছি …..
.
মুমিন পিতা ইব্রাহীম নবী
যেদিন হজ্জ্বের করেছিলেন আহবান,
ডাক শুনে যাঁরা হয়েছেন ভাগ্যবান
কিয়ামত তক তাঁরাই হবেন প্রভুর মেহমান।
.
কলেমা, নামাজ আর রোজা
দ্বীনের চতুর্থ স্তম্ভ হজ্জ্ব
সামর্থ্যবানের ওপর জীবনে ভাই
একবার কাবার জিয়ারত ফরজ।
.
লেখক ও কবি
এম সাইফুল ইসলাম নেজামী
শিক্ষার্থী – চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]
01626364062

আরও পড়ুনঃ   ত্যাগ ও কোরবানী: ঈমানের অপরিহার্য দাবী

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × 2 =