হজ সর্ববৃহৎ পবিত্রতম সমাবেশ

0
10
হজ ,পবিত্রতম সমাবেশ

জিলহজ মাস চান্দ্রমাসের দ্বাদশ মাস, আর হিজরি সালের শেষ মাস। এই মাস ইসলামের পাঁচটি রুকন বা স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম রুকন হজ পালনের মাস। এই মাসে পৃথিবীর বুকে সর্বপ্রথম তৈরী পবিত্র কাবাগৃহ তাওয়াফের এবং বিশ্বের সর্বকালের মহামানব মানবতার মুক্তির দূত নবী রাসূল, মানুষ, জিন ও ফেরেশতার মহান নেতা, দু’জাহানের সর্দার হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা সা:-এর পবিত্র রওজা শরিফ জিয়ারত করার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অধীর আগ্রহে আল্লাহ ও রাসূল প্রেমিক মানুষ আল্লাহর হুকুম পালন করার জন্য ছুটে আসেন। আল্লাহ তায়ালার পবিত্র কাবাঘর ও আল্লাহ প্রেমিক মানুষকে সাদরে গ্রহণ করে তাদের পাপ মুক্তির জন্য আল্লাহ তায়ালার দরবারে সুপারিশ করেন। পবিত্র কাবা এতই মর্যাদাপূর্ণ যে, আমাদের পেয়ারা নবী হজরত মুহাম্মদ সা: হিজরত করার পরও বারবার আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষায় থাকতেন, কখন কাবার দিকে ফিরে সিজদা করা যায়। ভুলতে পারেননি তিনি কাবার প্রেম। কারণ এই পবিত্র কাবা শরিফের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম আ: ও তাঁর স্নেহ মাখা আদরের ছেলে হজরত ইসমাইল আ:-এর স্মৃতি। এমনিভাবে সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে জড়িয়ে আছে মা হাজেরার স্মৃতি।

‘হজ’ আরবি শব্দ। অর্থ হলো ইচ্ছা বা সঙ্কল্প করা (To make decision), সাক্ষাৎ করা। আর ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কর্মের মাধ্যমে পবিত্র কাবা শরিফ তথা বাইতুল্লাহ জিয়ারতের সঙ্কল্প করার নামই হজ। সংক্ষেপে বলা যায়, মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শরিয়ত নির্ধারিত পন্থায় পবিত্র কাবা শরিফ জিয়ারত ও অন্যান্য কর্মসম্পাদন করাকে হজ বলে। ইসলামের ইবাদত বন্দেগিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। : ক. শারীরিক, খ. আর্থিক ও গ. শারীরিক ও আর্থিক। হজ হলো শারীরিক ও আর্থিক ব্যয়বহুল ইবাদত। হজের শরয়ী, সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। তাওহিদ তথা এক আল্লাহর দাসত্ব এবং বিশ্বভুবনে আল্লাহর বড়ত্ব শিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে হজের ভূমিকা অপরিসীম। এক আল্লাহতে বিশ্বাসী লোকগুলো বলতে থাকেÑ লাব্বাইক আল্লাহুমা লাব্বাইক লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক লা শারিকা লাকা, অর্থাৎ ‘আমি উপস্থিত, হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত, আমি উপস্থিত, তোমার কোনো অংশীদার নেই, আমি উপস্থিত, অবশ্যই সমস্ত প্রশংসা ও গুণকীর্তন তোমার জন্য, একমাত্র তোমার জন্যই রাজত্ব, তোমার কোনো অংশীদার নেই।’ উল্লিখিত শব্দগুলোকে পরিভাষায় তালবিয়া বলা হয়। প্রত্যেক হজ পালনকারী ইচ্ছুক ব্যক্তিকে ইহরাম বাঁধার পরেই তালবিয়া পাঠ করতে হয়। আলোচ্য শব্দগুলোতে তাওহিদ তথা একত্ববাদের ঘোষণা দেয়ার সাথে সাথে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের কথা বলা হয়েছে। সুতরাং, কোনো ব্যক্তি যদি সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক আল্লাহকে না মানে তাহলে তার হজ করে কোনো লাভ নেই। এমনিভাবে অসৎ উপায়ে উপার্জিত অর্থ দ্বারা ধনসম্পদের মালিক হয়ে হজ করা বা না করা উভয়ই সমান; বরং ওই অসৎ টাকা দ্বারা হজ করে সওয়াবের আশা করাও গুনাহের শামিল।

আরও পড়ুনঃ   সম্পাদকীয় : সৌভাগ্য আসলে কোথায়?

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, হজ একটি ব্যয়বহুল আর্থিক ও শারীরিক ইবাদত। সুতরাং নামাজ-রোজার মতো সব মুসলমানের ওপর হজ ফরজ নয়। শুধু প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন, মুসলিম, জ্ঞানসম্পন্ন, সুস্থ ও দৃষ্টিসম্পন্ন ওই সব মুসলিম নরনারীর ওপর, যারা নিজেদের প্রয়োজনীয় খরচ, হজের সফরে যাতায়াত ও ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবার-পরিজনের খরচ, অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী, সফরে প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থা করতে সামর্থ্যবান ও রাস্তা নিরাপদ হয় এবং স্ত্রীলোকের সাথে তার মাহরাম লোক থাকে তবে তাদের ওপর হজ পালন করা ফরজ।
হজের ফরজ বলতে হজের রোকন ও শর্তকে বলা হয়। ইমাম আবু হানিফা র:-এর মতে, হজের ফরজ তিনটি।

ক. ইহরাম বাঁধা : ইহরাম হলো হজ ও ওমরাহর নিয়তে হাজীগণ সেলাইবিহীন কাপড় পরিধানপূর্বক নির্দিষ্ট মিকাত অতিক্রম করা এবং তালবিয়া পাঠ করে কিছু কাজ থেকে বিরত থাকা।

খ. আরাফাতের ময়দানে অবস্থান: অর্থাৎ ৯ জিলহজের সূর্য ঢলে যাওয়ার পর থেকে ১০ জিলহজ সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত যেকোনো সময়ে কিছুক্ষণের জন্য আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা।

গ. তাওয়াফে জিয়ারত বা কাবাঘর প্রদক্ষিণ করা; অর্থাৎ জামরায়ে আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপের পর ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজের যেকোনো এক দিন মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে সাতবার পবিত্র কাবায় তাওয়াফ করা। ইমামে আজম আবু হানিফা র:-এর মতে, হজের ওয়াজিব কাজ পাঁচটি।

ক. সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ি করা, অর্থাৎ সাফা ও মারওয়া পাহাড় দ্বয়ের মাঝে সুনির্দিষ্ট নিয়মে সাতবার দৌড়ানো।

ঘ. মুজদালিফায় অবস্থান করা, অর্থাৎ মুজদালিফার ময়দানে সূর্যাস্তের পর রাতের শেষ প্রহরে এক মুহূর্ত হলেও অবস্থান করা।

ঙ. কঙ্কর নিক্ষেপ করা, অর্থাৎ মিনায় নির্দিষ্ট স্থানে ১০ জিলহজ তারিখে সাতটি এবং ১১ ও ১২ তারিখে ২১টি করে মোট ৪৯টি করে কঙ্কর নিক্ষেপ করা।

চ. তাওয়াফে সদর করা, আর্থাৎ হজের সব কাজ সমাপনান্তে মিকাতের বাইরের বিদেশী হাজীদের জন্য ১২ জিলহজ যেকোনো সময় তাওয়াফে সদর করা ওয়াজিব। উল্লেখ্য, মক্কার অধিবাসী ও হায়েজ নেফাসধারী মহিলাদের জন্য এটি ওয়াজিব নয়।

ছ. হলক করা অর্থাৎ কোরবানি করার পর ইহরাম ভঙ্গের উদ্দেশ্যে হাজীর মাথা মুণ্ডানো বা চুল কাটা ওয়াজিব।
মিকাত অতিক্রম করার আগেই ইহরাম বাঁধতে হয়। মিকাত মোট সাতটি। জুলহুলাইফা, যাতে ইরক, জুহফা, কারনুল মানাজিল, ইয়ালামলাম, হিল, হেরেম। উল্লেখ্য, ইয়ালামলামই আমাদেরÑ অর্থাৎ বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানি যারা হজ করতে ইচ্ছুক তাদের মিকাত। বর্তমানে বেশির ভাগ মানুষ বিমানযোগে হজে গমন করে বিধায় বিমানে আরোহণের আগেই ইহরাম বেঁধে নেন বা বিমানে আরোহণ করেই ইহরাম বাঁধেন। হজ পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তির ইহরাম বাঁধার পর নি¤œলিখিত কাজগুলো নিষিদ্ধ হয়ে যায়। যৌন সম্ভোগ, অশ্লীল কথাবার্তা বলা, পাপাচার ও ঝগড়াবিবাদে লিপ্ত হওয়া, কোনো প্রাণী হত্যা বা শিকার করা, শিকার করার জন্য অন্যকে উদ্বুদ্ধ করা, শিকারের সন্ধান দেয়া, সুগন্ধি ব্যবহার করা, নখ কাটা, মুখ ও মাথা ঢেকে রাখা, চুল বা দাড়ি ছাঁটা, শরীরের কোনো স্থান থেকে যেকোনো পশম উপড়ে ফেলা, সুগন্ধিযুক্ত কাপড় পরিধান করা, গোঁফ কাটা ইত্যাদি।

আরও পড়ুনঃ   কুরবানীর ইতিহাস, উদ্দেশ্য ও কতিপয় বিধান

মুহাদ্দিস ও ফকিহদের সর্বসম্মতিতে হজ তিন প্রকার। ১. হজে ইফরাদ, অর্থাৎ হজের মাসে মিকাত থেকে শুধু হজের জন্য ইহরাম বাঁধাকে হজে ইফরাদ বলা হয়। ২. হজে তামাত্তো, অর্থাৎ তামাত্তো হলো প্রথমে মিকাত থেকে শুধু ওমরাহর জন্য ইহরাম বাঁধা। পরে ওমরাহ পালন করে হালাল হয়ে যাওয়া। আবার ৮ জিলহজ তারিখে নিয়ত করে হজের কাজ সমাধা করা। ৩. হজে কেরান, অর্থাৎ কেরান হলো হজের মাসে মিকাত হতে একই সাথে নিয়ত করে একই ইহরামের মধ্যে হজ ও ওমরাহ পালন করা। উল্লিখিত তিন প্রকার হজের মধ্যে কোন প্রকারের হজ সর্বোত্তম এ ব্যাপারে ইমামদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে ইমামে আজম আবু হানিফা, ইসহাক ও সাওরি প্রমুখের মতে হজে কেরান সর্বোত্তম।

হজ ফরজ হওয়ার পর তা কি তৎক্ষণাৎ না বিলম্বে আদায় করবে এ নিয়ে ইমামদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। যেসব ইমাম তাৎক্ষণিক আদায় করা ফরজ মনে করেন তারা দলিল হিসেবে উপস্থাপন করেন যে, রাসূল সা: বলেছেন, ‘যে হজ আদায় করার সঙ্কল্প করে সে যেন তাড়াতাড়ি আদায় করে নেয়।’ এমনিভাবে তাদের আকলি দলিল হলো জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ মানুষ মরণশীল। তাই সামর্থ্যবান হওয়ার সাথে সাথেই হজ আদায় করা উচিত। নতুবা হঠাৎ মৃত্যু হলে হজ অনাদায়ের অপরাধে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। আর যারা বিলম্বে আদায় করার পক্ষে মতামত প্রদান করেন, তারা যুক্তি উপস্থাপন করেন নামাজ ফরজ ইবাদত হওয়া সত্ত্বেও শেষ ওয়াক্তে আদায় করা যায় এমনিভাবে নবম হিজরিতে হজের নির্দেশ পাওয়া সত্ত্বেও রাসূল সা: দশম হিজরি পর্যন্ত বিলম্ব করেছেন। এ থেকে প্রতিয়মান হয়, হজ যদি তাৎক্ষণিক ওয়াজিব হতো তাহলে রাসূল সা: হজ আদায়ে দশম হিজরি পর্যন্ত বিলম্ব করতেন না। এই মতবিরোধ নিরসন এভাবে করা যায় যে, হজ বিলম্ব করার কারণ যদি অনাদায়ী থেকে যায় তাহলে গুনাহগার হবে। সুতরাং হজ যেন ছুটে না যায় এমতাবস্থায় বিলম্ব করে হজ আদায় করা বৈধ। আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মুসলমানদের দেখা যায় চাকরি ও ব্যবসাবাণিজ্য থেকে অবসর নেয়ার পর হজে যাওয়ার প্রবণতা। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে হজে গমন করে অনেকের পক্ষেই হজের ফরজ ও ওয়াজিব যথাযথভাবে আদায় করা সম্ভব হয় না। সুতরাং হজ ফরজ হওয়ার সাথে সাথেই তরুণ বয়সেই হজ সম্পাদন করা উচিত। আমাদের দেশে যারা বিলম্বে হজ করেন তাদের অনেকে যুক্তি দেখান যে, ছেলেমেয়ের বিয়ে আর জাগতিক অনেক হাজত পূরণ হওয়ার পরই তারা হজ করবেন। আবার অনেকে মনে করেন হজ করার পর জাগতিক কোনো কাজ করা যায় না, তাই তারা বিলম্বে হজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন। এ ধরনের চিন্তাচেতনার সাথে ইসলামের কোনো যোগসূত্র নেই।

আরও পড়ুনঃ   রমজানের পর ভাল কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষার দশটি মাধ্যম

হজ একটি ফরজ ইবাদত। একজন ব্যক্তি একবার হজ আদায় করলেই তার ফরজ আদায় হয়ে যাবে। কোনো ব্যক্তি একবার হজ আদায় করার পর দ্বিতীয়বার হজ আদায় করলে তা নফল হিসেবে গণ্য হবে। সব ইবাদতই একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করা উচিত। আল্লাহর দরবারে ইবাদত সংখ্যা দিয়ে বিচার্য হবে না; বরং ব্যক্তির মনের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরিমাপ করা হবে। সুতরাং একই ইবাদত করে স্থান, কাল ও মনের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সওয়াবের পরিমাণও বিভিন্ন হবে। ইবাদতের লোড কতটুকু হবে, তা সম্পূর্ণ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। হজ করে আসার পর নিজের নামের পেছনে আলহাজ বা হাজী উপাধি ধারণ করার প্রবণতা নিতান্তই হাস্যকর ব্যাপার। অনেক সময় দেখা যায় হজ করার পর তাকে হাজী বা আলহাজ না বললে খুব ক্রোধান্বিত হন। এ ধরনের ব্যক্তিদের হজ কতটুকু কবুল হবে তা আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। আবার সরকারি খরচে অনেকে হজ করতে যান। ব্যাপারটা খুবই হাস্যকর। কারণ হজ তো শুধু যিনি মালেকে নেছাব বা সম্পদের মালিক তার ওপরই ফরজ। এমন অবস্থায় সরকার যাকে খুশি হজে পাঠাবেন, আর রাষ্ট্রীয় টাকার অপচয় করবেন, তা কখনো যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না। অনেক সময় দেখা যায়, যারা সরকারি খরচে হজ করেন তাদের বেশির ভাগই সরকারি উচ্চপর্যায়ের আমলা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে থাকেন, যারা নিজেরাই সামর্থ্যবান। এই ধরনের লোকদের সরকারি খরচে তথা জনগণের টাকা দিয়ে হজ করা লজ্জাকর বিষয়। প্রতিটি মুমিন মুসলমানের মনে সর্বদা এই সঙ্কল্প থাকেÑ হজ সম্পাদন তথা পবিত্র কাবা শরিফ জিয়ারত করা এবং রাসূলের রওজার পাশে দাঁড়িয়ে সালাম দেয়া। হজ ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে অনেকের পক্ষেই তা সম্ভব হয়ে উঠছে না। সুতরাং, হজে যাতায়াতের ব্যয়ভার কিভাবে কমানো যায় তার ব্যবস্থা করা একান্ত প্রয়োজন, যাতে মধ্যবিত্ত আয়ের লোকেরা জীবনে একবার হলেও হজ করতে পারেন এবং আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর রওজা জিয়ারত করতে পারেন।
লেখক : ভাইস প্রিন্সিপ্যাল, মাতুয়াইল ইসলামী মাদরাসা

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

fourteen − 4 =