হযরত মঈনুদ্দীন চিশতী (রহ.)-এর উপদেশাবলী

0
66
হযরত মঈনুদ্দীন চিশতী (রহ.)

০ প্রেমিকের অন্তর প্রেমের আগুনে দগ্ধ হয়ে থাকে, তার মধ্যে অন্য যা কিছু পতিত হয় প্রেমাগ্নি তাও বিদগ্ধ করে দেয়।

০ যার মধ্যে নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকে। সে ব্যক্তি আল্লাহতায়ালার প্রকৃত বন্ধু বলে বিবেচিত হয়। যেমন (ক) সমুদ্রের মত বদান্যতা, (খ) সূর্যের মত দয়া (গ) মাটির মত বিনম্রতা।

০ নদীর স্রোত গতিবেগ প্রবাহিত হওয়ার সময় ক্ষণে ক্ষণে বিভিন্ন প্রকার শব্দ হয়। কিন্তু যখন তা সমুদ্রে পতিত হয় তখন সেই শব্দ নীরব হয়ে যায়।

০ সত্কার্য অপেক্ষা সত্ব্যক্তিদের সাহচর্য ও সান্নিধ্য অধিক উত্তম এবং অসত্কার্য অপেক্ষা অসত্ লোকদের সাহচর্য ও সান্নিধ্য অধিক গর্হিত।

০ মানুষ ফকীরী ও দরবেশীর যোগ্য তখনই হয় যখন তার এই অস্থায়ী জগতের কোন কিছু অবশিষ্ট না থাকে।

০ আরেফ সেই ব্যক্তি যিনি যখন যা কামনা করেন তখনই তা তার সম্মুখে উপস্থিত হয় এবং যখনই যা কিছু বলেন, তখনই তার উত্তর শুনতে পান।

০ তোমরা পাপকার্য করে এতবেশী পাপের অধিকারী হইও না, যে পরিমাণ পাপ কোন মুসলমানকে অপদস্থ ও অপমানিত করে ছাড়ে।

০ অসত্ব্যক্তির পরিচয় এই যে, সে যে পাপ করে এবং তাকে সে পাপ বলেই মনে করে না।

০ আরেফের লক্ষণ হল, নীরব থাকা।

০ আহলে মারেফাত অর্থাত্ আধ্যাত্মিক পন্থীদের উপাসনা হল প্রতি শ্বাস-প্রশ্বাসে জিকির করা।

০ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে চিনতে সক্ষম হওয়ার চিহ্ন হল জনসাধারণ হতে পৃথক থাকা এবং মানুষের সাথে কম কথা বলা।

০ যে ব্যক্তি যা কিছু প্রাপ্ত হয়েছে সে দানশীলতার দ্বারাই তা প্রাপ্ত হয়েছে।

০ প্রকৃত দরবেশ সেই ব্যক্তি যখন কেউ কোন উদ্দেশ্যে তার নিকট আসে, সে তার নিকট হতে বিরস বদনে বা বিষণ্ন মনে প্রত্যাবর্তন করে না।

০ আরেফের চিহ্ন এই যে, সে মৃত্যুকে পছন্দ করে এবং আরাম-আয়েশ পরিত্যাগ করে। আর আল্লাহতায়ালার জিকির করতে অত্যন্ত ভালবাসে।

আরও পড়ুনঃ   আল্লাহর উপর ভরসা

০ আল্লাহর আরেফ বান্দাগণ অত্যুজ্জ্বল সূর্যের মত। তাদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি সমগ্র বিশ্বে পরিব্যাপ্ত এবং তাদের জ্যোতি দ্বারা বিশ্বজগত্ জ্ঞানের আলো প্রাপ্ত।

০ সময়ের মধ্যে সেই সময়টুকুই অধিক উত্তম যখন কারও হূদয় চিন্তা এবং সন্দেহ হতে বিমুক্ত থাকে।

০ কোন ব্যক্তিই নামায ব্যতীত আল্লাহতায়ালার নৈকট্য হাছিলে সক্ষম হয় না। কেননা নামায মেরাজস্বরূপ।

০ স্মরণ রাখবে নফসের জন্য নিম্নলিখিত চারটি গুণ অপরিহার্য; যথাঃ

(ক) চরম দরিদ্রতার মধ্যে স্বচ্ছলতার ভাব প্রকাশ করা।

(খ) পরম ক্ষুধার্ত অবস্থায়ও পরিপূর্ণ পরিতৃপ্তির লক্ষণ প্রদর্শন করা।

(গ) অধিক শোক-দুঃখ ও বিষাদের মধ্যেও আনন্দ প্রকাশ করা এবং

(ঘ) শত্রুর সাথে বন্ধুত্বের ভাব রক্ষা করা।

০ যে ব্যক্তি প্রয়োজনীয় পবিত্রতা ও আন্তরিকতার সাথে শরীয়তের আদেশ-নিষেধসমূহ পালন করে, সে তরীকতে পদার্পণ করতে সক্ষম হয় এবং ক্রমশ সাধনার দ্বারা মারেফাতের উচ্চ শিখরে আরোহন করতে সমর্থ হয়।

০ যে ব্যক্তি শয়নকালে অজু করে নেয়, নিদ্রার মধ্যে তার আত্মা আরশে মুআল্লার নিকট পর্যন্ত গমন করে এবং সে পাপমুক্ত হয়ে থাকে।

০ নামায বান্দাদের নিকট আল্লাহতায়ালার তরফ হতে আমানত বা গচ্ছিত ধনসদৃশ। সুতরাং পূর্ণ যোগ্যতার সাথে ও পরিপূর্ণভাবে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও হেফাজাত করা প্রত্যেক মুমিনের একান্ত কর্তব্য।

০ আল্লাহর আরেফ ফজরের নামায শেষ করবার পর এশরাক পর্যন্ত জায়নামাযেই বসে থাকে এবং ফেরেশতাগণ তার জন্য দোয়া ও মাগফেরাত কামনা করতে থাকে।

০ যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করে তার সংসার বিনষ্ট হয় এবং তার বরকত হরাসপ্রাপ্ত হয়ে যায়।

০ পার্থিব সংসারের সর্বপ্রকার অভাব-অভিযোগ নিরসনের জন্য অধিক সূরা ফাতিহা পাঠ করা উচিত।

০ সে-ই নির্ভরশীল ব্যক্তি, যে সুখে-দুঃখে কারও নিকট অভিযোগ করে না।

০ যে ব্যক্তি প্রকৃত প্রেমিক দুঃখ-দৈন্যে কখনও সে বিচলিত হয় না।

০ আল্লাহতায়ালা যাকে অধিক ভালবাসেন তারই প্রতি দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অভিযোগ বর্ষিত হয়ে থাকে।

আরও পড়ুনঃ   আপন জন মারা গেলে বিলাপ নয়

০ কবরস্থানে কোন কিছু পানাহার করা ও হাসি-তামাসা করা সর্বোতভাবে নিষিদ্ধ। কেননা তা উপদেশ গ্রহণ করবার স্থান। যারা ঐরূপ কাজ করে তারা প্রকৃতই অভিশপ্ত।

আবদুল আলিম আল আসাদ

Comments

comments